Exams Study Jobs Teachers Students

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ( পরীক্ষা দিন)

BCS Exam 20 Questions By Circle of BCS

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ( পরীক্ষা দিন) নিয়ে যারা পড়াশোনা বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই পেজে 20টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা আপনার কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সাহায্য করবে। মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।

1. নিচের কোন শব্দটি বিসর্গ সন্ধিতে গঠিত?

ক) সংরক্ষণ
খ) হাচ্ছানি
গ) মনস্তাপ
ঘ) তন্মাত্র
উত্তর: মনস্তাপ
ব্যাখ্যা: বিসর্গ সন্ধি: - পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বাছ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্ বা ঠ থাকলে ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়। যেমন: -চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়, -ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার, -নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর, -ইতঃ + তত = ইতস্তত, - মনঃ + তাপ = মনস্তাপ। অন্যদিকে, ব্যঞ্জনসন্ধি - হাত + ছানি = হাচ্ছানি, সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ, তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র।

2. রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত বাংলা পত্রিকা কোনটি?

ক) সম্বাদ কৌমুদী
খ) সংবাদ প্রভাকর
গ) ভারতমিত্র
ঘ) তত্ত্ববোধিনী
উত্তর: সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত বাংলা পত্রিকা হচ্ছে সম্বাদ কৌমুদী। রাজা রামমোহন রায়: - রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২/৭৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। - তিনি প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। - তিনি ব্রাহ্মণসেবধি (১৮২১), সম্বাদ কৌমুদী (১৮২১) এবং পারসি ভাষায় মিরাত-উল-আখবার নামক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সম্বাদ কৌমুদীতে তিনি সামাজিক ও হিন্দুধর্মীয় রক্ষনশীলতার বিরুদ্ধে উদার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এই পত্রিকাটি ১৮৩৪ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, ভট্টাচার্যের সহিত বিচার, গোস্বামীর সহিত বিচার, সহমরণ বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ, গৌড়ীয় ব্যাকরণ। অন্যদিকে, সংবাদ প্রভাকর: এটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক সম্পাদিত ছিল। ভারত মিত্র: এটি একটি পত্রিকা ছিল যা পরে বিনোদবিহারী দত্ত দ্বারা সম্পাদিত হয়। তত্ত্ববোধিনী: এই পত্রিকাটি মূলত অক্ষয়কুমার দত্ত কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছিল।

3. সুকান্ত ভট্টাচার্য কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

ক) ফরিদপুর
খ) কলকাতা
গ) বরিশাল
ঘ) হুগলী
উত্তর: কলকাতা
ব্যাখ্যা: সুকান্ত ভট্টাচার্য কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। সুকান্ত ভট্টাচার্য: কবি ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে। কবি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে ১৩ ই মে ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ছাড়পত্র, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান, - ঘুম নেই, হরতাল, গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন যুগের লেখক?

ক) ঊনবিংশ শতাব্দী
খ) কুড়ি শতাব্দী
গ) বিশ শতাব্দী
ঘ) অষ্টাদশ শতাব্দী
উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উনিশ শতকের (ঊনবিংশ শতাব্দী) লেখক ছিলেন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁকে আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক ও সাহিত্যসম্রাট হিসেবে গণ্য করা হয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় - তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক ও বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। - জন্মগ্রহণ করেন ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে। - বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে খ্যাত। - তাঁর প্রথম উপন্যাস রাজমোহনস ওয়াইফ, যা ইংরেজি ভাষায় রচিত। - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬)। - তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম। রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ কপালকুণ্ডলা, - মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ, - ইন্দিরা, - যুগলাঙ্গুরীয়, চন্দ্রশেখর, রাধারানী, রজনী, কৃষ্ণকান্তের উইল, - রাজসিংহ।

5. 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যটি কোন ঘটনার উপর ভিত্তি করে রচিত?

ক) মুক্তিযুদ্ধ
খ) কারবালা যুদ্ধ
গ) ভাষা আন্দোলন
ঘ) কৃষক বিদ্রোহ
উত্তর: কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা: নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যটি রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ ঘটনার উপর ভিত্তি করে রচিত। নূরলদীনের সারা জীবন: নূরলদীনের সারা জীবন সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। এটি রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীন (আসল নাম নূরুলউদ্দিন)-এর সামন্তবাদবিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত। নূরলদীনের বিখ্যাত আহ্বান: “জাগো বাহে, কোনঠে সবাই।” নাটকের অন্যতম বিখ্যাত লাইন: "এক নূরলদীন যদি চলি যায়, হাজার নূরলদীন আসিবে বাংলায়।” নাটকটি মোট ১৪টি দৃশ্যে রচিত। সৈয়দ শামসুল হক: - তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক। - জন্ম: ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫, কুড়িগ্রাম। উপাধি: সব্যসাচী লেখক। - তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। কাব্যনাট্যসমূহ: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক), - নূরলদীনের সারা জীবন, এখানে এখন। কবিতা: একদা এক রাজ্যে, - বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা, পরানের গহীন ভিতর, বেজান শহরের জন্য কোরাস,

6. বাংলা ভাষায় কয়টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে?

