1. চর্যার প্রাপ্ত কোন পদটির শেষাংশে পাওয়া যায় নি ?
ক)
ক) ২০ সংখ্যক পদ
খ)
খ) ২১ সংখ্যক পদ
গ)
গ) ২২ সংখ্যক পদ
ঘ)
ঘ) ২৩ সংখ্যক পদ
উত্তর:
ঘ) ২৩ সংখ্যক পদ
ব্যাখ্যা:
২৩ সংখ্যক পদের শেষাংশ পাওয়া যায় নি। ২৪,২৫,৪৮ সংখ্যক, চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে সম্পূর্ন পাওয়া যায় নি।
2. চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে কোন কোন সংখ্যক পদে সম্পূর্ন পাওয়া যায় নি ?
ক)
ক) ১৪,১৫,৪৮
খ)
খ) ২৪,২৫,৪৮
গ)
গ) ১১,১৯,৪৬
ঘ)
ঘ) ২৯,৩১,৩৪
উত্তর:
খ) ২৪,২৫,৪৮
ব্যাখ্যা:
২৪,২৫,৪৮ সংখ্যক, চর্যার প্রাপ্ত পুঁথিতে সম্পূর্ন পাওয়া যায় নি। ২৩ সংখ্যক পদের শেষাংশ পাওয়া যায় নি।
3. কোন শাসনামলে চর্যাপদ রচিত হয়েছে বলে জানা যায়?
ক)
ক) পাল আমলে
খ)
খ) সেন আমলে
গ)
গ) মুঘল আমলে
ঘ)
ঘ) খিলজী আমলে
উত্তর:
ক) পাল আমলে
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষার প্রথম কবিতা সংকলন এবং বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ রচিত হয়েছে পাল আমলে।
4. প্রাচীনতম গ্রন্থ কোনটি?
ক)
ক) শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন
খ)
খ) মধুমালতি
গ)
গ) চর্যাপদ
ঘ)
ঘ) নুরনামা
উত্তর:
গ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্য তথা সাহিত্য নিদর্শন। নব্য ভারতীয় আর্যভাষারও প্রাচীনতম রচনা এটি।খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে রচিত এই গীতিপদাবলির রচয়িতারা ছিলেন সহজিয়া বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ। বৌদ্ধ ধর্মের গূঢ় অর্থ সাংকেতিক রূপের আশ্রয়ে ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যেই তাঁরা পদগুলি রচনা করেছিলেন। বাংলা সাধন সংগীত শাখাটির সূত্রপাতও হয়েছিলো এই চর্যাপদ থেকেই। এই বিবেচনায় এটি একটি ধর্মগ্রন্থজাতীয় রচনা। একই সঙ্গে সমকালীন বাংলার সামাজিক ও প্রাকৃতিক চিত্রাবলি এই পদগুলিতে উজ্জ্বল। এর সাহিত্যগুণ আজও চিত্তাকর্ষক। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চর্যাপদের সঙ্গে বাংলা ভাষার অনস্বীকার্য যোগসূত্র বৈজ্ঞানিক যুক্তিসহ প্রতিষ্ঠিত করেন। চর্যার প্রধান কবিগণ হলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ, শবরপাদ প্রমুখ।
5. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?
ক)
ক) নিরঞ্জনের রুস্মা
খ)
খ) গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস
গ)
গ) দোহাকোষ
ঘ)
ঘ) ময়নামতির গান
উত্তর:
গ) দোহাকোষ
ব্যাখ্যা:
বাঙালিরা প্রথমে ছিল মূলত বৌদ্ধ। তাই উনিশ শতকে যখন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস লেখা শুরু হতে লাগলো, তখন বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস নিয়েও গবেষণা শুরু হয়ে গেল। অনেকেই প্রাচীন বৌদ্ধ গান, দোহা- এসব খুঁজতে শুরু করলো নেপালে- তিব্বতে গিয়ে। এসব গানগুলো ছিল মূলত সংস্কৃত বা তিব্বতী ভাষায় লেখা।
সম্ভবত প্রথম এ কাজে নেপাল যান রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। তিনি বৌদ্ধ ধর্ম আর বৌদ্ধ সাহিত্যের অনেকগুলো পুঁথিও আবিষ্কার করেন। পরে সেগুলোর একটা তালিকাও প্রকাশ করেন ১৮৮২ সালে। তার এসব কাজ দেখে উৎসাহিত হন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। ১৮৯৭-৯৮ সালে দুবার নেপালে যান তিনি। তৃতীয় এবং শেষবার যান ১৯০৭ সালে। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয়বার নেপাল ভ্রমণকালে তিনি নেপালের রাজদরবারের লাইব্রেরিতে খুঁজে পান চারটি প্রাচীন পুঁথি; ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’, সরোজবজের ‘দোহাকোষ’, কৃষ্ণাচার্যের ‘দোহাকোষ’ আর ‘ডাকার্ণব’।
6. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা
ক)
ক) ব্রজবুলি
খ)
খ) জগাখিচুড়ি
গ)
গ) সন্ধ্যাভাষা
ঘ)
ঘ) বঙ্গ-কামরুপী
উত্তর:
ঘ) বঙ্গ-কামরুপী
ব্যাখ্যা:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ তার বইয়ে চর্যাপদের ভাষাকে বঙ্গকামরূপী নামে আখ্যা দেন। চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
আরও পড়ুন:
7. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ‘চর্যাপদ’ যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন?
ক)
ক) চর্যাপদাবলি
খ)
খ) চর্যাগীতিকা
গ)
গ) চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
ঘ)
ঘ) হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
উত্তর:
ঘ) হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
ব্যাখ্যা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রি নেপাল থেকে আবিষ্কৃত চর্যাপদ, সরহপাদ ও কারুপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব- চারটি পুঁথি একত্রে ১৯১৬ সালে ( ১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালার বৌদ্ধগান দোহা' (৮৭ টি পদ বিশিষ্ট) নামে প্রাকাশ করেন।
8. বাঙলা ভাষার প্রথম কাব্য সংকলন ‘চর্যাপদ’ এর আবিষ্কারক --
ক)
ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
খ)
খ) হরপ্রসাধ শাস্ত্রী
গ)
গ) ড. সুনীত কুমার চট্টোপাধ্যায়
ঘ)
ঘ) ড. সুকুমার সেন
উত্তর:
খ) হরপ্রসাধ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যর আদি নিদর্শন চর্যাপদ ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কার করেন। তিনি এটি নেপালের 'রাজ-দরবারের গ্রন্থাগার' থেকে আবিষ্কার করেন।
9. বৌদ্ধদের কোন সম্প্রদায়ের সাধকগণ চর্যাপদ রচনা করেন?
ক)
ক) মহাযানী
খ)
খ) সহজযানী
গ)
গ) হীনযনী
ঘ)
ঘ) ব্রজযানী
উত্তর:
খ) সহজযানী
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ হলঃ বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সঙ্গীত।
10. চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে ?
ক)
ক) বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
খ)
খ) আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে
গ)
গ) নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
ঘ)
ঘ) সুদূর চীন দেশ থেকে
উত্তর:
গ) নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যর আদি নিদর্শন চর্যাপদ ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আবিষ্কার করেন। তিনি এটি নেপালের 'রাজ-দরবারের গ্রন্থাগার' থেকে আবিষ্কার করেন।