1. বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শনের নাম কী?
ক)
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
খ)
চর্যাপদ
গ)
বৈষ্ণব পদাবলী
ঘ)
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম বা আদি কাব্য নিদর্শন।
2. চর্যাপদ কোন ধর্মমতের কথা আছে?
ক)
হিন্দু ধর্ম
খ)
সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্ম
গ)
জৈন ধর্ম
ঘ)
ইসলাম ধর্ম
উত্তর:
সহজিয়া বৌদ্ধ ধর্ম
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ মূলত বৌদ্ধ সহজিয়াদের আধ্যাত্মিক সাধন-সংগীত।
3. চর্যাপদের কবিরা তাদের নামের শেষে কী ব্যবহার করতেন?
ক)
দাস
খ)
দেব
গ)
পা
ঘ)
ভট্ট
উত্তর:
পা
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের কবিরা সম্মনার্থে নামের শেষে 'পা' (যেমন: লুইপা, কাহ্নপা) ব্যবহার করতেন।
4. চর্যাপদের ভাষা কোন ভাষার কাছাকাছি?
ক)
উড়িয়া
খ)
অসমীয়া
গ)
বাংলা
ঘ)
সবগুলো
উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের ভাষার ওপর বাংলা, অসমীয়া, উড়িয়া ও মৈথিলি ভাষার প্রভাব দেখা যায়।
5. চর্যাপদ কোন ছন্দে রচিত?
ক)
অক্ষরবৃত্ত
খ)
মাত্রাবৃত্ত
গ)
অমিত্রাক্ষর
ঘ)
পয়ার
উত্তর:
মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা:
আধুনিক ছন্দবিশারদদের মতে, চর্যাপদের পদগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
6. কোন কবি নিজেকে 'বাঙালি' বলে পরিচয় দিয়েছেন?
ক)
লুইপা
খ)
কাহ্নপা
গ)
ভুসুকু পা
ঘ)
শবরপা
উত্তর:
ভুসুকু পা
ব্যাখ্যা:
ভুসুকু পা তাঁর একটি পদে 'আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী' চরণের মাধ্যমে নিজেকে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
7. চর্যাপদের টীকাকারের নাম কী?
ক)
মুনিদত্ত
খ)
লুইপা
গ)
সরহপা
ঘ)
মহামহোপাধ্যায়
উত্তর:
মুনিদত্ত
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের পদগুলোর সংস্কৃত ভাষায় টীকা বা ব্যাখ্যা লিখেছিলেন মুনিদত্ত।
8. চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কে?
ক)
প্রবোধচন্দ্র বাগচী
খ)
কীর্তিচন্দ্র
গ)
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ঘ)
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর:
কীর্তিচন্দ্র
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের পদগুলো তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন কীর্তিচন্দ্র।
9. চর্যাপদের ভাষায় কোন অঞ্চলের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়?
ক)
পূর্ববঙ্গ
খ)
পশ্চিমবঙ্গ
গ)
উত্তরবঙ্গ
ঘ)
উড়িষ্যা
উত্তর:
পশ্চিমবঙ্গ
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের ভাষায় পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
10. চর্যাপদের প্রাপ্তি স্থান কোথায়?
ক)
ভারত
খ)
নেপাল
গ)
তিব্বত
ঘ)
শ্রীলঙ্কা
উত্তর:
নেপাল
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ নেপালের রাজদরবারের 'রয়্যাল লাইব্রেরি' থেকে আবিষ্কৃত হয়।
11. চর্যাপদ কোন যুগের নিদর্শন?
ক)
প্রাচীন যুগ
খ)
মধ্যযুগ
গ)
অন্ধকার যুগ
ঘ)
আধুনিক যুগ
উত্তর:
প্রাচীন যুগ
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে প্রাচীন যুগ বলা হয়, যার একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ।
12. চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাধিক পদের রচয়িতা কে?
ক)
কাহ্নপা
খ)
লুইপা
গ)
ভুসুকু পা
ঘ)
শবরপা
উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা:
কাহ্নপা চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন।
13. 'সন্ধ্যা ভাষা' কোন সাহিত্যের সাথে যুক্ত?
ক)
বৈষ্ণব পদাবলী
খ)
মঙ্গলকাব্য
গ)
চর্যাপদ
ঘ)
নাথ সাহিত্য
উত্তর:
চর্যাপদ
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদের রহস্যময় ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা' বা 'আলো-আঁধারি ভাষা' বলা হয়।
14. 'কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল'— পঙক্তিটি কার?
ক)
লুইপা
খ)
কাহ্নপা
গ)
ভুসুকু পা
ঘ)
শবরপা
উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা:
এটি চর্যাপদের প্রথম পদের প্রথম লাইন, যা লুইপা রচনা করেছেন।
15. চর্যাপদের পদগুলো মূলত কী?
ক)
কবিতা
খ)
গান
গ)
গল্প
ঘ)
নাটক
উত্তর:
গান
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদগুলো মূলত বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন-সংগীত বা গান।
16. চর্যাপদের কবিদের মধ্যে মহিলা কবি হিসেবে কাকে সন্দেহ করা হয়?
ক)
কুক্কুরীপা
খ)
শবরপা
গ)
ডোম্বীপা
ঘ)
লুইপা
উত্তর:
কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা:
গবেষকদের কেউ কেউ কুক্কুরীপাকে মহিলা কবি বলে ধারণা করেন।
17. চর্যাপদ যে বাংলা ভাষায় রচিত, তা প্রথম কে প্রমাণ করেন?
ক)
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
খ)
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ)
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ঘ)
সুকুমার সেন
উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে এটি প্রমাণ করেন।
18. চর্যাপদের পুঁথিটির নাম কী ছিল?
ক)
চর্যাপদ
খ)
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
গ)
বৌদ্ধ গান ও দোহা
ঘ)
পদাবলী
উত্তর:
চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কৃত পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।
19. বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ কোনটি?
ক)
প্রাচীন যুগ
খ)
তুর্কি বিজয়ের পরবর্তী সময়
গ)
ইংরেজ আমল
ঘ)
পাকিস্তান আমল
উত্তর:
তুর্কি বিজয়ের পরবর্তী সময়
ব্যাখ্যা:
১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে সাহিত্যের বন্ধ্যাত্ব বা অন্ধকার যুগ বলা হয়।
20. চর্যাপদ কোন রাজবংশের আমলে রচিত হয়?
ক)
সেন বংশ
খ)
পাল বংশ
গ)
মৌর্য বংশ
ঘ)
গুপ্ত বংশ
উত্তর:
পাল বংশ
ব্যাখ্যা:
অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে, চর্যাপদ পাল রাজবংশের শাসনামলে রচিত হয়েছিল।