1. বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ কয়টি?
a)
২
b)
৩
c)
৪
d)
৬
Answer:
২
Explanation:
বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ দুটি । এগুলি হলো: মৌখিক বা কথ্য রূপ (Spoken Form) এবং লৈখিক বা লেখ্য রূপ (Written Form)।
2. সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার কোনরূপে বিদ্যমান?
a)
আঞ্চলিক
b)
উপভাষা
c)
লেখ্য
d)
কথ্য
Answer:
লেখ্য
Explanation:
সাধু ও চলিত রীতি মূলত বাংলা ভাষার লেখ্য বা লিখিত রূপে (Literary Form) বিদ্যমান।
3. মানুষের ভাষাকে 'সাধু ভাষা' হিসেবে প্রথম অভিহিত করেন কে?
a)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
b)
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
c)
রাজা রামমোহন রায়
d)
প্যারীচাঁদ মিত্র
Answer:
রাজা রামমোহন রায়
Explanation:
বাংলা গদ্যের সুশৃঙ্খল ও মার্জিত রূপকে 'সাধু ভাষা' হিসেবে প্রথম অভিহিত করেন রাজা রামমোহন রায়।
4. বাংলা গদ্যের প্রথম যুগে কোন রীতির প্রচলন ছিল?
a)
মিশ্র রীতি
b)
কথ্য রীতি
c)
চলিত রীতি
d)
সাধু রীতি
Answer:
সাধু রীতি
Explanation:
বাংলা গদ্যের প্রথম যুগে (উনিশ শতকের শুরুতে, ১৮০০-১৮৫০) প্রধানত সাধু রীতির প্রচলন ছিল। উইলিয়াম কেরি, রামরাম বসু প্রমুখের হাত ধরে এই গদ্যের সূচনা হয়, যা ছিল মূলত তৎসম শব্দবহুল এবং আড়ষ্ট । পরবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই রীতিকে পরিমার্জিত, সুশৃঙ্খল ও প্রাঞ্জল রূপ প্রদান করেন।
5. বাংলা গদ্য সাহিত্যে কোন লেখকের রচনা রীতিকে 'আলালী ভাষা' আখ্যা দেওয়া হয়?
a)
প্যারীচাঁদ মিত্র
b)
রাজনারায়ণ বসু
c)
কালীপ্রসন্ন সিংহ
d)
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
Answer:
প্যারীচাঁদ মিত্র
Explanation:
বাংলা গদ্য সাহিত্যে উনিশ শতকের বিশিষ্ট লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র (ছদ্মনাম: টেকচাঁদ ঠাকুর)-এর রচনা রীতিকে 'আলালী ভাষা' বা 'আলালী রীতি' আখ্যা দেওয়া হয়। ১৮৫৭ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'আলালের ঘরের দুলাল'-এ ব্যবহৃত কথ্য, সরল ও ফারসি-মিশ্রিত চলিত বাংলা গদ্যরীতিটিই এই নামে পরিচিতি লাভ করে।
6. বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
a)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
b)
প্রমথ চৌধুরী
c)
প্যারীচাঁদ মিত্র
d)
প্রমথনাথ বসু
Answer:
প্রমথ চৌধুরী
Explanation:
বাংলা সাহিত্যে আধুনিক চলিত গদ্যরীতির প্রধান প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)। তিনি 'বীরবল' ছদ্মনামে লিখতেন এবং ১৯১৪ সালে প্রবর্তিত 'সবুজপত্র' পত্রিকার মাধ্যমে চলিত ভাষাকে সাহিত্যিক মর্যাদা ও প্রতিষ্ঠা এনে দেন।
7. চলিত ভাষার সৃষ্টি হয়েছে-
a)
১৫৫৪ সালে
b)
১৭৪৩ সালে
c)
১৯১৪ সালে
d)
১৯৫৪ সালে
Answer:
১৯১৪ সালে
Explanation:
বাংলায় চলিত ভাষার বা চলিত রীতির প্রবর্তন ও সফল প্রয়োগ শুরু হয় ১৯১৪ সালে, প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকার মাধ্যমে।
8. চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয় -
a)
সাধু ভাষা
b)
প্রমিত ভাষা
c)
আঞ্চলিক ভাষা
d)
দেশি ভাষা
Answer:
প্রমিত ভাষা
Explanation:
চলিত ভাষার আদর্শরূপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয় প্রমিত ভাষা
9. 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয়?