ক) ৩২টি
খ) ৩০টি
গ) ৩৭টি
ঘ) ২৭টি
উত্তর: ৩৭টি
ব্যাখ্যা: ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক। - বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি। মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]; মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [খ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব], [ক], [খ], [গা, [ঘ], [ম], [ন], [৬], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।। - এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

7. ঘৃষ্ট ধ্বনি কোনটি?

ক)
খ)
গ)
ঘ)
উত্তর:
ব্যাখ্যা: এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের-বাতাস প্রথমে স্পৃষ্ট ধ্বনির মতো মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয় কিন্তু দ্রুত বের না হয়ে কিছুটা বিলম্বে ঘর্ষণ ধ্বনি তৈরি করে বের হয়। সে-হিসাবে এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য হলো: স্পৃষ্ট + ঘর্ষণজাত = ঘৃষ্ট। ইংরেজি child, jam শব্দের ch, j এ জাতীয় ধ্বনি। বাংলা কাচ, মাছ, কাজ, মাঝ, শব্দের [চ, ছ, জ, ঝু] খৃষ্ট ধ্বনি। অন্যদিকে, - শ উষ্ম ধ্বনি। ত দন্ত্য ধ্বনি। - ণ নাসিক্য ধ্বনি।

8. জিভের উচ্চতা অনুযায়ী উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি কোনগুলো?

ক) ই, উ
খ) এ,ও
গ) অ, আ
ঘ) অ্যা, অ
উত্তর: এ,ও
ব্যাখ্যা: স্বরধ্বনি: যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে। উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]। ২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]। ৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]। ৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]। উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম

9. 'রাজ্ঞী' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?

ক) রাজ্ + নি
খ) রাগ্ + নী
গ) রাজ্ + নী
ঘ) রাঙ্ + নী
উত্তর: রাজ্ + নী
ব্যাখ্যা: সন্ধির নিয়ম: ব্যঞ্জসন্ধিতে চ্ ও জ্ এর পর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়। যেমন: যাচ্ + না = যাজ্ঞা, রাজ্ + নী = রাজ্ঞী। আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি বিচ্ছেদ: ক্ষুধ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা, ষম্ + থ্ = ষষ্ঠ, সম্ + রক্ষণ = সংরক্ষণ, উৎ + ডীন = উড্ডীন, উৎ + লাস = উল্লাস ইত্যাদি।

10. 'জলৌঘ' - শব্দে সন্ধির কোন নিয়ম প্রয়োগ হয়েছে?

ক) আ + ও = ঔ
খ) আ+ ঔ = ঔ
গ) অ + ঔ = ঔ
ঘ) অ+ ও = ঔ
উত্তর: অ+ ও = ঔ
ব্যাখ্যা: সন্ধির নিয়ম: প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনি সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ- ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: নিয়ম: অ + ও = ঔ: - বন + ওষধি = বনৌষধি, জল + ওকা = জলৌকা, - জল + ওঘ = জলৌঘ। নিয়ম: আ + ও = ঔ: - মহা + ওষধি = মহৌষধি, - গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ। নিয়ম: অ + ঔ = ঔ; পরম + ঔষধ = পরমৌষধ, - চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য, - দিব্য + ঔষধ = দিব্যৌষধ। 个

11. স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয় কোনটি?

ক) জিলাপি > জিলিপি
খ) মুলা > মুলো
গ) আজি > আইজ
ঘ) দেশি > দিশি
উত্তর: আজি > আইজ
ব্যাখ্যা: স্বরসঙ্গতি: একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে। যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, - জিলাপি > জিলিপি, মুলা > মুলো ইত্যাদি। অন্যদিকে, অপিনিহিতির উদাহরণ আজি > আইজ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

12. "ইত্যাদি" শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?

