Exams Study Jobs Teachers Students Login

পড়াশোনা মোড

বাংলাদেশ বিষয়াবলি - বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, পরিবেশ ও দুর্যোগ।

General Knowledge
20 টি প্রশ্ন
University Of Dhaka
প্রশ্ন 01

ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ গঠিত হয় কোন যুগে?

1) ক) টারশিয়ারি যুগে
2) খ) কোয়াটারনারী যুগে
3) গ) প্লাইস্টোসিন যুগে
4) ঘ) সাম্প্রতিক কালে

ব্যাখ্যা

• ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়। এগুলো হলোঃ - টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী - প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ - প্লাবন সমভূমি। • এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী। আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়। - দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী অবস্থিত। - দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল টারশিয়ারি যুগে গঠিত।

প্রশ্ন 02

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে অবস্থিত স্থান কোনটি?

1) ক) জায়গীর জোত
2) খ) ছেঁড়া দ্বীপ
3) গ) মনাকষা
4) ঘ) আখানইঠং

ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগ­ঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা(স্থান)। বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে- বান্দরবান(জেলা), থানচি(উপজেলা), আখানইঠং(স্থান)। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে- কক্সবাজার(জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন(ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে- পঞ্চগড়(জেলা), তেতুলিয়া(উপজেলা), বাংলাবান্ধা(ইউনিয়ন), জায়গীর জোত(স্থান)।

প্রশ্ন 03

বাংলাদেশে কোন নদীর গতিপথ ভূমিকম্পের ফলে বদলে গিয়েছে?

1) ক) কুশিয়ারা
2) খ) কাপ্তাই
3) গ) নাফ
4) ঘ) ব্রহ্মপুত্র

ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প ভূ-পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও অস্থায়ী কম্পন৷ ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়। - ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। - মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ (উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল), মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ (মধ্য অঞ্চল)এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ(দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল)। - বাংলাদেশে ১২ই জুন, ১৮৯৭ সালে ব্রহ্মপুত্র নদীর গতিপথ ভূমিকম্পের ফলে বদলে গিয়েছে। - রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৮.৭।

প্রশ্ন 04

আপদ (Hazard) এর প্রত্যক্ষ প্রভাব কোনটি?

1) ক) অর্থনৈতিক
2) খ) পরিবেশগত
3) গ) অবকাঠামোগত
4) ঘ) সামাজিক

ব্যাখ্যা

‘‘আপদ (Hazard) ’’ অর্থ এমন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যাহা প্রাকৃতিক নিয়মে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অথবা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হইয়া থাকে এবং ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে এবং জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতিসহ দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি করে। - দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প,বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ। আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা - যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। - সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ। • প্রাকৃতিক আপদ হল- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি • মানবসৃষ্ট আপদ হল- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি • কারিগরি আপদ হল- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি

প্রশ্ন 05

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে কোন ধরনের বন্যার প্রকোপ বেশি?

1) ক) আকস্মিক বন্যা
2) খ) নদীসৃষ্ট বন্যা
3) গ) উপকূলীয় বন্যা
4) ঘ) বৃষ্টিজনিত বন্যা

ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়। এগুলো হলো: - বৃষ্টিজনিত বন্যা - উপকূলীয় বন্যা - নদীসৃষ্ট বন্যা - আকস্মিক বন্যা। - বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। - এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। - আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। অন্যদিকে, - বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়। - উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়। - নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।

প্রশ্ন 06

SPARSO এর পূর্ণ রূপ কোনটি?

1) ক) Space Resource and Remote Sensing Organisation
2) খ) Special Resource and Remote Sensing Organisation
3) গ) Space Research and Regulatory Sensing Organisation
4) ঘ) Space Research and Remote Sensing Organisation

ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)। - এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। - এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

প্রশ্ন 07

বাংলাদেশের তামাবিল সীমান্তের সাথে ভারতের কোন শহরটি অবস্থিত?

