1. সর্বপ্রথম বঙ্গ নামের উল্লেখ পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
ক)
ঐতরেয় আরণ্যক
খ)
রঘু বংশ কাব্য
গ)
উপনিষদ
ঘ)
ত্রিপিটক
উত্তর:
ঐতরেয় আরণ্যক
ব্যাখ্যা:
সর্বপ্রথম বঙ্গ নামের উল্লেখ পাওয়া যায় ঋগ্বেদের ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে।
2. বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন শতাব্দীতে?
ক)
দশম শতাব্দী
খ)
নবম শতাব্দী
গ)
অষ্টম শতাব্দী
ঘ)
সপ্তম শতাব্দী
উত্তর:
সপ্তম শতাব্দী
ব্যাখ্যা:
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে: খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে (৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ) গৌড়ীয় প্রাকৃত বা অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।
3. বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি?
ক)
সংস্কৃত
খ)
পালি
গ)
প্রাকৃত
ঘ)
অপভ্রংশ
উত্তর:
প্রাকৃত
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষার মূল উৎস হচ্ছে প্রাকৃত ভাষা। প্রাকৃত ভাষা বলতে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে লোকমুখে প্রচলিত স্বাভাবিক ভাষাগুলোকে বোঝায়। প্রাকৃত ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয় পরিবারের ইন্দো আর্য শাখার প্রাচীন নিদর্শন।
4. নিচের কোনটি সহোদর ভাষাগোষ্ঠী?
ক)
বাংলা ও উর্দু
খ)
বাংলা ও হিন্দি
গ)
বাংলা ও অসমিয়া
ঘ)
বাংলা ও সংস্কৃত
উত্তর:
বাংলা ও অসমিয়া
ব্যাখ্যা:
সহোদর ভাষাগোষ্ঠীর উদাহরণ হলো অসমীয়া ও ওড়িয়া ভাষা, যা বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় এবং এরা সবাই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত, যেখানে হিন্দি, পঞ্জাবি, উর্দু, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান-এর মতো ভাষাগুলোও একই পরিবারের সদস্য, কিন্তু ঘনিষ্ঠতার দিক থেকে অসমীয়া ও ওড়িয়া হলো বাংলা ভাষার সবচেয়ে কাছাকাছি সহোদর বা বোন ভাষা।
5. কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে?
ক)
ভারতীয় আর্য
খ)
সংস্কৃত
গ)
ইন্দো-ইয়োরোপীয়
ঘ)
বঙ্গ-কামরূপী
উত্তর:
বঙ্গ-কামরূপী
ব্যাখ্যা:
বঙ্গকামরুপী ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
6. অপভ্রংশ কথাটির অর্থ-
ক)
উন্নত
খ)
বিবৃত
গ)
সাধারণ
ঘ)
বিকৃত
উত্তর:
বিকৃত
ব্যাখ্যা:
অপভ্রংশ শব্দের অর্থ হলো মূল শব্দ বা ভাষার বিকৃতি, অশুদ্ধ রূপ, বা পরিবর্তিত রূপ।
7. বেদ এর ভাষাকে কী বলা হয়?
ক)
দেশি ভাষা
খ)
বৈদিক ভাষা
গ)
অনার্য ভাষা
ঘ)
সংস্কৃত ভাষা
উত্তর:
বৈদিক ভাষা
ব্যাখ্যা:
বেদের ভাষাকে বৈদিক সংস্কৃত বলা হয়, যা সংস্কৃত ভাষার একটি প্রাচীন রূপ।
8. প্রাকৃত শব্দের অর্থ -
ক)
প্রকৃত
খ)
যথার্থ
গ)
যা করা হয়েছে
ঘ)
স্বাভাবিক
উত্তর:
স্বাভাবিক
ব্যাখ্যা:
প্রাকৃত' শব্দের অর্থ প্রাকৃতিক, স্বাভাবিক, সাধারণ বা লৌকিক।
9. বাংলার আদিম অধিবাসীগণ কোন ভাষাভাষী ছিল?