ক) স্বর
খ) ব্যঞ্জন
গ) বিসর্গ
ঘ) নিপাতনে সিন্ধ
উত্তর: স্বর
ব্যাখ্যা: "ইত্যাদি" শব্দটি 'স্বরসন্ধির' নিয়মে গঠিত। সন্ধির নিয়ম: - ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। যেমন: অতি + অন্ত = অত্যন্ত, ইতি + আদি = ইত্যাদি, প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি

13. "হাসপাতাল" শব্দের "হ" কোন প্রকার ব্যঞ্জন?

ক) কণ্ঠনালীয়
খ) কম্পিত
গ) মূর্ধন্য
ঘ) তালব্য
উত্তর: কণ্ঠনালীয়
ব্যাখ্যা: কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন: কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। - হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ। অন্যদিকে, মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: - দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। - ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ। কম্পিত ব্যঞ্জন: - বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে। 个 - কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

14. বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প কোনটি?

ক) দেনাপাওনা
খ) ভিখারিণী
গ) সমাপ্তি
ঘ) শান্তি
উত্তর: ভিখারিণী
ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'। -এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনাপাওনা'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: -- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। -তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। -এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। -১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,

15. কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'ব্যথার দান' কোন শ্রেণির রচনা?

ক) প্রবন্ধগ্রন্থ
খ) গল্পগ্রন্থ
গ) কাব্যগ্রন্থ
ঘ) নাটক
উত্তর: গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা: ব্যথার দান': -কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ হলো 'ব্যথার দান'।. -ছয়টি গল্প গ্রন্থ নিয়ে 'ব্যথার দান' ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়। -এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলো: - ব্যথার দান -হেনা - অতৃপ্ত কামনা - বাদল- বরিষণে, -ঘুমের ঘোরে -রাজবন্দীর চিঠি তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ গুলো হলো: -রিক্তের বেদন - শিউলিমালা

16. কোনটি উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ?

ক) একেলে
খ) দোকানি
গ) বাবুয়ানা
ঘ) নিদারুন
উত্তর: নিদারুন
ব্যাখ্যা: নি' উপসর্গের ব্যবহার: 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ। 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি। -'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন। 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম। অন্যদিকে, বাবুয়ানা = বাবু + (আনা) - তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। দোকানি = দোকান + (ই) - বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। একেলে - একাল + (এ) বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

17. 'বুঝে-সুঝে' কোন প্রকার শব্দদ্বিত্ব?

ক) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
খ) অনুকার দ্বিত্ব
গ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ঘ) বিভক্তহীন দ্বিত্ব
উত্তর: অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা: অনুকার দ্বিত্ব: - পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। যেমন: --ঝাল-টাল, - মোটাসোটা, - নরম-সরম, - ব্যাপার-স্যাপার, - বুঝে-সুঝে, - অল্পস্বল্প, - বুদ্ধিশুদ্ধি, -- গুটিশুটি, -অঙ্ক-টঙ্ক, - আম-টাম।

18. 'পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।' - এখানে 'মিটির মিটির' কোন অর্থ প্রকাশ করেছে?

ক) অনুভূতি বা ভাব
খ) পৌনঃপুনিকতা
গ) ধ্বনিব্যঞ্জনা
ঘ) বিশেষণ
উত্তর: বিশেষণ
ব্যাখ্যা: অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ: ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ! পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল। অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে। - বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির। ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

19. মঙ্গলকাব্যে কতজন কবির সন্ধান পাওয়া যায়?

ক) ৪২ জন
খ) ৬৭ জন
গ) ৪৬ জন
ঘ) ৬২ জন
উত্তর: ৬২ জন
ব্যাখ্যা: মঙ্গকাব্য: মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে। পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়। মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী। মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল। একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে। যথা: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখন্ড, শ্রুতিফল। মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

20. 'অদ্য' শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ?

ক) চলিত
খ) সাধু
গ) দেশি
ঘ) প্রাকৃত
উত্তর: সাধু
ব্যাখ্যা: অদ্য' শব্দটি সাধু ভাষারীতির উদাহরণ। অদ্য (ক্রিয়াবিশেষণ)- -সংস্কৃত শব্দ। অর্থ: আজ, সম্প্রতি, এখন। সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: - সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না। - সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে। -এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। - সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়। - সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

আশা করি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ( পরীক্ষা দিন) এর এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে। এ ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, মডেল টেস্ট এবং পড়াশোনার আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। আপনার কোনো মতামত বা সংশোধন থাকলে অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্নের নিচে দেওয়া 'রিপোর্ট' অপশন থেকে আমাদের জানাতে পারেন।

ভুল সংশোধন রিপোর্ট