1. সাধু ভাষা ও চলিত ভাষার পার্থক্য?
ক)
ক) বাক্যের সরল ও জটিল রূপে
খ)
খ) শব্দের রূপগত ভিন্নতায়
গ)
গ) তৎসম ও অর্ধতৎসম শব্দের ব্যবহারে
ঘ)
ঘ) ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপগত ভিন্নতায়
উত্তর:
ঘ) ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপগত ভিন্নতায়
ব্যাখ্যা:
সাধু আর চলিত ভাষার পার্থক্যটি এইরকম- ১) সাধুভাষায় তৎসম অর্থাৎ সংস্কৃত শব্দ বেশি ব্যবহার করা হয়। চলিত ভাষায় তদ্ভব শব্দের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া চলিত ভাষায় বিদেশী শব্দের প্রয়োগ আনেক বেশি। ২) সাধুভাষায় সর্বনামের পুর্নরূপ ব্যবহার করা হয়। যেমন- তাহার, যাহার ইত্যাদি। কিন্তু চলিত ভাষায় সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়।যেমন- তার, যার ইত্যাদি। ৩) সাধুভাষায় ক্রিয়াপদের পুর্ণরূপ ব্যবহার করা হয় কিন্তু চলিতে সংক্ষিপ্ত রূপ দেখা যায়। যেমন- খাইতেছেন (সাধু), খাচ্ছেন(চলিত)। ৪) সাধুভাষায় বাক্যের পদবিন্যাস কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া। কিন্তু চলিত ভাষায় এই নিয়ম সবসময় মানা হয়না। যেমন- বইটা দাও তো আমাকে তুমি(চলিত) ৫) সাধুভাষায় সমাসবদ্ধ পদের সংখ্যা বেশি কিন্তু চলিত ভাষায় অনেক কম। ৬) সাধুভাষায় বানানের ক্ষেত্রে শব্দের মূলরূপটি মেনে চলা হয়। কিন্তু চলিত ভাষায় তৎসম শব্দগুলির বানানও হ্রস্ব হয়ে যায়। যেমন- পাখি, রুপো ইত্যাদি(চলিত)। ৭) আবার চলিত ভাষায় মুখের ভাষার রূপটিই গ্রহণ করা হয়। যেমন- দ্যাখ(দেখ)।
2. কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট ?
ক)
ক) কথ্য ভাষা
খ)
খ) লেখ্য ভাষা
গ)
গ) সাধু ভাষা
ঘ)
ঘ) চলিত ভাষা
উত্তর:
গ) সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা:
উনিশ শতকে বাংলা ভাষার যে লিখিত রুপ গড়ে উঠে তার নাম দেওয়া হয় 'সাধু ভাষা'। সাধু ভাষার বৈশিস্ট্য-
- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণরীতি অনুসরণ করে।
- সাধু রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী অর্থাৎ বক্তৃতা ও নাটকের সংলাপের জন্য সাধু ভাষা উপযোগী নয়।
- সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি অনুসরণ করে।
- সাধু ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লেখ্য ভাষা।
3. তৎসম শব্দের ব্যবহার কোন্ রীতিতে বেশি হয়?
ক)
ক) চলতি রীতি
খ)
খ) সাধু রীতি
গ)
গ) মিশ্র রীতি
ঘ)
ঘ) আঞ্চলিক রীতি
উত্তর:
খ) সাধু রীতি
ব্যাখ্যা:
ক. বাংলাভাষার লৈখিক রীতি দুটির একটি চলিত রীতি। চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
খ. যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রুপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ। সাধু রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল ।
গ. বাংলা ভাষায় মিশ্র রীতির ব্যবহার নেই।
ঘ. মৌখিক রীতির দুটি ভাগের একটি হলো আঞ্চলিক রীতি। বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক রীতির বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
4. আলালী বা হুতোমি ভাষা বলা হয় কোনটিকে?
