1. খাসিয়া গ্রামগুলো কি নামে পরিচিত?
ক)
ক) বারাং
খ)
খ) পুঞ্জি
গ)
গ) পাড়া
ঘ)
ঘ) মৌজা
উত্তর:
খ) পুঞ্জি
ব্যাখ্যা:
- খাসিয়া (বা খাসি) বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠি।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- এদের গাত্রবর্ণ হরিদ্রাভ, নাক-মুখ চেপ্টা, চোয়াল উঁচু, চোখ কালো ও ছোট টানা এবং খর্বকায়।
- খাসিয়ারা প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- তারা আসামে এসেছিল সম্ভবত তিববত থেকে। এক কালে এ উপজাতিরা ছিল যাযাবর।
- তাদের সে স্বভাব সাম্প্রতিক কালেও লক্ষণীয়।
- তাদের প্রধান আবাসস্থল উত্তর-পূর্ব ভারত।
- তবে পার্বত্য খাসিয়াদের বাসভূমি পশ্চিমে গারো পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে এরা নেমে এসেছিল চেরাপুঞ্জি ও শিলং খাসিয়া অঞ্চলে।
- পাহাড়-টিলা, ঝোপজঙ্গল এদের পছন্দনীয় পরিবেশ।
- কাঠ বা বাঁশের মঞ্চের উপর বারান্দাসহ এরা কুঁড়েঘর বানায়।
- বারান্দাই বৈঠক ঘর হিসেবে ব্যবহূত হয়।
- অধুনা বাঙালিদের মতো গৃহও নির্মাণ করে।
- বসত ঘরের সঙ্গেই রন্ধনশালা এবং সন্নিকটে থাকে পালিত শূকরের খোয়াড়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে। অন্যান্য সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন, স্বীয় সীমানায় ও সাংস্কৃতিক বলয়ে গ্রামগুলি পুঞ্জীভূত।
- জীবিকার তাগিদে দলেবলে স্থান ত্যাগ করে এরা নতুন পুঞ্জি রচনা করে।
2. কোনটি ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসব-
ক)
ক) বৈসু
খ)
খ) কের
গ)
গ) চুমলাই
ঘ)
ঘ) সবকটি
উত্তর:
ক) বৈসু
ব্যাখ্যা:
'বৈসুক' ত্রিপুরাদের প্রধান বর্ষবরণ উৎসব। চাকমা ও মারমা উপজাতির বর্ষবরণ উৎসব 'বিজু' ও 'সাংগ্রাই'। এই তিন উপজাতির তিন উৎসবকে একত্রে বৈসাবি (প্রথম অক্ষর নিয়ে) বলা হয়।
3. বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের নিজস্ব বর্ণমালা ও ভাষা আছে?
ক)
ক) চাকমা
খ)
খ) রাখাইন
গ)
গ) মণিপুরী
ঘ)
ঘ) সাঁওতাল
উত্তর:
ক) চাকমা
ব্যাখ্যা:
-পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি।
-ভাষিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে সংখ্যাগতভাবে এ দেশে বাংলা ভাষার পরে চাকমা ভাষার অবস্থান (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, চাকমা জনগোষ্ঠী চার লাখ ৪৪ হাজার)।
-ভাষাগত দিক থেকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষা অনেকটা কাছাকাছি।
-অনেক ভাষাবিদ তঞ্চঙ্গ্যা ভাষাকে চাকমা ভাষার উপভাষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে একটু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এ দুটি ভাষার মধ্যে উচ্চারণগত ভিন্নতা ছাড়া তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না।
-পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি ভিন্ন ভাষাভাষী জাতির মধ্যে চাকমারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। চাকমাদের আবাসস্থল পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও ভারতের মিজোরাম, অরুণাচল, ত্রিপুরা, আসাম ও মিয়ানমারে রয়েছে।
-সমগ্র পৃথিবীতে প্রায় ছয় লাখ লোক চাকমা ভাষায় কথা বলে।
-মূলত চাকমা ভাষা ইন্দো - ইউরোপীয় বৃহৎ ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
-পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চাকমা ও মারমাদের ছাড়া আর কোনো গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষার বর্ণমালা নেই।
4. ওয়ানগালা' উৎসব কাদের?
ক)
ক) গারোদের
খ)
খ) চাকমাদের
গ)
গ) মারমাদের
ঘ)
ঘ) রাখাইনদের
উত্তর:
ক) গারোদের
ব্যাখ্যা:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়াও শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার গারো উপজাতি বাস করে।
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক।
- গারোদের উৎসব ওয়ানগালা।
- গারোদের ভাষা মান্দি।
- গারোদের প্রধান দেবতা তাতারা রাবুগা।
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান।
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
5. নিচের কোন বাংলাদেশীয় উপজাতির পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক?
