1. বাংলা ভাষারীতির কয়টি রূপ?
ক)
২
খ)
৩
গ)
৪
ঘ)
৬
উত্তর:
২
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রুপের দুটো রীতি রয়েছে: একটি চলিত রীতি (standard colloquial Style), অপরটি সাধু রীতি (Standard written form )।
2. সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার কোনরূপে বিদ্যমান?
ক)
আঞ্চলিক
খ)
উপভাষা
গ)
লেখ্য
ঘ)
কথ্য
উত্তর:
লেখ্য
ব্যাখ্যা:
সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার লেখ্য (written) এবং কথ্য (spoken) রূপের দুটি প্রধান রীতি, যেখানে সাধু ভাষা মূলত লিখিত ও গুরুগম্ভীর সাহিত্যিক রূপ এবং চলিত ভাষা সর্বজনবোধ্য কথ্য ও লেখ্য রূপ হিসেবে বর্তমানে বেশি প্রচলিত, যা মুখের ভাষার কাছাকাছি।
3. 'সাধুভাষা' পরিভাষাটি প্রথম ব্যবহার করেন-
ক)
রাজা রামমোহন রায়
খ)
রাজা মনিমোহন রায়
গ)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঘ)
অক্ষয় কুমার দত্ত
উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা:
সর্ব প্রথম 'সাধুভাষা' কথাটি ব্যবহার করেন - রাজা রামমোহন রায় ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর 'বেদান্ত গ্রন্থে'।
4. কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
ক)
গাম্ভীর্য
খ)
তদ্ভব শব্দ বহুল
গ)
তৎসম শব্দের বহুল ব্যবহার
ঘ)
প্রমিত উচ্চারণ
উত্তর:
তদ্ভব শব্দ বহুল
ব্যাখ্যা:
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য: ১. চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। কালের পরিক্রমায় ইহা পরিবর্তিত হয়। ২. এটি লৈখিক ও মৌখিক উভয় রূপ আছে। ৩. এটি তরুণ শব্দ বহুল ৪. এটি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য ৫. চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপথ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমন ঘটে। ৬. এই ভাষা নাটকের সংলাপ বক্তৃতা এবং আলাপ-আলোচনার উপযোগী।
5. কোন ভাষা রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট?
ক)
চলিত রীতি
খ)
কথ্য রীতি
গ)
লেখ্য রীতি
ঘ)
সাধু রীতি
উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা:
যে ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট, তা হলো সাধু ভাষা বা সাধু রীতি; এটি ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে এবং এতে তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের ব্যবহার বেশি, যা বাক্যকে গুরুগম্ভীর ও সুশৃঙ্খল করে তোলে।
6. ভাষার কোন রীতি পরিবর্তনশীল?
ক)
সাধু
খ)
চলিত
গ)
কথ্য
ঘ)
লেখ্য
উত্তর:
চলিত
ব্যাখ্যা:
ভাষার চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। যে ভাষারীতিতে ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ সংক্ষিপ্ত আকারে বিদ্যমান থাকে, তাকে চলিত ভাষা বলে। উদাহরণ: তারা কাজ করছে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমের বেড়ে গিয়েছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনো তার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে সে জন্যই তাড়া।
7. 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার কোন রীতিতে বেশি হয়?
ক)
চলিত রীতি
খ)
সাধু রীতি
গ)
মিশ্র রীতি
ঘ)
আঞ্চলিক রীতি
উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা:
তৎসম শব্দের ব্যবহার সাধু রীতি-তে বেশি হয়, কারণ সাধু ভাষা মূলত সংস্কৃতের কাছাকাছি এবং তৎসম শব্দগুলো (সংস্কৃত থেকে সরাসরি আসা অপরিবর্তিত শব্দ) সাধু রীতিতে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়, যা ভাষাকে গুরুগম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক করে তোলে; চলিত রীতিতে এর ব্যবহার কমে যায়, তবে মিশ্র রীতিতে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী থাকে, কিন্তু মূল ব্যবহার সাধু রীতিতেই বেশি।
8. সাধু ভাষা সাধারণত কোথায় অনুপযোগী?
ক)
কবিতার পঙক্তিতে
খ)
গানের কলিতে
গ)
গল্পের বর্ণনায়
ঘ)
নাটকের সংলাপে
উত্তর:
নাটকের সংলাপে
ব্যাখ্যা:
নাটকের সংলাপ ব্যতীত প্রায় সব জায়গায় সাধু ভাষার ব্যাবহার চলে।
9. সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়-
ক)
অব্যয়
খ)
সম্বোধন পদ
গ)
সর্বনাম
ঘ)
ক্রিয়া
উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা:
সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরুপে ব্যবহৃত হয় - - অব্যয়। ব্যাকরণের একটি পদ। বাক্যের মধ্যে ব্যবহারের সময় যে পদের কোনো পরিবর্তন ঘটে না তাকে অব্যয় পদ বলে। বাংলা ব্যাকরণ মতে– বাক্যে বা শব্দের সাথে ব্যবহৃত যে সকল ধ্বনি - বিভক্তি, বচন, লিঙ্গ ও কারকভেদে কোনভাবে পরিবর্তন হয় না, সে সকল পদকে অব্যয় বলে।
10. সাধু রীতিতে কোন পদটির দীর্ঘ রূপ হয় না?
