বাংলা অনুজ্ঞা ও বাচ্য পরিবর্তন
'অনুজ্ঞা' কোন কালে ব্যবহৃত হয়?
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, 'অনুজ্ঞা' মূলত বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ—এই দুই কালে ব্যবহৃত হয়।
কোনটি অনুজ্ঞা?
বাক্যের অনুজ্ঞা পদগুলো হচ্ছে-
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, বাক্যে অনুজ্ঞা মূলত ক্রিয়াপদের রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যখন কোনো ক্রিয়াপদের মাধ্যমে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা বা আশীর্বাদ প্রকাশ করা হয়, তখন সেই ক্রিয়াপদকে অনুজ্ঞা পদ বলা হয়।
বাংলা ব্যাকরণ এ অনুজ্ঞা কয় প্রকার?
অনুজ্ঞা কোন পুরুষে হয়?
অনুজ্ঞা অর্থ কী?
স্বয়ং বক্তা কোন পুরুষ?
'আর ভয় করো না।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
কোনটি অনুজ্ঞার দৃষ্টান্ত?
কাল একবার এসো । বাক্যে যে অর্থ বোঝায়?
সাধারণ মধ্যম পুরুষের বর্তমান কালের অনুজ্ঞার চলিত রীতির বিভক্তি কোনটি?
'খোদা আপনার মঙ্গল করুন ।' কি অর্থে অনুজ্ঞার ব্যবহার করা হয়েছে?
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে যখন ক্রিয়াপদের মাধ্যমে কোনো ইচ্ছা বা মঙ্গল কামনা প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে প্রার্থনাসূচক অনুজ্ঞা বলা হয়। এখানে 'করুন' ক্রিয়াপদটি বর্তমান কালের অনুজ্ঞা হিসেবে স্রষ্টার কাছে একটি শুভকামনা বা আবেদন বোঝাচ্ছে।
নাম পুরুষের অনুজ্ঞাপদ হতে পারে না -কারণ?
কোনটি বর্তমানকালের অনুজ্ঞার উদাহরণ?
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কোন পুরুষ?
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ যাকে সরাসরি সম্বোধন করে কিছু বলা হয়, তিনি হলেন মধ্যম পুরুষ।
বাচ্য কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার।
'বাচ্য' ব্যাকরণ এর কোন অংশে আলোচিত হয়?
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় মূলত চারটি: ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব এবং অর্থতত্ত্ব। 'বাচ্য' (Voice) মূলত বাক্যের প্রকাশভঙ্গি বা রীতির পরিবর্তনকে বোঝায়। যেহেতু বাচ্য পরিবর্তনের ফলে বাক্যের গঠনশৈলী এবং ক্রিয়ার সাথে কর্তার বা কর্মের সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটে, তাই এটি বাক্যতত্ত্বের (Syntax) অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়। বাক্যতত্ত্বে বাক্যের সঠিক গঠন, পদসংস্থাপনের ক্রম, বাচ্য, উক্তি এবং যতিচিহ্নের ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অন্যদিকে, ধ্বনিতত্ত্বে ধ্বনি ও বর্ণ, রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বে শব্দের গঠন ও উপসর্গ-অনুসর্গ এবং অর্থতত্ত্বে শব্দের অর্থের বিভিন্ন স্তর (যেমন: মুখ্যার্থ, গৌণার্থ) নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুতরাং, বাচ্য রূপতত্ত্ব বা ধ্বনিতত্ত্বের বিষয় নয়, এটি সরাসরি বাক্যের গঠন ও প্রকাশভঙ্গির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় বাক্যতত্ত্বেরই আলোচ্য বিষয়।
কোন বাচ্য কর্তার উল্লেখ থাকে না?
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাব বাচ্য (Impersonal Voice) বলা হয়। এই বাচ্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে অনেক সময় কর্তার উল্লেখ থাকে না অথবা কর্তা পরোক্ষভাবে অবস্থান করে। ভাব বাচ্যে ক্রিয়ার রূপটিই প্রধান হয়ে ওঠে এবং এটি সর্বদা নাম পুরুষের (Third Person) ক্রিয়ার রূপ গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ: 'কোথায় থাকা হয়?' বা 'এ পথে চলা যায় না'—এই বাক্যগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো কর্তার উপস্থিতি ছাড়াই ক্রিয়ার ভাবটি প্রকাশ পাচ্ছে। অন্যদিকে, কর্তৃবাচ্যে কর্তা প্রধান এবং সক্রিয় থাকে। কর্ম বাচ্যে কর্মের প্রাধান্য থাকে এবং কর্তার সাথে 'দ্বারা/দিয়ে/কর্তৃক' অনুসর্গ যুক্ত থাকে। আর কর্ম-কর্তৃবাচ্যে কর্মপদটিই কর্তার মতো কাজ করে (যেমন: বাঁশি বাজে)। যেহেতু ভাব বাচ্যে ক্রিয়ার অর্থই মুখ্য এবং কর্তার উপস্থিতি অপরিহার্য নয়, তাই ব্যাকরণগতভাবে এটিই সঠিক উত্তর।
ভাববাচ্যর উদাহরণ?
'তুমি কবে আসবে ? 'বাক্যটিতে ভাববাচ্য রূপান্তর করলে দাঁড়াবে?
'বাঁশি বাজে।' কোন বাক্য?
'যা কিছু হারাই গিন্নি বলেন , কেষ্টা বেটাই চোর । 'এখানে 'হারায়' কোন ধাতু?
'আমার বই পড়া হয়েছে' বাক্যটির কর্তৃবাচ্য রূপ হচ্ছে-
ভাব বাচ্য যুক্ত হয়?
সে আসুক- এটি?
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং ক্রিয়ার অর্থই প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয়, তাকে ভাববাচ্য বলা হয়। 'সে আসুক' বাক্যটিতে কর্তার (সে) চেয়ে 'আসা' ক্রিয়াটির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ভাববাচ্যের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়ে থাকে। এখানে 'সে আসুক' বাক্যটি একটি অনুরোধ বা আদেশমূলক প্রকাশভঙ্গি, যেখানে কর্তার সক্রিয়তার চেয়ে ক্রিয়ার ভাবটিই মুখ্য। যদি এটি কর্তৃবাচ্য হতো, তবে বাক্যটি সাধারণত 'সে আসে' বা 'সে আসছে' জাতীয় হতো যেখানে কর্তার প্রাধান্য স্পষ্ট থাকত। কিন্তু 'আসুক' বা 'আসা হোক' জাতীয় গঠনগুলো ভাববাচ্যেরই লক্ষণ। এছাড়া ভাববাচ্যে অনেক সময় কর্তায় ষষ্ঠী (র/এর) বা দ্বিতীয় (কে/রে) বিভক্তি যুক্ত হয়, তবে সব সময় তা বাধ্যতামূলক নয়। বাক্যের অর্থগত গুরুত্ব ক্রিয়ার দিকে থাকায় এটি নিশ্চিতভাবে ভাববাচ্য।