1) ক) ডাউকি
2) খ) করিমগঞ্জ
3) গ) জাফলং
4) ঘ) চেরাপুঞ্জি

ব্যাখ্যা

গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকা - তামাবিল। - তামাবিল স্থল শুল্ক বন্দর দিয়েই ভারত থেকে কয়লা আমদানী করা হয়। - তামাবিলের অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের - ডাউকি বাজার। - তামাবিল থেকে মেঘালয় রাজ্যের শিলং পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সিলেট থেকে তামাবিলের দূরত্ব ৫৫ কি.মি.।

প্রশ্ন 08

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?

1) ক) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
2) খ) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
3) গ) বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়
4) ঘ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর - প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। - বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশে আবহাওয়া বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনাকারী একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। • আবহাওয়া উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস পদ্ধতির মান-উন্নয়নসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য অধিকতর নির্ভুল তথ্য প্রদান এ অধিদপ্তরের অন্যতম দায়িত্ব। - অধিদপ্তর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারসমূহের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা এবং রাডার, উপগ্রহ কেন্দ্র ও কৃষি আবহাওয়া-সংক্রান্ত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে আধুনিক কৃষি-ব্যবস্থাপনার বিকাশে সহায়তা প্রদান করে থাকে। - আবহাওয়া অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ঢাকার আগারগাওয়ে অবস্থিত।

প্রশ্ন 09

ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার উঁচু ভূমিকে কী বলা হয় ?

1) ক) লালমাই পাহাড়
2) খ) ভাওয়াল গড়
3) গ) মধুপুর গড়
4) ঘ) খ ও গ

ব্যাখ্যা

আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত। বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো: - রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি - ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত - মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত ভাওয়াল গড়। - কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়। - দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ। - ভাওয়াল ও মধুপুর বনাঞ্চলের আয়তন - ৪,১০৩ বর্গকিঃমিঃ। - সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এর মাটির রং - লালচে ও ধূসর। - প্রধান বৃক্ষ - শাল/গজারি।

প্রশ্ন 10

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?

1) ক) ২৮
2) খ) ৩০
3) গ) ৩২
4) ঘ) ৩৩

ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। - একটি ভারত এবং অপরটি মিয়ানমার। - ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে। - ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি। - ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

প্রশ্ন 11

গ্রিন হাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কোনটি?

1) ক) বৃষ্টিপাত কম হবে
2) খ) তাপমাত্রা বেড়ে যাবে
3) গ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
4) ঘ) বৃষ্টিপাত বেশি হবে

ব্যাখ্যা

• গ্রীন হাউস ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি- নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে। • গ্রীন হাউস ইফেক্টের কারনে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইসিসি ২০০৭ সালে তার সতর্কীকরণে বলেছে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সে.মি. বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী ১০-১৫ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। আনুমানিক ৩.৫ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

প্রশ্ন 12

বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে কোন কাল্পনিক রেখা?

1) ক) কর্কটক্রান্তি রেখা
2) খ) মকরক্রান্তি রেখা
3) গ) মূল মধ্যরেখা
4) ঘ) আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা

ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। - এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। - কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি। - এছাড়া বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

প্রশ্ন 13

কোনটি জলবায়ুর উপাদান নয়?

1) ক) উষ্ণতা
2) খ) বায়ুর চাপ
3) গ) বায়ুর তাপ
4) ঘ) মাটি

ব্যাখ্যা

কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে। কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে। কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তর বা ট্রপোমন্ডলের সামগ্রিক অবস্থা। আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো- - বায়ুর তাপ/উষ্ণতা, - বায়ুর চাপ, - বায়ুর আর্দ্রতা ও - বারিপাত।

প্রশ্ন 14

বাংলাদেশের কোন বনভূমি শালবনের জন্য বিখ্যাত?

1) ক) মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
2) খ) সিলেট অঞ্চলের বনভূমি
3) গ) উপকূলীয় বনভূমি
4) ঘ) পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমি

ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বনভূমিকে প্রধানত ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি, ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমি ও গরান বা স্রোতজ বনভূমি (সুন্দরবন) এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়। • মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি ক্রান্তীয় পতনশীল পত্রযুক্ত বৃক্ষের বনভূমির অন্তর্ভুক্ত। এর আয়তন প্রায় ৮৭৫ বর্গ কিলোমিটার। - শাল জাতীয় এক ধরনের গজারী এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ। • পার্বত্য চট্টগ্রামের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গর্জন, জারুল, শিমুল, গামার ইত্যাদি। • উপকূলীয় অঞ্চল যেমন - খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া ইত্যাদি।

প্রশ্ন 15

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সিডর কত সালে আঘাত হানে?