a)
চলিত রীতি
b)
সাধু রীতি
c)
মিশ্র রীতি
d)
আঞ্চলিক রীতি
Answer:
সাধু রীতি
Explanation:
তৎসম শব্দের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় বাংলা ভাষার সাধু রীতি-তে।
10. 'মোগো' আঞ্চলিক রূপের শিষ্ট পদ্যরূপ-
a)
আমাদিগের
b)
মোদের
c)
আমরা
d)
আমাদের
Answer:
মোদের
Explanation:
'মোগো' (বরিশালের আঞ্চলিক শব্দ) এর শিষ্ট পদ্যরূপ হলো মোদের।
11. চলিত ভাষায় নিম্নের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
a)
অনুসর্গ
b)
বিশেষ্য
c)
অব্যয়
d)
উপসর্গ
Answer:
অনুসর্গ
Explanation:
চলিত ভাষাতে অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার হয়। অনুসর্গগুলো প্রাতিপদিক এর পরে ব্যবহার হয়।
12. বিভিন্ন অঞ্চলের মুখের ভাষাকে কি বলে?
a)
চলিত ভাষা
b)
সাধু ভাষা
c)
উপভাষা
d)
মিশ্র ভাষা
Answer:
উপভাষা
Explanation:
বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কথ্য রূপ বা মুখের ভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) বলা হয়।
13. বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত উপভাষার নাম কি?
a)
পশ্চিমা
b)
পূর্বি
c)
বরেন্দ্রী
d)
রাঢ়ি
Answer:
বরেন্দ্রী
Explanation:
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে (মূলত রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চল) প্রচলিত প্রধান উপভাষাটি বরেন্দ্রী উপভাষা (Varendri dialect) নামে পরিচিত।
Read More:
14. ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়-
a)
চলিত ভাষারীতিতে
b)
সাধু ভাষারীতিতে
c)
সমাজ উপভাষায়
d)
আঞ্চলিক উপভাষায়
Answer:
সাধু ভাষারীতিতে
Explanation:
বাংলা ব্যাকরণে সাধু রীতিতে (সাধু ভাষায়) ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। এই রীতিতে 'করিতেছে' (ক্রিয়া), 'তাহারা' (সর্বনাম), 'দ্বারা' (অনুসর্গ)-এর মতো অপরিবর্তিত ও পূর্ণাঙ্গ রূপগুলো ব্যাকরণসম্মতভাবে ব্যবহৃত হয়, যা গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
15. বক্তৃতা ও সংলাপের জন্য কোন ভাষা বেশি ব্যবহার করা হয়?
a)
আঞ্চলিক ভাষা
b)
চলিত ভাষা
c)
উপভাষা
d)
সাধু ভাষা
Answer:
চলিত ভাষা
Explanation:
বক্তৃতা, কথাবার্তা ও নাটকের সংলাপের জন্য চলিত ভাষা সবচেয়ে বেশি ও উপযোগী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি সহজ, সাবলীল এবং জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় নাটক, চলচ্চিত্র ও বক্তৃতায় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা হয়। সাধু রীতি শুধু লেখার জন্য উপযুক্ত, তাই সংলাপের জন্য তা অনুপযোগী।
16. বাংলা ভাষার চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
a)
আভিজাত্য
b)
পদবিন্যাস সুনির্দিষ্ট
c)
কাঠামো অপরিবর্তিত
d)
কৃত্রিমতা বর্জিত
Answer:
কৃত্রিমতা বর্জিত
Explanation:
বাংলা ভাষার চলিত রীতি মূলত মানুষের মুখে বলার ভাষা থেকে উদ্ভূত, তাই এটি অত্যন্ত সহজ, প্রাণবন্ত এবং কৃত্রিমতা বর্জিত। অন্যদিকে, সাধু রীতি সাধারণত গুরুগম্ভীর, আভিজাত্যপূর্ণ এবং এর কাঠামো বা পদবিন্যাস ব্যাকরণসিদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট থাকে। চলিত রীতিতে তদ্ভব ও দেশি শব্দের আধিক্য বেশি থাকে এবং এটি পরিবর্তনশীল ও গতিশীল। এটি আড়ম্বরহীন হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে অধিকতর বোধগম্য। চলিত রীতির এই সাবলীলতা ও স্বাভাবিকতাই একে সাধু রীতির কৃত্রিমতা ও কঠোর ব্যাকরণগত নিয়ম থেকে আলাদা করে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
17. সাহিত্যের একমাত্র কোন মাধ্যমটিতে ভাষারীতির মিশ্রণ দূষণীয় নয়?
