1. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের নাম কী?
ক)
চর্যাপদ
খ)
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
গ)
পদ্মাবতী
ঘ)
মঙ্গলকাব্য
উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষার আদি স্তর বা প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য সাহিত্যিক নিদর্শন।
2. চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
ক)
১৯০৫ সালে
খ)
১৯০৬ সালে
গ)
১৯০৭ সালে
ঘ)
১৯১৬ সালে
উত্তর:
১৯০৭ সালে
ব্যাখ্যা:
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
3. চর্যাপদ কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
ক)
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ
খ)
তিব্বতের মঠ
গ)
নেপালের রাজদরবার
ঘ)
ভুটানের রাজপ্রাসাদ
উত্তর:
নেপালের রাজদরবার
ব্যাখ্যা:
নেপালের 'রয়্যাল লাইব্রেরি' বা রাজদরবারের পুথিশালা থেকে চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়।
4. চর্যাপদ মূলত কী?
ক)
রাজা-রানীর কাহিনী
খ)
বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সংগীত
গ)
হিন্দুদের ভজন গান
ঘ)
মুসলিম সুফি গান
উত্তর:
বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সংগীত
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদগুলো বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের ধর্মচর্চা ও আধ্যাত্মিক সাধনার গীতি বা পদ।
5. চর্যাপদের আদি কবি কে?
ক)
কাহ্নপা
খ)
লুইপা
গ)
ভুসুকুপা
ঘ)
শবরপা
উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের প্রথম পদটি লুইপা রচনা করেছেন বলে তাকে আদি কবি ধরা হয়।
6. চর্যাপদে মোট কতটি পদ উদ্ধার করা হয়েছে?
ক)
৫০টি
খ)
৫১টি
গ)
সাড়ে ৪৬টি
ঘ)
৪৮টি
উত্তর:
সাড়ে ৪৬টি
ব্যাখ্যা:
পুঁথিতে মোট ৫১টি পদের উল্লেখ থাকলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ৪৬টি পূর্ণ পদ এবং একটি খণ্ডিত পদ।
7. চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা কে?
ক)
লুইপা
খ)
কাহ্নপা
গ)
সরহপা
ঘ)
কুক্কুরীপা
উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা:
কাহ্নপা একাই চর্যাপদে ১৩টি পদ রচনা করেছেন, যা অন্য সব কবির চেয়ে বেশি।
8. চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
ক)
অক্ষরবৃত্ত
খ)
পয়ার
গ)
মাত্রাবৃত্ত
ঘ)
অমিত্রাক্ষর
উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের পদগুলো মূলত প্রাচীন মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
9. ‘সান্ধ্য ভাষা’ কোন সাহিত্যের সাথে যুক্ত?
ক)
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
খ)
চর্যাপদ
গ)
লোকগাথা
ঘ)
নাথ সাহিত্য
উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের ভাষার কিছু অংশ বোঝা যায় আর কিছু অংশ রহস্যময় বলে একে সান্ধ্য ভাষা বলা হয়।
10. চর্যাপদ যে বাংলা ভাষায় রচিত—তা প্রথম কে প্রমাণ করেন?
ক)
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
খ)
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
গ)
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ঘ)
সুকুমার সেন
উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা:
১৯২৬ সালে ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
11. চর্যাপদ কোন যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন?
ক)
প্রাচীন যুগ
খ)
মধ্যযুগ
গ)
অন্ধকার যুগ
ঘ)
আধুনিক যুগ
উত্তর:
প্রাচীন যুগ
ব্যাখ্যা:
৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে প্রাচীন যুগ ধরা হয় এবং চর্যাপদ এই সময়ের সৃষ্টি।
12. চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ কে আবিষ্কার করেন?
ক)
রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
খ)
প্রবোধচন্দ্র বাগচী
গ)
দীনেশচন্দ্র সেন
ঘ)
ড. আনিসুজ্জামান
উত্তর:
প্রবোধচন্দ্র বাগচী
ব্যাখ্যা:
ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করে এর অনেক পদের অর্থ স্পষ্ট করেন।
13. নিজেকে ‘বাঙালি’ বলে পরিচয় দিয়েছেন কোন কবি?
ক)
কাহ্নপা
খ)
লুইপা
গ)
ভুসুকুপা
ঘ)
সরহপা
উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা:
ভুসুকুপা তার একটি পদে লিখেছেন, "আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী।"
14. চর্যাপদে কোন কবির কোনো পদ পাওয়া যায়নি?
ক)
লাড়ীডোম্বীপা
খ)
কুক্কুরীপা
গ)
চাটিলপা
ঘ)
তাড়কপা
উত্তর:
লাড়ীডোম্বীপা
ব্যাখ্যা:
লাড়ীডোম্বীপা চর্যাপদের একজন কবি হলেও তার কোনো পদ আবিষ্কৃত পুঁথিতে পাওয়া যায়নি।
15. চর্যাপদের আধুনিকতম কবি কাকে বলা হয়?
ক)
লুইপা
খ)
সরহপা
গ)
শবরপা
ঘ)
কাহ্নপা
উত্তর:
শবরপা
ব্যাখ্যা:
সময়ক্রম অনুযায়ী শবরপা ছিলেন চর্যাপদ যুগের শেষের দিকের বা তুলনামূলক আধুনিক কবি।
16. চর্যাপদ কত সালে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়?
ক)
১৯০৭ সালে
খ)
১৯১৬ সালে
গ)
১৯২৬ সালে
ঘ)
১৯৩৬ সালে
উত্তর:
১৯১৬ সালে
ব্যাখ্যা:
১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে প্রকাশিত হয়।
17. ‘কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল’—চরণটি কার রচিত?
ক)
কাহ্নপা
খ)
শবরপা
গ)
লুইপা
ঘ)
চাটিলপা
উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা:
এটি চর্যাপদের প্রথম পদের প্রথম লাইন, যা লুইপা রচনা করেছেন।
18. প্রশ্ন: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের রচনাকাল কত?
ক)
৯৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
খ)
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
গ)
৭০০-১১০০ খ্রিষ্টাব্দ
ঘ)
১২০০-১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর:
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা:
ব্যাখ্যা: ড. শহীদুল্লাহ ভাষাতাত্ত্বিক বিচারে চর্যাপদকে আরও প্রাচীন বলে মনে করেন।
19. চর্যাপদে কোন সমাজের চিত্র বেশি ফুটে উঠেছে?
ক)
রাজপরিবারের বিলাসী জীবন
খ)
সাধারণ অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষের জীবন
গ)
ব্যবসায়ীদের জীবন
ঘ)
মোগল আমলের জীবন
উত্তর:
সাধারণ অন্ত্যজ শ্রেণীর মানুষের জীবন
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদে তৎকালীন ডোম, চণ্ডাল ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অভাব-অভিযোগের চিত্র পাওয়া যায়।
20. চর্যাপদের টীকাকার কে ছিলেন?
ক)
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
খ)
মুনিদত্ত
গ)
ড. সুনীতিকুমার
ঘ)
ভুসুকুপা
উত্তর:
মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা:
মুনিদত্ত সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের পদগুলোর টীকা বা ব্যাখ্যা লিখেছিলেন।