1. প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা কে ছিলেন?
ক)
রাজা গণেশ
খ)
শশাঙ্ক
গ)
গোপাল
ঘ)
লক্ষণ সেন
উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা:
খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকের শুরুতে শশাঙ্ক গৌড়ের সিংহাসনে আরোহণ করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন নরপতি।
2. শশাঙ্কের রাজধানীর নাম কী ছিল?
ক)
পুণ্ড্রনগর
খ)
কর্ণসুবর্ণ
গ)
মহাস্থানগড়
ঘ)
বিক্রমপুর
উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা:
স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা শশাঙ্কের রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের 'কর্ণসুবর্ণ' নামক স্থানে।
3. প্রাচীন বাংলার দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ কোনটি?
ক)
সেন বংশ
খ)
গুপ্ত বংশ
গ)
পাল বংশ
ঘ)
মৌর্য বংশ
উত্তর:
পাল বংশ
ব্যাখ্যা:
পাল বংশের রাজারা বাংলায় প্রায় চারশত বছর (৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১১৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত) শাসন করেছিলেন, যা বাংলার ইতিহাসে দীর্ঘতম।
4. পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
ক)
ধর্মপাল
খ)
দেবপাল
গ)
গোপাল
ঘ)
মহীপাল
উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা:
বাংলায় দীর্ঘদিন চলা 'মাৎস্যন্যায়' বা অরাজকতার অবসান ঘটিয়ে খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে (৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে) গোপাল পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
5. বাংলার ইতিহাসে 'মাৎস্যন্যায়' বলতে কোন সময়কালকে বোঝায়?
ক)
সুশাসনের আমল
খ)
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশত বছরের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা
গ)
পাল আমলের স্বর্ণযুগ
ঘ)
সেন আমলের শেষভাগ
উত্তর:
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশত বছরের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা:
রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর খ্রিষ্টীয় ৭ম থেকে ৮ম শতক পর্যন্ত বাংলায় কোনো শক্তিশালী শাসক ছিল না। পুকুরের বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে গিলে খায়, তেমনি শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করত—এই অরাজক অবস্থাকেই 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়।
6. বিখ্যাত সোমপুর বিহার (পাহাড়পুর বিহার) কে নির্মাণ করেন?
ক)
রাজা শশাঙ্ক
খ)
সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
গ)
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ঘ)
রাজা ধর্মপাল
উত্তর:
রাজা ধর্মপাল
ব্যাখ্যা:
পাল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক রাজা ধর্মপাল নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ঐতিহাসিক সোমপুর মহাবিহার নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত।
7. বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন 'চর্যাপদ' কোন রাজবংশের আমলে রচিত হয়েছিল?
ক)
মৌর্য আমল
খ)
গুপ্ত আমল
গ)
পাল আমল
ঘ)
সেন আমল
উত্তর:
পাল আমল
ব্যাখ্যা:
বৌদ্ধ সহজিয়া কবিদের দ্বারা রচিত বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্যগ্রন্থ 'চর্যাপদ' মূলত পাল রাজাদের শাসনামলে (অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) রচিত হয়।
8. প্রাচীন বাংলার কোন জনপদটি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল?
ক)
সমতট
খ)
পুণ্ড্র
গ)
হরিকেল
ঘ)
গৌড়
উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা:
পুণ্ড্র ছিল বাংলার প্রাচীনতম জনপদগুলোর একটি। এর রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর, যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত।
9. বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীন শিলালিপি বা ব্রাহ্মী লিপি কোথায় পাওয়া গেছে?
ক)
ময়নামতি
খ)
পাহাড়পুর
গ)
মহাস্থানগড়
ঘ)
উয়ারী-বটেশ্বর
উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা:
বগুড়ার মহাস্থানগড়ে (প্রাচীন পুণ্ড্রনগরে) খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতকের মৌর্য আমলের প্রাচীনতম ব্রাহ্মী শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়েছে।
10. দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে এসে বাংলায় কোন রাজবংশ শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল?
ক)
পাল বংশ
খ)
সেন বংশ
গ)
গুপ্ত বংশ
ঘ)
মৌর্য বংশ
উত্তর:
সেন বংশ
ব্যাখ্যা:
সেন বংশের রাজারা মূলত দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক (কর্ণাট) থেকে বাংলায় এসেছিলেন। পাল বংশের পতনের পর তারা বাংলায় শাসন কায়েম করেন।
11. সেন বংশের প্রথম স্বাধীন ও প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
ক)
সামন্ত সেন
খ)
হেমন্ত সেন
গ)
বিজয় সেন
ঘ)
বল্লাল সেন
উত্তর:
বিজয় সেন
ব্যাখ্যা:
সামন্ত সেন ও হেমন্ত সেনের পর বিজয় সেনই প্রথম বাংলায় সেন বংশের স্বাধীন ও শক্তিশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
আরও পড়ুন:
12. প্রাচীন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা কে ছিলেন?