a)
উপন্যাসে
b)
নাটকে
c)
গল্পে
d)
কবিতায়
Answer:
কবিতায়
Explanation:
সাহিত্যের একমাত্র কবিতা মাধ্যমটিতে ভাষারীতির মিশ্রণ (সাধু ও চলতির মিশ্রণ) দূষণীয় নয়। কবিতায় ভাব, ছন্দ ও উপমার প্রয়োজনে সাধু ও চলিত রূপের মিশ্রণ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, যাকে অনেক ক্ষেত্রে 'গুরু-চণ্ডালী দোষ' হিসেবে গণ্য করা হয় না, বরং তা কাব্যের সুষমা বাড়ায়।
18. 'গুরুচণ্ডালী দোষ' কাকে বলে?
a)
সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণকে
b)
চলিত ও আঞ্চলিক রীতির মিশ্রণকে
c)
সাধু ও আঞ্চলিক রীতির মিশ্রণকে
d)
চলিত ও উপভাষার মিশ্রণকে
Answer:
সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণকে
Explanation:
বাংলা ব্যাকরণে সাধু ভাষার গাম্ভীর্য বা তৎসম শব্দের সাথে চলিত ভাষার সহজবোধ্য শব্দের ত্রুটিপূর্ণ বা অসংগত সংমিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। যেমন: 'গরুর গাড়ি' (শুদ্ধ) না বলে 'গরুর শকটের' (অশুদ্ধ) মিশ্রণ। এটি ভাষার স্বাভাবিক গতি ও সৌন্দর্য নষ্ট করে।
19. সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন পদে বেশি দেখা যায়?
a)
বিশেষ্য ও বিশেষণ
b)
ক্রিয়া ও সর্বনাম
c)
বিশেষ্য ও ক্রিয়া
d)
বিশেষণ ও ক্রিয়া
Answer:
ক্রিয়া ও সর্বনাম
Explanation:
সাধু ও চলিত ভাষার মূল বা প্রধান পার্থক্য ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় । সাধু রীতিতে ক্রিয়াপদ ও সর্বনামের পূর্ণাঙ্গ রূপ (যেমন: 'করিয়া', 'তাহারা') ব্যবহৃত হয়, যা চলিত রীতিতে সংক্ষিপ্ত ও রূপান্তরিত হয় (যেমন: 'করে', 'তারা')।
20. ভাষার কোন রূপ ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে?
a)
চলিত
b)
সাধু
c)
আঞ্চলিক
d)
প্রাকৃত
Answer:
সাধু
Explanation:
বাংলা ভাষার সাধু রীতি সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণের নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করে চলে। এই রীতিতে পদবিন্যাস সুনির্ধারিত, গুরুগম্ভীর এবং তৎসম শব্দবহুল হয়ে থাকে।
21. ভাষার চলিত রীতি অনুসৃতি কষ্টসাধ্য কেন?
a)
এ রীতি কৃত্রিমতাবর্জিত বলে
b)
এ রীতির লিখিত কোনো ব্যাকরণ নেই বলে
c)
এ রীতিতে তদ্ভব শব্দের প্রাধান্য থাকে বলে
d)
এ রীতি পরিবর্তনশীল বলে
Answer:
এ রীতিতে তদ্ভব শব্দের প্রাধান্য থাকে বলে
22. চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে কোন বৈশিষ্ট্য প্রযোজ্য?
a)
গুরুগম্ভীর
b)
কৃত্রিম
c)
পরিবর্তনশীল
d)
তৎসম শব্দবহুল
Answer:
পরিবর্তনশীল
23. পুল পেরিয়ে সামনে একটি বাঁশ বাগান পড়ল। কোন রীতির বাক্য?
a)
চলিত রীতি
b)
সাধুরীতি
c)
আঞ্চলিক কথ্য রীতি
d)
প্রমিত রীতি
Answer:
চলিত রীতি
24. সাধু ভাষারীতির বাক্য কোনটি?
a)
জননী-জন্মভূমি স্বর্গাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
b)
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পাড়ে
c)
ধান কাটা হল সারা
d)
দেখে এলাম তারে
Answer:
জননী-জন্মভূমি স্বর্গাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
25. 'গুলি' শব্দটি ভাষার কোন রীতিতে ব্যবহৃত হয়?
a)
কথ্যরীতি
b)
আঞ্চলিক রীতি
c)
আধুনিক রীতি
d)
সাধু রীতি
Answer:
সাধু রীতি