1. চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
ক)
দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
খ)
তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
গ)
গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
ঘ)
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
উত্তর:
তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
ব্যাখ্যা:
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য: - চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়। - এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক। - চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়। - এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী। - চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল। চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল। চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে। অন্যদিকে, সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য: - সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের। - সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। - এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়। - সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
2. ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয়-
ক)
অক্ষর
খ)
ধ্বনিমূল
গ)
রূপমূল
ঘ)
বাক্য
উত্তর:
রূপমূল
ব্যাখ্যা:
শব্দ ও রূপমূল: শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে। আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে। উদাহরণ: শব্দ: অবোধ। রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ, [এখানে, 'অ' উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকা করতে না পারলেও অভাব বোঝায়। 'বোধ' স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।]
3. কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোনটি?
ক)
প
খ)
ঘ
গ)
ঠ
ঘ)
ঝ
উত্তর:
ঘ
ব্যাখ্যা:
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ঘ। স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। যথা: ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি। উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: - ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ। দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ। - মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ। - তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ। - কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ। 个
4. 'বিমুগ্ধ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
ক)
বি + মুগ্ধ
খ)
বিঃ + মুগ্ধ
গ)
বিমুহ্ + ত
ঘ)
বিমুগ + ত
উত্তর:
বিমুহ্ + ত
ব্যাখ্যা:
ব্যঞ্জন+ ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে: আগে ধূ, ভূ কিংবা হ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধূ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ +ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্+ত) স্থলে গ্ধ হয়। যেমন: - বুধ + ত = বুদ্ধ, - লভ্ + ত = লব্ধ, - বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ, - দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি। উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
5. 'অনামুখো' শব্দে 'অনা' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক)
অভাব
খ)
অশুভ
গ)
অস্পষ্টতা
ঘ)
নিন্দিত
উত্তর:
অশুভ
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা। 'অনা' বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ: 'অভাব' অর্থে - অনাবৃষ্টি, অনাদর। 'ছাড়া' অর্থে - অনাছিষ্টি, অনাচার। 'অশুভ' অর্থে - অনামুখো।
6. 'গৃহিণী' কোন ধরনের শব্দ?
ক)
দেশি
খ)
অর্ধ-তৎসম
গ)
সংস্কৃত
ঘ)
তদভব
উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা:
তৎসম শব্দ: যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ। - তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ [তৎ (তার) সম (সমান)] = তার সমান অর্থাৎ সংস্কৃত। উদাহরণ: - চন্দ্র, - সূর্য, নক্ষত্র, জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, বৈষ্ণব, কুৎসিত, ভবন, ধর্ম, পাত্র, - মনুষ্য ইত্যাদি।
আরও পড়ুন:
7. 'চিরস্থায়ী' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
ক)
দ্বন্দ্ব সমাস
খ)
কর্মধারয় সমাস
গ)
বহুব্রীহি সমাস
ঘ)
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা:
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: চির কাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। চির কাল ব্যাপিয়া স্থায়ী = চিরস্থায়ী। চির কাল ব্যাপিয়া স্মরণীয় = চিরস্মরণীয়। চির কাল ব্যাপিয়া শত্রু = চিরশত্রু। এরকম: দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদাপন্ন, গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবোনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানো (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।
8. নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
ক)
বর্ণনা
খ)
ব্যাকরণ
গ)
ত্রিনয়ণ
ঘ)
কঙ্কণ
উত্তর:
ত্রিনয়ণ
ব্যাখ্যা:
অশুদ্ধ- ত্রিনয়ণ। ণ-ত্ব বিধান: বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান। 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম: - ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি। - ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি। কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।
9. 'যা বলা হচ্ছে' এক কথায় কী বলে?
ক)
বক্ষ্যমাণ
খ)
বক্তব্য
গ)
উক্ত
ঘ)
কথ্য
উত্তর:
বক্ষ্যমাণ
ব্যাখ্যা:
'যা বলা হচ্ছে' এক কথায় বলে- বক্ষ্যমাণ। অন্যদিকে, 'যা বলা হবে' এক কথায় বলে বক্তব্য। 'যা বলা হয়েছে' এক কথায় বলে - উক্ত। লিখিত নয় এমন, কথনযোগ্য - কথ্য।
10. 'মেদিনী' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
ক)
ভূধর
খ)
অগ
গ)
অবনি
ঘ)
অচল
উত্তর:
অবনি
ব্যাখ্যা:
মেদিনী' শব্দের সমার্থক শব্দ- অবনি। 'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ: ধরা, ধরণি, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা, ভূ, ভূমণ্ডল, অবনি, ক্ষিতি, মহী, বসুমতী, মেদিনী, জগৎ, মর্ত্যলোক, ব্রহ্মাণ্ড, বিশ্ব, অখিল, ভুবন, ভূমি, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভুবন, ভূলোক, উর্বী। অন্যদিকে, 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ: গিরি, শৈল, পাহাড়, ভূধর, নগ, অচল, শৃঙ্গধর, অগ, ক্ষিতিধর, পৃথিবীধর, পৃথ্বীধর।