1. ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে কোন গ্রন্থ রচনা করেন ?
a) মনসামঙ্গল
b) ধর্মমঙ্গল
c) অন্নদামঙ্গল
d) সারদামঙ্গল
Answer: অন্নদামঙ্গল
Explanation: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তাঁরই আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মধ্যযুগের শেষ বড় কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' রচনা করেন।
2. কোন কবি হোসেন শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় কাব্য রচনা করেন ?
a) রাম নিধিগুপ্ত
b) মালাধর বসু
c) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
d) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
Answer: মালাধর বসু
Explanation: সঠিক উত্তরটি হলো মালাধর বসু। তিনি গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহের (অথবা তাঁর পুত্র নসরৎ শাহ) পৃষ্ঠপোষকতায় বিখ্যাত কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' রচনা করেন এবং সুলতানের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন
3. মঙ্গলকাব্যে প্রধানত কোন ছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে ?
a) পয়ার ছন্দ
b) স্বরবৃত্ত ছন্দ
c) মুক্তক ছন্দ
d) গৈরিশ ছন্দ
Answer: পয়ার ছন্দ
Explanation: মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যগুলো সাধারণত পয়ার ছন্দে রচিত হতো। এটি তখনকার আখ্যান কাব্যের জনপ্রিয় ছন্দ ছিল।
4. গোবিন্দ দাস কতগুলো পদ রচনা করেছেন ?
a) প্রায় পাঁচশত
b) প্রায় ছয়শত
c) প্রায় সাতশত
d) প্রায় আটশত
Answer: প্রায় সাতশত
Explanation: গোবিন্দ দাস বৈষ্ণব পদাবলীর অত্যন্ত শক্তিশালী কবি ছিলেন। তিনি প্রায় সাতশত পদ রচনা করেছেন বলে ধারণা করা হয়।
5. ‘শ্রীকৃষ্ণ বিজয়’ এর রচয়িতা কে ?
a) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
b) ভারতচন্দ্র রায়
c) বিজয়গুপ্ত
d) মালাধর বসু
Answer: মালাধর বসু
Explanation: মালাধর বসু ভাগবতের কাহিনী অবলম্বনে 'শ্রীকৃষ্ণ বিজয়' কাব্য রচনা করেন এবং এর জন্য সুলতান কর্তৃক 'গুণরাজ খান' উপাধি পান।
6. কবি বিজয়গুপ্ত রচিত গ্রন্থের নাম কী ?
a) শ্রীকৃষ্ণ বিজয়
b) মনসামঙ্গল
c) পদ্মপুরাণ
d) মনসাবিজয়
Answer: মনসামঙ্গল
Explanation: কবি বিজয়গুপ্ত রচিত বিখ্যাত মঙ্গলকাব্যটির নাম মনসামঙ্গল (যা পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত)। তবে অপশনে দুটি নামই আলাদাভাবে থাকায়, সাধারণত অধিকাংশ সাহিত্য বিষয়ক পরীক্ষায় তাঁর গ্রন্থের নাম হিসেবে মনসামঙ্গল-কে প্রথম প্রধান উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সুতরাং, সঠিক উত্তরটি হলো: মনসামঙ্গল।
Read More:
7. বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে ?
a) শাহ মুহম্মদ সগীর
b) আলাওল
c) কোরেশী মাগন ঠাকুর
d) দৌলত কাজী
Answer: শাহ মুহম্মদ সগীর
Explanation: শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে স্বীকৃত। তিনি সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের আমলে 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্য রচনা করেন।
8. মহুয়া পালার নদের চাঁদ কোন এলাকার জমিদার-পুত্র ছিলেন ?
a) বামনকান্দার
b) ময়মনসিংহের
c) ভুবন ডাঙ্গার
d) পূর্ববঙ্গের
Answer: বামনকান্দার
Explanation: মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত বিখ্যাত 'মহুয়া' পালার নায়ক নদের চাঁদ বামনকান্দার জমিদার পুত্র ছিলেন।
9. বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ-
a) সেন শাসনামল
b) মুঘল শাসনামল
c) পাল শাসনামল
d) তুর্কি শাসনামল
Answer: তুর্কি শাসনামল
Explanation: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (ত্রয়োদশ থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগ) সময়কালকে সাধারণত 'অন্ধকার যুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়। তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক রূপান্তর ও যুদ্ধের কারণে এই ১৫০ বছরে কোনো উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায় না। অথচ, অপশনে প্রদত্ত শাসনামলগুলোর সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। যেমন, প্রাচীন যুগের অন্তর্গত পাল শাসনামলে (৭৫০–১১৫৮ খ্রিষ্টাব্দ) বৌদ্ধধর্মভিত্তিক সাহিত্যের বিকাশ ঘটে এবং বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন 'চর্যাপদ' মূলত এই আমলের শেষভাগেই রচিত হয়। পরবর্তী সেন শাসনামলে (১১৫৮–১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ) রাজারা সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চায় বেশি মনোযোগী ছিলেন এবং এই যুগের শেষভাগেই তুর্কি আক্রমণের মাধ্যমে সাহিত্যের স্বাভাবিক গতি সাময়িক ব্যাহত হয়। মধ্যযুগের অন্যতম সমৃদ্ধ অধ্যায় মুঘল শাসনামলে (১৫৭৬–১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ) রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি এবং কবি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’র মতো বিখ্যাত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান রচিত হয়। সবশেষে, ইংরেজ শাসনামলের (১৭৫৭–১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ) সূচনাপর্বেই ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের 'আধুনিক যুগ'-এর সূত্রপাত ঘটে, যা ছাপাখানার আবিষ্কার, গদ্যের বিকাশ এবং বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে এক বিশাল নবজাগরণ লাভ করে।
10. সাবিরিদ খান কোন জেলার অধিবাসী ছিলেন ?
a) ঢাকা
b) রাজশাহী
c) সিলেট
d) চট্টগ্রাম
Answer: চট্টগ্রাম
Explanation: কবি সাবিরিদ খান চট্টগ্রাম জেলার অধিবাসী ছিলেন। তিনি মধ্যযুগের একজন মুসলিম কবি ছিলেন।