Exams Study Jobs Teachers Students

ঐতিহাসিক স্থান,স্থাপনা ও জাদুঘর

General Knowledge 10 Questions By AsoporiTech Monalisa Admission & Job Prep

ঐতিহাসিক স্থান,স্থাপনা ও জাদুঘর নিয়ে যারা পড়াশোনা বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই পেজে 10টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা আপনার কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সাহায্য করবে। মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।

1. 'কান্তজিউ মন্দির' কোন জেলায় অবস্থিত?

ক) জয়পুরহাট
খ) কুমিল্লা
গ) রাঙামাটি
ঘ) দিনাজপুর
উত্তর: দিনাজপুর
ব্যাখ্যা: কান্তজিউ মন্দির (Kantajew Temple) বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলায়, কাহারোল উপজেলার কান্তনগর গ্রামে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত টেরাকোটা বা পোড়ামাটির শিল্পকর্মে সমৃদ্ধ একটি মধ্যযুগীয় মন্দির, যা < শ্রীকৃষ্ণ ও < রুক্মিণীকে উৎসর্গীকৃত।

2. বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত সাধারণত কোথায় হয়ে থাকে?

ক) বায়তুল মোকাররম, ঢাকা
খ) শাহ মখদুম মসজিদ, রাজশাহী
গ) জাতীয় ঈদগাহ, ঢাকা
ঘ) শোলাকিয়া, কিশোরগঞ্জ
উত্তর: শোলাকিয়া, কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা: কিশোরগঞ্জ জেলার শোলাকিয়া অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদের জামায়াতে তিন থেকে সাড়ে তিন লক্ষ লোকের জামায়াত হয়।

3. বাংলার প্রাচীনতম জায়গা কোনটি?

ক) সোনারগাঁও
খ) বিক্রমপুর
গ) পুণ্ড্র
ঘ) গোপালগঞ্জ
উত্তর: পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের প্রাচীনতম স্থান হিসেবে মহাস্থানগড় (পুণ্ড্রবর্ধন) এবং উয়ারী-বটেশ্বর দুটিকেই বিবেচনা করা হয়, যেখানে মহাস্থানগড়কে প্রাচীনতম নগরী হিসেবে এবং উয়ারী-বটেশ্বরকে প্রায় তিন হাজার বছরের প্রাচীন নগর সভ্যতার নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়। মহাস্থানগড় খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল, যা বাংলার অন্যতম প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।

4. উত্তরা গণভবন কোথায় অবস্থিত?

ক) রাজশাহী
খ) নওগাঁ
গ) বগুড়া
ঘ) নাটোর
উত্তর: নাটোর
ব্যাখ্যা: নাটোর শহর থেকে ৩ কিলোমিটার উত্তরে এক মনোরম পরিবেশে ইতিহাস খ্যাত দিঘাপতিয়ারাজবাড়ী তথা উত্তরা গণভবন অবস্থিত। নাটোরের রাণী ভবানী তাঁর নায়েব দয়ারামেরউপরে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে দিঘাপতিয়া পরগনা উপহার দেন। ১৯৪৭ সালে তৎকালীনপাকিস্তান সরকার জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করার পর ১৯৫২ সালে দিঘাপতিয়ার শেষরাজা প্রতিভানাথ রায় সপরিবারে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে কলকাতায় চলে যান।পরবর্তীতে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত রাজ প্রাসাদটি পরিত্যাক্ত থাকে।

5. বড় কাটরা ও ছোট কাটরা ঢাকা শহরের নিম্নোক্ত যে এলাকায় অবস্থিত?

ক) চকবাজার
খ) সদরঘাট
গ) লালবাগ
ঘ) ইসলামপুর
উত্তর: চকবাজার
ব্যাখ্যা: বড় কাটরা ও ছোট কাটরা উভয়ই পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত, যেখানে বড় কাটরা চকবাজারের দক্ষিণে এবং ছোট কাটরা বড় কাটরার প্রায় ২০০ মিটার পূর্বে হেকিম হাবিবুর রহমান লেনে অবস্থিত। এই ঐতিহাসিক স্থাপনা দুটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল, যা মূলত সরাইখানা বা বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহৃত হত।

6. বাগেরহাটে খান জাহান আলীর প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি কত গম্বুজ বিশিষ্ট?