ক)
ক) গারো
খ)
খ) সাঁওতাল
গ)
গ) মারমা
ঘ)
ঘ) চাকমা
উত্তর:
ক) গারো
ব্যাখ্যা:
গারো সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ‘মান্দি’ হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। এরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল এবং গাজীপুরে বসবাস করে। এদের আদি নিবাস ছিল তিব্বতে। গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক। এদের ভাষার নাম আচিক খুসিক। এদের প্রধান উৎসব ওয়ানগালা।
• বাংলাদেশের মাতৃতান্ত্রিক উপজাতি — গারো, খাসিয়া।
• বাংলাদেশের পিতৃতান্ত্রিক উপজাতি— ৪৫টি উপজাতির মধ্যে গারো ও খাসিয়া ছাড়া বাকি ৪৩ টি উপজাতিই পিতৃতান্ত্রিক।
• মুসলমান উপজাতি-- পাঙন।
6. ফেবো' কি?
ক)
ক) চাকমা ভাষায় লিখিত উপন্যাস
খ)
খ) মারমা ভাষা লিখিত উপন্যাস
গ)
গ) পাহাড়ি এলাকায় চাষযোগ্য আমের জাত
ঘ)
ঘ) উপজাতিদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
উত্তর:
ক) চাকমা ভাষায় লিখিত উপন্যাস
ব্যাখ্যা:
• চাকমা ভাষায় লিখিত প্রথম উপন্যাস ফেবো।
• সম্পূর্ণ চাকমা বর্ণমালা ও ভাষায় দেবাশীষ চাকমার উপন্যাস ফেবো প্রকাশ হয় ২০০৪ সালে।
আরও পড়ুন:
7. জলকেলি কাদের উৎসব?
ক)
ক) গারো
খ)
খ) হাজং
গ)
গ) রাখাইন
ঘ)
ঘ) মারমা
উত্তর:
গ) রাখাইন
ব্যাখ্যা:
জলকেলি রাখাইনদের উৎসব। পুরাতন বছরের সকল গ্লানি, দুঃখ-কষ্ট এবং সকল অশুভ শক্তিকে বিদায় জানিয়ে মৈত্রিজালে বন্ধন সৃষ্টি এবং নতুন বছরে মঙ্গল কামনা করায় হলো এই জলকেলির উদ্দেশ্য। তবে জলকেলি কোনো ধর্মীয় উৎসব নয় এটি সামাজিক উৎসব।
✔ চাকমা ও তঞ্চঙ্গাদের বর্ষবরণ উৎসব- বিঝু
✔ রাখাইন ও মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব - সাংগ্রাই
✔ ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব - বৈসু।
8. বৈসাবি কি?
ক)
ক) উপজাতিদের সামগ্রিক বর্ষবরণ উৎসব
খ)
খ) খাসিয়াদের বর্ষবরণ উৎসব
গ)
গ) সাঁওতালদের বর্ষবরণ উৎসব
ঘ)
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর:
ক) উপজাতিদের সামগ্রিক বর্ষবরণ উৎসব
ব্যাখ্যা:
- বৈসাবি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধাণ ৩টি আদিবাসী সমাজের বর্ষ বরণ উৎসব।
- এটি তাদের প্রধাণ সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর একটি।
- এ উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুব, বৈসু বা বাইসু , মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত।
9. সাঁওতালদের গ্রাম প্রধানকে বলা হয়-
ক)
ক) গুরু
খ)
খ) মাঁঝি
গ)
গ) শেখ
ঘ)
ঘ) মাইতি
উত্তর:
খ) মাঁঝি
ব্যাখ্যা:
- সাঁওতালরা দলবদ্ধ ভাবে গ্রামে থাকতে পছন্দ করে এবং তাদের সামাজিক জীবনে সেই দলবদ্ধ গ্রামকে পরিচালনার জন্য গ্রামের একজনকে প্রধান আর তার সাথে একজন সহকারি প্রধান নিয়োগ করা হয় , যাদের যথাক্রমে মাঁঝি হাড়াম আর জোঁক মাঁঝি বলা হয়ে থাকে।
10. খাসিয়াদের প্রধান পেশা-
ক)
ক) পান চাষ
খ)
খ) চা চাষ
গ)
গ) জব চাষ
ঘ)
ঘ) গম চাষ
উত্তর:
ক) পান চাষ
ব্যাখ্যা:
- খাসিয়া জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে পান চাষের সাথে জড়িত।
- পান তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- পুরুষরা সাধারণত পান চাষ করে থাকেন,
- মহিলারা পান বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।