1) ক) ২০০৫ সালে
2) খ) ২০০৭ সালে
3) গ) ২০০৯ সালে
4) ঘ) ২০১২ সালে

ব্যাখ্যা

সিডর (Sidr) এ যাবৎকালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী। - ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে। - বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভের পরই ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। - এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৬০ কিমি সাফাইর-সিম্পসন (Saffire-Simpson scale) অনুযায়ী ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য। - ঘূর্ণিঝড় এবং তদুপরি জলোচ্ছাসের প্রভাবে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। - বাংলাদেশের উপকূলীয় ছাড়াও ভারতের চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং আরও কিছু রাজ্য সিডর এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

প্রশ্ন 16

বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের পাহাড়গুলো স্থানীয় ভাবে টিলা নামে পরিচিত?

1) ক) উত্তর
2) খ) দক্ষিণ
3) গ) পূর্ব
4) ঘ) পশ্চিম

ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়গুলো স্থানীয় ভাবে টিলা নামে পরিচিত। টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়গুলাে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগােত্রীয়। এ পাহাড়গুলাে বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও (খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ। (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। - দক্ষিণ-পূর্বের এ পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। - বান্দরবানের একটি শৃঙ্গের নাম তাজিনডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১.২৮০ মিটার। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।। (খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ : ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার ৫ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলাের গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়। - উত্তরের পাহাড়গুলাে স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। - এগুলাের উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

প্রশ্ন 17

সুনামির কারণ কোনটি?

1) ক) ভূমিকম্প
2) খ) আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
3) গ) ভূমিধ্বস
4) ঘ) সবগুলো

ব্যাখ্যা

সুনামি (Tsunami) ‘সুনামি’ জাপানি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ ‘পোতাশ্রয় ঢেউ’। - সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি। - বিভিন্ন কারণে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে। - কারণগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, ভূমিধ্বস অন্যতম। - তন্মধ্যে দুটি কারণ উলে­খযোগ্য হলো সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প সংঘটন এবং টেকটোনিক পে­টের আকষ্মিক উত্থান-পতন।

প্রশ্ন 18

তিনবিঘা করিডোর কোন জেলায় অবস্থিত?

1) ক) নীলফামারী
2) খ) পঞ্চগড়
3) গ) ঠাকুরগাঁও
4) ঘ) লালমনিরহাট

ব্যাখ্যা

তিনবিঘা করিডোর: লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা। এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত। - পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশ আমল পর্যন্ত তিন বিঘা হস্তান্তর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের অনেক বৈঠক এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। - ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে। - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়। - ২০১৫ সালের ছিটমহল মিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।

প্রশ্ন 19

বাংলাদেশে প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কোথায় স্থাপিত হয়?

1) ক) বেতবুনিয়া
2) খ) গাজীপুর
3) গ) মহাখালী
4) ঘ) তালিবাবাদ

ব্যাখ্যা

• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা- - রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া) - গাজীপুর (তালিবাবাদ) - মহাখালী - সিলেট - বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন। - এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

প্রশ্ন 20

গ্রিন হাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কোনটি?

1) ক) বৃষ্টিপাত কম হবে
2) খ) তাপমাত্রা বেড়ে যাবে
3) গ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
4) ঘ) বৃষ্টিপাত বেশি হবে

ব্যাখ্যা

• গ্রীন হাউস ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি- নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে। • গ্রীন হাউস ইফেক্টের কারনে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইসিসি ২০০৭ সালে তার সতর্কীকরণে বলেছে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সে.মি. বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী ১০-১৫ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। আনুমানিক ৩.৫ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

ভুল সংশোধন রিপোর্ট