ক) ৮০
খ) ৮১
গ) ৬০
ঘ) ৬৪
উত্তর: ৮১
ব্যাখ্যা: খান জাহান আলীর প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাটের বিখ্যাত মসজিদটির নাম ষাট গম্বুজ মসজিদ, কিন্তু এর গম্বুজের সংখ্যা ৭৭টি (প্রধান অংশে) এবং চারটি মিনারের চারটি মিলে মোট ৮১টি। যদিও এর নাম 'ষাট গম্বুজ', তবে এটি মূলত সুলতানি আমলে নির্মিত বাংলাদেশের বৃহত্তম মসজিদগুলোর একটি।

7. লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরের সমাধিতে সমাহিত শায়েস্তা খানের এক কন্যার আসল নাম-

ক) পরীবিবি
খ) ইরান দুখত
গ) জাহানারা
ঘ) মরিয়ম
উত্তর: ইরান দুখত
ব্যাখ্যা: শায়েস্তা খানের কন্যা পরীবিবির আসল নাম ইরান দুখ্ত। ১৬৮৪ সালে পরীবিবির মৃত্যু হলে লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরেই তার সমাধি নির্মাণ করেন।

8. লালবাগের কেল্লা স্থাপন করেন কে?

ক) শায়েস্তা খান
খ) শাহ সুজা
গ) টিপু সুলতান
ঘ) ইসলাম খান
উত্তর: শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা: লালবাগের কেল্লা (কিলা আওরঙ্গবাদ) ঢাকার দক্ষিণ - পশ্চিমাঞ্চলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ। এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৬৭৮ সালে, মুঘল সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ কর্তৃক, যিনি ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র এবং পরবর্তীতে নিজেও সম্রাট পদপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। তার উত্তরসুরী, মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন, কিন্তু শেষ করেননি।

9. প্রাচীন গৌড় নগরীর অংশবিশেষ বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?

ক) কুষ্টিয়া
খ) বগুড়া
গ) কুমিল্লা
ঘ) চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর: চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা: প্রাচীন গৌড় নগরীর অংশবিশেষ বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। গৌড় বাংলার এককালীন রাজধানী এবং অধুনা ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি নগর যার অবস্থান বর্তমান ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। এটি লক্ষণাবতী নামেও পরিচিত। প্রাচীন এই দুর্গনগরীর অধিকাংশ পড়েছে বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদা জেলায় এবং কিছু অংশ পড়েছে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। শহরটির অবস্থান ছিল গঙ্গানদীর পূর্ব পাড়ে, রাজমহল থেকে ৪০ কি:মি: ভাটিতে এবং মালদার ১২ কি:মি: দক্ষিণে। তবে গঙ্গানদীর বর্তমান প্রবাহ গৌড়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে অনেক দূরে।

10. প্রাচীন 'পুন্ড্রনগর' কোন স্থানে অবস্থিত ছিল?

ক) ময়নামতি
খ) বিক্রমপুর
গ) মহাস্থানগড়
ঘ) পাহাড়পুর
উত্তর: মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা: প্রাচীন "পুণ্ড্রনগর" মহাস্থানগড়ে অবস্থিত। মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। প্রসিদ্ধ এই নগরী ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামেও পরিচিত ছিল। এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল। যিশু খ্রিষ্টের জন্মেরও আগে অর্থাৎ প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে এখানে সভ্য জনপদ গড়ে উঠেছিল প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবেই তার প্রমাণ মিলেছে। ২০১৬ সালে এটি সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা হয়।

আশা করি ঐতিহাসিক স্থান,স্থাপনা ও জাদুঘর এর এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে। এ ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, মডেল টেস্ট এবং পড়াশোনার আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। আপনার কোনো মতামত বা সংশোধন থাকলে অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্নের নিচে দেওয়া 'রিপোর্ট' অপশন থেকে আমাদের জানাতে পারেন।

ভুল সংশোধন রিপোর্ট