ক)
বিশেষ্য
খ)
সর্বনাম
গ)
অব্যয়
ঘ)
ক্রিয়া
উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা:
সাধুরীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়ার পূর্ণ ও দীর্ঘরূপ ব্যবহৃত হয় এবং সাধু রীতিতে অব্যয় পদটির দীর্ঘরুপ হয় না।
11. চলিত ভাষার নিম্নের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
ক)
অনুসর্গ
খ)
বিশেষ্য
গ)
অব্যয়
ঘ)
উপসর্গ
উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা:
চলিত ভাষাতে অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার হয়। অনুসর্গগুলো প্রাতিপদিক এর পরে ব্যবহার হয়। চলিত রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যবহার হয়। এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সহজতর রূপ লাভ করে।
আরও পড়ুন:
12. 'বুনো' কোন ভাষারীতির শব্দ?
ক)
সাধু ভাষা
খ)
কথ্য ভাষা
গ)
আঞ্চলিক ভাষা
ঘ)
চলিত ভাষা
উত্তর:
চলিত ভাষা
ব্যাখ্যা:
সাধু - চলিত তুলা - তুলো শুকনা - শুকনো সহিত - সাথে পড়িল - পড়ল
13. কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
ক)
আজ
খ)
মিনতি
গ)
জল
ঘ)
জোসনা
উত্তর:
জোসনা
ব্যাখ্যা:
অর্ধ - তৎসম শব্দ: যে - সব সংস্কৃত শব্দ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে সেগুলোকে বলা হয় অর্ধ - তৎসম শব্দ। যেমনঃ জ্যোৎস্না>জ্যোছনা, শ্রাদ্ধ >ছেরাদ্দ, গৃহিণী>গিন্নী, বৈষ্ণব>বোষ্টম, কুৎসিত >কুচ্ছিত।
14. 'জুতো' শব্দটি কোন ভাষারীতির?
ক)
সাধু
খ)
চলিত
গ)
প্রাকৃত
ঘ)
কোল
উত্তর:
চলিত
ব্যাখ্যা:
সাধু - চলিত তুলা - তুলো শুকনা - শুকনো সহিত - সাথে পড়িল - পড়ল।
15. চলিত রীতির শব্দ কোনটি?
ক)
শুষ্ক
খ)
কুকনা
গ)
তুলা
ঘ)
তুলো
উত্তর:
তুলো
ব্যাখ্যা:
সাধু - চলিত তুলা - তুলো শুকনা - শুকনো সহিত - সাথে পড়িল - পড়ল
16. 'অদ্য' শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ?
ক)
চলিত
খ)
সাধু
গ)
প্রাকৃত
ঘ)
কোল
উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা:
অদ্য' শব্দটি সাধু ভাষারীতির উদাহরণ । 'অদ্য' শব্দের চলিত রুপ হলো এখন।
17. সাধু ভাষায় কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
ক)
এখনো সে ফিরে আসেনি
খ)
সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
গ)
তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন
ঘ)
তুমি তার কথা বিশ্বাস করো না
উত্তর:
সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
ব্যাখ্যা:
সে আসিবে বলিয়া ভরসা করিতেছি না" বাক্যটি একটি সাধু ভাষার বাক্য, যার চলিত রূপ হলো "সে আসবে বলে ভরসা করছি না" বা "সে আসবে বলে আশা করছি না"
18. ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়-
ক)
চলিত ভাষারীতিতে
খ)
সাধু ভাষারীতিতে
গ)
সমাজ উপভাষায়
ঘ)
আঞ্চলিক উপভাষায়
উত্তর:
সাধু ভাষারীতিতে
ব্যাখ্যা:
সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়। সাধুরীতি ব্যাকরণের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে এবং পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত। এ রীতিতে সর্বনাম , ক্রিয়া, ও অনুসর্গে র পূর্ণ রূপ ব্যবহার করা হয়। যেমন: আসিয়া (সাধু > এস (চলিত); তাহাকে (সাধু) তাকে (চলিত) ; অপেক্ষা (সাধু) > চেয়ে (চলিত)।
19. নাটকের সংলাপে উপযোগী ভাষার কোন রীতি?
ক)
সাধু
খ)
চলিত
গ)
আঞ্চলিক
ঘ)
মিশ্র
উত্তর:
চলিত
ব্যাখ্যা:
নাটকের সংলাপের জন্য চলিত ভাষা সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এটি সহজবোধ্য, স্বাভাবিক এবং শ্রোতাদের কাছে সহজে পৌঁছাতে পারে, যেখানে সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক হওয়ায় নাটকের স্বাভাবিক কথোপকথনের জন্য অনুপযোগী। তবে, নাটকের ধরন ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আঞ্চলিক ভাষা বা মিশ্র ভাষা ব্যবহার করা যেতে পারে, যা চরিত্র ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
20. কোন ভাষায় সাহিত্যের গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য প্রকাশ পায়?
ক)
কথ্য ভাষা
খ)
সাধু ভাষা
গ)
আঞ্চলিক ভাষা
ঘ)
চলিত ভাষা
উত্তর:
সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা:
সাধুভাষা ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুবির্দিষ্ট , তাই এ ভাষায় সাহিত্যের গাম্ভীর্য প্রকাশ পায়।