ক)
ক) সাধু ভাষা
খ)
খ) চলিত ভাষা
গ)
গ) সংস্কৃত ভাষা
ঘ)
ঘ) দেশী ভাষা
উত্তর:
খ) চলিত ভাষা
ব্যাখ্যা:
আলালি ও হুতোমি ভাষা বলা হয় 'চলিত ' ভাষাকে ।
- বাংলা চলিত ভাষায় লেখা প্যারীচাঁদ মিত্রের (টেকচাঁদ ঠাকুর ) 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি (১৮৫৮) । এ থেকে 'আলালি ভাষা' প্রচলিত হয়।
- আবার কালীপ্রসন্ন সিংহ একই ভাষা রীতিতে রচনা করনে 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' উপন্যাসটি (১৮৬২) । এ থেকে 'হুতোমি ভাষা' প্রচলিত হয়।
5. চলিত ভাষার আদর্শরুপে গৃহীত ভাষাকে বলা হয়-
ক)
ক) সাধু ভাষা
খ)
খ) প্রমিত ভাষা
গ)
গ) আঞ্চলিক ভাষা
ঘ)
ঘ) উপভাষা
উত্তর:
খ) প্রমিত ভাষা
ব্যাখ্যা:
- সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে চলিত ভাষা বলে।
- চলিত ভাষার আদর্শরূপ থেকে গৃহীত ভাষাকে বলা হয় প্রমিত ভাষা।
- চলিত ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য প্রমিত উচ্চারণ।
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়।
- এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে।
- ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনাকালে এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’ ।
6. সাধু ভাষার শব্দে ‘ঙ্গ’-এর স্থলে চলিত ভাষার কোন কোমল রূপ ব্যবহৃত হয়?
ক)
ক) ং
খ)
খ) ঙ
গ)
গ) গ
ঘ)
ঘ) ঞ
উত্তর:
খ) ঙ
ব্যাখ্যা:
সাধু ভাষার শব্দে ‘ঙ্গ’-এর স্থলে চলিত ভাষার কোমল রূপ হিসেবে ঙ ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
লাঙ্গল > লাঙল
বাঙ্গালি > বাঙালি
আরও পড়ুন:
7. বাক্যরীতির অপর নাম কি?
ক)
ক) দলগত ক্রিয়াপদ
খ)
খ) বাগধারা
গ)
গ) মিশ্রবাক্য
ঘ)
ঘ) বাক্য প্রকরণ
উত্তর:
খ) বাগধারা
ব্যাখ্যা:
কোন শব্দ বা শব্দসমষ্টি বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে অর্থের দিক থেকে যখন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হয়ে উঠে, তখন সেই সকল শব্দ বা শব্দসমষ্টিকে বাগধারা বা বাক্যরীতি বলে। যেমন- ছেলে বংশের মুখ রক্ষা করবে। এখানে, মুখ রক্ষা= সম্মান বাচাঁঁনো। মুখ রক্ষা একটি বাগধারা।
8. ভাষার মৌলিক রীতি কোনটি?
ক)
ক) কথা বলার রীতি
খ)
খ) লেখার রীতি
গ)
গ) বলার ও লেখার রীতি
ঘ)
ঘ) আঞ্চলিক রীতি
উত্তর:
গ) বলার ও লেখার রীতি
ব্যাখ্যা:
মুখের ভাষা কে ব্রিটিশ ভাষাবিজ্ঞানী ত্রিস্টোফার ব্রুম্পফিট ও অন্য ভাষা তাত্বিকরা ভাষার মূল কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করেছেন।অন্যদিকে সাহিত্যের ভাষার জন্য কৃত্রিম সাধু রীতি তৈরি করে সাহিত্যে প্রযোগ করা হয়েছে। বলা চলে কথারীতি বা কথা বলার রীতি হলো ভাষার মৌলিক রীতি।
9. সাধু ভাষায় কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
ক)
ক) এখানে সে ফিরে আসেনি
খ)
খ) সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
গ)
গ) তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন
ঘ)
ঘ) তুমি তার কথা বিশ্বাস করো না
উত্তর:
খ) সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
ব্যাখ্যা:
-বাংলা লেখ্য সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট ।
-এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল ।
-এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে ।
10. সাধু ভাষা সাধারণত কোথায় অনুপযোগী?
ক)
ক) কবিতার পঙ্কিতে
খ)
খ) গানের কলিতে
গ)
গ) নাটকের সংলাপে
ঘ)
ঘ) গল্পের বর্ণনায়
উত্তর:
গ) নাটকের সংলাপে
ব্যাখ্যা:
উনিশ শতকে বাংলা ভাষার যে লিখিত রুপ গড়ে উঠে তার নাম দেওয়া হয় 'সাধু ভাষা'। সাধু ভাষার বৈশিস্ট্য- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণরীতি অনুসরণ করে। সাধু রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল। সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতায় অনুপযোগী অর্থাৎ বক্তৃতা ও নাটকের সংলাপের জন্য সাধু ভাষা উপযোগী নয়। সাধু রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি অনুসরণ করে। সাধু ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লেখ্য ভাষা।