ক)
সংস্কৃত
খ)
বাংলা
গ)
অস্ট্রিক
ঘ)
হিন্দি
উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা:
বাংলার আদি জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিল মূলত অস্ট্রিক (Austric).
10. ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষায় শাখা কতটি?
ক)
একটি
খ)
দুটি
গ)
তিনটি
ঘ)
চারটি
উত্তর:
দুটি
ব্যাখ্যা:
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শাখা ২টি এগুলো হলো কেন্তম ও শতম।
11. ইন্দো-ইয়োরোপীয় মূল ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত ভাষা কোনটি?
ক)
বাংলা
খ)
ইংরেজি
গ)
ফরাসি
ঘ)
উর্দু
উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা:
বাংলা ইন্দো - ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। ইন্দো - ইউরোপীয় ভাষাসমূহ পৃথিবীর আদি ভাষা পরিবারের একটি। এই ভাষা পরিবারের অন্তর্গত ভাষা ও উপভাষাসমূহ বিশ্বের ৬টি মহাদেশে পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ইন্দো - ইউরোপীয় ভাষা ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিবর্তন হয়। হিন্দি,বাংলা, ইংরেজি, লাতিন, ফার্সি ও রুশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক অনেক ভাষা এই পরিবারের অন্তর্গত।
12. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে কার কাছে প্রত্যক্ষভাবে ঋণী?
ক)
পালি
খ)
অপভ্রংশ
গ)
অবহট্ট
ঘ)
সংস্কৃত
উত্তর:
অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অপভ্রংশ কাছে প্রত্যক্ষভাবে ঋণী। প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের একটি অংশ ছিল তখন মধ্য ইন্দো - আর্য উপভাষাগুলি বাংলায় প্রভাবশালী ছিল। এই উপভাষাগুলিকে মাগধী প্রাকৃত বলা হয় এবং এটি আধুনিক বিহার, বাংলা ও আসামে কথিত হত। এই ভাষা থেকে অবশেষে অর্ধ - মাগধী প্রাকৃতের বিকাশ ঘটে। প্রথম সহস্রাব্দের শেষের দিকে অর্ধ - মাগধী থেকে অপভ্রংশের বিকাশ ঘটে। সময়ের সাথে সাথে বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিকশিত হয়।
13. অস্ট্রিক-দ্রাবিড় জাতির সাথে কোন জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে?
ক)
হিন্দু জাতি
খ)
মুসলমান জাতি
গ)
মঙ্গোলীয় জাতি
ঘ)
আর্য জাতি
উত্তর:
আর্য জাতি
14. ভারতীয় আর্যভাষার নিদর্শন যে গ্রন্থে পাওয়া যায় তার নাম-
ক)
রামায়ণ
খ)
মহাভারত
গ)
ঋগ্বেদ
ঘ)
চর্যাপদ
উত্তর:
ঋগ্বেদ
15. ড. শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন প্রাকৃত স্তর থেকে?
ক)
মাগধী প্রাকৃত
খ)
গৌড়ী প্রাকৃত
গ)
মহারাষ্ট্রী প্রাকৃত
ঘ)
অর্ধ-মাগধী প্রাকৃত
উত্তর:
গৌড়ী প্রাকৃত
16. বাংলা লিপির উৎস কী?
ক)
খরোষ্ঠী লিপি
খ)
চীনা লিপি
গ)
আরবি লিপি
ঘ)
ব্রাহ্মী লিপি
উত্তর:
ব্রাহ্মী লিপি
17. কোন লিপি ডানদিক থেকে লেখা হয়?
ক)
ব্রাহ্মী লিপি
খ)
খরোষ্ঠী লিপি
গ)
আরবি লিপি
ঘ)
উদ্ধালিপি
উত্তর:
খরোষ্ঠী লিপি
18. বাংলা মুদ্রাক্ষরের জনক বলা হয় কাকে?