ক)
লক্ষণ সেন
খ)
বিজয় সেন
গ)
বল্লাল সেন
ঘ)
বিশ্বরূপ সেন
উত্তর:
লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা:
সেন বংশের রাজা লক্ষণ সেন ছিলেন প্রাচীন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বখতিয়ার খলজীর বাংলা আক্রমণের পর তিনি নদীয়া ছেড়ে পূর্ববঙ্গে আশ্রয় নেন।
13. বখতিয়ার খলজী কত সালে নদীয়া আক্রমণের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন?
ক)
১২০০ সালে
খ)
১২০৪ সালে
গ)
১২০৬ সালে
ঘ)
১৩৫২ সালে
উত্তর:
১২০৪ সালে
ব্যাখ্যা:
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজী মাত্র ১৭ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে রাজা লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়া আক্রমণ করে জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
14. কাউকে 'কৌলিন্য প্রথা' বা জাতপ্রথার প্রবর্তক বলা হয় বাংলার কোন রাজার ক্ষেত্রে?
ক)
গোপাল
খ)
বল্লাল সেন
গ)
শশাঙ্ক
ঘ)
ধর্মপাল
উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা:
সেন রাজা বল্লাল সেন হিন্দু সমাজের সামাজিক মর্যাদা ও জাতপ্রথা সংস্কারের জন্য 'কৌলিন্য প্রথা' চালু করেছিলেন। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' গ্রন্থের রচয়িতা।
15. প্রাচীনকালে ঢাকা কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
ক)
পুণ্ড্র
খ)
বঙ্গ
গ)
সমতট
ঘ)
হরিকেল
উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা:
প্রাচীন বঙ্গ জনপদটি গড়ে উঠেছিল ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর ও বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।
16. বিখ্যাত পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ কার রাজত্বকালে বাংলায় এসেছিলেন?
ক)
সম্রাট আকবর
খ)
রাজা শশাঙ্ক
গ)
ধর্মপাল
ঘ)
বিজয় সেন
উত্তর:
রাজা শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা:
চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতকে রাজা শশাঙ্কের রাজত্বকালে বাংলায় (বিশেষ করে পুণ্ড্রবর্ধন ও কর্ণসুবর্ণে) আসেন।
17. ইতিহাসের জনক হেরোডোটাসের বর্ণনায় গঙ্গা নদীর তীরে বসবাসকারী 'গঙ্গারিডাই' (Gangaridai) নামক শক্তিশালী জাতিটি আসলে কারা ছিল?
ক)
আর্যরা
খ)
প্রাচীন বাঙালিরা
গ)
মৌর্যরা
ঘ)
গ্রীকরা
উত্তর:
প্রাচীন বাঙালিরা
ব্যাখ্যা:
গ্রীক ঐতিহাসিকদের মতে, আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় গঙ্গা নদীর মোহনায় 'গঙ্গারিডাই' বা গঙ্গাহৃদয় নামের এক মহাশক্তিশালী সামরিক জাতি বাস করত, যারা প্রাচীন বাঙালি নৃগোষ্ঠী ছিল।
18. মধ্যযুগে কোন মুসলিম শাসককে 'বাঙালির জনক' বা প্রথম জাতীয়তার রূপকার বলা হয়?
ক)
সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
খ)
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
গ)
শেরশাহ
ঘ)
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর:
সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা:
স্বাধীন সুলতানি আমলের প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ পুরো বাংলার বিভিন্ন জনপদকে রাজনৈতিকভাবে এক ছাতার নিচে এনেছিলেন, তাই তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম রূপকার বলা হয়।
19. নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরে কোন আমলের আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগর সভ্যতার সন্ধান মিলেছে?
ক)
পাল আমলের
খ)
গুপ্ত আমলের
গ)
মৌর্য ও মৌর্যপূর্ব আমলের
ঘ)
সেন আমলের
উত্তর:
মৌর্য ও মৌর্যপূর্ব আমলের
ব্যাখ্যা:
উয়ারী-বটেশ্বরে খননকাজের ফলে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের অসম রাজত্ব এবং প্রাচীন মুদ্রা ও রত্নপাথর পাওয়া গেছে, যা প্রমান করে প্রাচীন বাংলায় অত্যন্ত উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
20. প্রাচীন যুগের কোন রাজবংশের রাজারা ধর্মীয়ভাবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন?
ক)
সেন বংশ
খ)
পাল বংশ
গ)
গুপ্ত বংশ
ঘ)
মৌর্য বংশ
উত্তর:
পাল বংশ
ব্যাখ্যা:
পাল বংশের শাসকরা ছিলেন একনিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। তাদের আমলেই বাংলায় বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে এবং তিব্বত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তা ছড়িয়ে পড়ে।