বাংলাদেশ বিষয়াবলী
বাংলাদেশের অভুত হয় যে ধরনের রাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত -
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মূলত একটি এককেন্দ্রিক (Unitary), গণতান্ত্রিক এবং প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামে পরিচিত। বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: এককেন্দ্রিক শাসন: এখানে কোনো প্রদেশ বা রাজ্য নেই। সরকারের সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং পুরো দেশ একটি কেন্দ্র থেকেই শাসিত হয়। সংসদীয় গণতন্ত্র: বাংলাদেশে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এখানে সরকারপ্রধান (প্রধানমন্ত্রী) এবং তাঁর মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য জাতীয় সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। প্রজাতন্ত্র: রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে একজন রাষ্ট্রপতি থাকেন, যিনি জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত হন। কোনো বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র এখানে নেই। সহজ কথায়, বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র, যা জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—এই চারটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিকম্প গঠিত হয়:
ব্যাখ্যা
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমি রূপ গঠিত হয় পলিওসিন যুগে (টারশিয়ারি যুগের একটি অংশ), যা মূলত পাহাড়ি অঞ্চলকে নির্দেশ করে। তবে আপনি যদি বাংলাদেশের ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের গঠন বা প্রাচীনতম পাহাড়ি কাঠামোর কথা বোঝাতে চান, তবে তা মূলত দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টারশিয়ারি পাহাড়সমূহ। আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় আগে হিমালয় পর্বত গঠনের সময় এই পাহাড়গুলো সৃষ্টি হয়েছিল। এই অঞ্চলগুলো (যেমন: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও সিলেট) ভূতাত্ত্বিকভাবে এখনো বেশ সক্রিয় এবং ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের মোট ভূ-ভাগের প্রায় ১২% এলাকা এই পুরাতন টারশিয়ারি পাহাড়ের অন্তর্ভুক্ত। মূলত টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলেই এই পুরাতন ভূমিস্তরগুলো গঠিত হয়েছিল, যা আজও এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করে।
লালমাই পাহাড় কোথায় অবস্থিত?
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল খরাপ্রবণ?
সাজেক ভ্যালি কোন কোন জেলায় অবস্থিত?
ব্যাখ্যা
সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত। এটি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন যা মূলত মিজোরাম (ভারত) সীমান্তবর্তী পাহাড়ে ঘেরা একটি এলাকা। ভৌগোলিকভাবে রাঙামাটি জেলায় হলেও, যাতায়াতের সুবিধার কারণে পর্যটকদের সাধারণত খাগড়াছড়ি জেলা শহর হয়ে সাজেক যেতে হয়। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। এই কারণে অনেকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় যে এটি খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত, কিন্তু প্রশাসনিকভাবে এটি রাঙামাটি জেলার অন্তর্ভুক্ত। সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত, যার আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এবং এর চারপাশের মেঘ ও পাহাড়ের মিতালি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আর্যদের ধর্মগ্রন্থের নাম কি ছিল?
আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল। এটি মূলত ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতার একটি আইনি রূপান্তর ছিল। ১০ই এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) নবগঠিত বাংলাদেশ সরকার এই ঘোষণাপত্র অনুমোদন করে। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণাপত্রটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সংবিধান, যার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার পরিচালিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে ২৬শে মার্চ থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বৈধতা এবং সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা হয়। এই দলিলটি ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছিল।
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একজন মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হলেন?
Surrender at ঢাকা বইটির লেখক কে?
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?
শহীদ জননী কাকে বলা হয়?
ব্যাখ্যা
শহীদ জননী বলা হয় জাহানারা ইমামকে (অপশন ২)। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক এবং একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি ইমাম রুমীর মা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বড় ছেলে রুমী দেশের টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন। যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে জাহানারা ইমাম মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সাহায্য করেন এবং অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত। পরবর্তী সময়ে, ১৯৯২ সালে তিনি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গঠিত 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'র নেতৃত্ব দেন এবং আমৃত্যু ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যান। মূলত মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাঁর এই অসামান্য ত্যাগ এবং দেশপ্রেমের কারণেই জাতি তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় ‘শহীদ জননী’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।
বাংলাদেশের জেলাভিত্তিক সবচেয়ে ছোট প্রশাসনিক বিভাগ কোনটি?
স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস কবে?
বাংলাদেশের কোন তারিখে গণহত্যা দিবস পালিত হয়?
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়। ১৯৭১ সালের এই কালো রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ রাজধানী ও সারা দেশে একযোগে আক্রমণ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডকে স্মরণ করতে এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ট্র্যাজেডি তুলে ধরতে ২০১৭ সালের ১১ই মার্চ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২৫শে মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং সেই ভয়াবহ রাতের ইতিহাসকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখা। আন্তর্জাতিকভাবেও এই দিবসটির স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে।
জনসংখ্যার বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া নয় যেটি -
বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর যে জেলায় অবস্থিত-
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ইন্টারনেট সিস্টেম চালুর সন -
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম কার্ড নিবন্ধনে বাংলাদেশ বিশ্বের - তম?
দেশের প্রথম এফ এম রেডিও চ্যানেল কোনটি?
বাংলাদেশের পোস্টাল কোড চালু হয় -
বাংলাদেশের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নাম কি?
বাংলাদেশে কত বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করা হয়েছে?
যে সেক্টরে বাংলাদেশের সর্বাধিক জনশক্তি নিয়োজিত -
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বাধিক জনশক্তি নিয়োজিত খাত হলো কৃষি খাত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫.৩৩% সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস হিসেবে এই খাতটি এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। কৃষির পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হলো সেবা খাত, যেখানে প্রায় ৩৭.৬৫% জনশক্তি নিয়োজিত। এরপরই রয়েছে শিল্প খাত, যার হার প্রায় ১৭.০২%। উল্লেখ্য যে, শিল্প খাতের মধ্যে তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পে এককভাবে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত থাকলেও সামগ্রিক পরিসংখ্যানের বিচারে কৃষিই সবার উপরে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি থেকে শ্রমিকরা ধীরে ধীরে শহরমুখী হয়ে সেবা ও শিল্প খাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে, যা দেশের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।