ক)
গৌর দাস
খ)
পঞ্চানন কর্মকার
গ)
গঙ্গাকিশোর ভাট্টাচার্য
ঘ)
চার্লস উইলকিন্স
উত্তর:
চার্লস উইলকিন্স
19. বাংলা লিপি স্থায়ী রূপ লাভ করে কখন?
ক)
পাল আমলে
খ)
সেন আমলে
গ)
পাঠান আমলে
ঘ)
মুঘল আমলে
উত্তর:
পাঠান আমলে
ব্যাখ্যা:
বাংলা লিপি পাঠান আমলে (১৪-১৫ শতকে) একটি মোটামুটি স্থায়ী রূপ লাভ করে, তবে এর গঠন প্রক্রিয়া সেন আমলে শুরু হয়েছিল, এবং ছাপাখানার প্রভাবে (বিশেষত শ্রীরামপুর মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠার পর) ১৮০০ সালের দিকে এটি আধুনিক ও সুসংহত রূপ পায়, যা বর্তমানে প্রচলিত।
20. উপমহাদেশে প্রথম ছাপাখানা কোন সালে স্থাপিত হয়?
ক)
১২৯৮ সালে
খ)
১৩৯৮ সালে
গ)
১৪৯৮ সালে
ঘ)
১৫৯৮ সালে
উত্তর:
১৪৯৮ সালে
ব্যাখ্যা:
উপমহাদেশের প্রথম ছাপাখানা ১৪৯৮ সালে স্থাপিত হয়েছিল।
21. বাংলাদেশের প্রথম কোথায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক)
ঢাকায়
খ)
রাজশাহীতে
গ)
রংপুরে
ঘ)
খুলনায়
উত্তর:
রংপুরে
ব্যাখ্যা:
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রংপুরে, যা 'বার্তাবহ যন্ত্র' নামে পরিচিত ছিল এবং ১৮৪৮-৪৯ সালে এটি স্থাপিত হয় ও এখান থেকে 'রংপুর বার্তাবহ' পত্রিকা প্রকাশিত হত; তবে ঢাকায় প্রথম ছাপাখানা ১৮৬০ সালে 'বাংলা প্রেস' (বা 'ঢাক া বাঙ্গালা যন্ত্র') নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
22. বাংলা সাহিত্যের যুগকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
ক)
৪টি
খ)
৩টি
গ)
৫টি
ঘ)
৬টি
উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাস প্রধানত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত: আদিযুগ বা প্রাচীন যুগ (আনুমানিক ৬৫০ খ্রি. মতান্তরে ৯৫০ খ্রি.–১২০০ খ্রি.) মধ্যযুগ (১২০১ খ্রি.–১৮০০ খ্রি.) আধুনিক যুগ (১৮০১ খ্রি.–বর্তমান কাল)
23. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ-
ক)
৪৫০-৬৫০
খ)
৬৫০-৮৫০
গ)
৬৫০-১২০০
ঘ)
৬৫০-১২৫০
উত্তর:
৬৫০-১২০০
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ সাধারণত ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ধরা হয়, যার প্রধান ও একমাত্র নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এই যুগে মূলত বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধনসঙ্গীত এবং কিছু লৌকিক রচনা (যেমন ডাক ও খনার বচন) পাওয়া যায়, যা বাংলা ভাষার আদি রূপকে তুলে ধরে।
24. ভারতীয় চিত্রলিপির দুটি প্রাচীন রূপ হল-
ক)
ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী
খ)
ব্রাহ্মী ও দেবনাগরী
গ)
ব্রাহ্মী ও কুটীল
ঘ)
ব্রাহ্মী ও তিব্বতি
উত্তর:
ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী
ব্যাখ্যা:
প্রাচীন ভারতীয় লিপির দুটি প্রধান রূপ হলো ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী, যা থেকে পরবর্তীকালে অন্যান্য লিপির উদ্ভব হয়েছে।
25. বাংলা ভাষার মধ্যযুগ-
ক)
৯৫০-১২০০
খ)
১২০১-১৩৫০
গ)
১২০১-১৮০০
ঘ)
১৩৫০-১৮০০
উত্তর:
১২০১-১৮০০