1. কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ কোনটি?
ক)
আলেয়া
খ)
পুতুলের বিয়ে
গ)
ঝিলিমিলি
ঘ)
মধুমালা
উত্তর:
ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা:
ঝিলিমিলি' নাটক: - তিনটি ছোট নাটকের গ্রন্থ হচ্ছে 'ঝিলিমিলি'। - ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। - ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধন, শিল্পী নামের তিনটি ছোট নাটক এ গ্রন্থভুক্ত। কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম রচনাগুলো নিম্নরূপ: - কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'। - - কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ 'তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা'। - কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'ব্যথার দান'। কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নি-বীণা'। কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'যুগবাণী'। কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটক: - ঝিলিমিলি, আলেয়া,
2. 'রোহিনী' কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
ক)
দুর্গেশনন্দিনী
খ)
কৃষ্ণকান্তের উইল
গ)
বিষবৃক্ষ
ঘ)
মৃণালিনী
উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা:
রোহিণী'- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় রচিত "কৃষ্ণকান্তের উইল" উপন্যাসের চরিত্র। রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্নিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ: - দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা, - কপালকুণ্ডলা চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার - মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা। - বিষবৃক্ষ চরিত্র- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ
3. 'মাণিক রাজার গান" কোন ধরনের সাহিত্য?
ক)
পুর্ববঙ্গ গীতিকা
খ)
নাথগীতিকা
গ)
মৈমনসিংহ গীতিকা
ঘ)
উত্তরবঙ্গ গীতিকা
উত্তর:
নাথগীতিকা
ব্যাখ্যা:
নাথগীতিকা: স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে করলে 'নাথগীতিকা' সুধীসমাজের দৃষ্টি ঐতিহাসিক রচনা। - ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে আকর্ষণ করে। - এইগুলো এক এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বন্ধু প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন-এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব। নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন। নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত। - অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', ↑ 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান। 'গোপীচাঁদের সন্যাস' 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত। উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহববল আলম।
4. 'কায়কোবাদ' এর উপাধি -
ক)
কাব্যকণ্ঠ
খ)
কবিকণ্ঠহার
গ)
কবিকঙ্কন
ঘ)
কাব্যভূষণ
উত্তর:
কাব্যভূষণ
ব্যাখ্যা:
কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি -কাব্যভূষণ। কায়কোবাদ: কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। - তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়। - নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়। অন্যদিকে, 'কবিকণ্ঠহার' মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো। 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।
5. অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
ক)
শূন্যপুরাণ
খ)
নিরঞ্জনের রুষ্মা
গ)
কঙ্ক ও লীলা
ঘ)
সেক শুভোদয়া
উত্তর:
কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা:
কঙ্ক ও লীলা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত। অন্ধকার যুগ: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত। এই সময় বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাই অনেক লেখক এই সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলে থাকেন। - তথাকথিত অন্ধকার যুগে কোন সাহিত্য কর্ম পাওয়া যায় নি এ কথাটি সত্য নয়। - এ সমইয়ের প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়। এ সময়ের অন্যান্য সাহিত্য কর্ম: - রামাই পণ্ডিতের 'শূন্যপুরাণ' এবং 'কলিম জালাল' বা 'নিরঞ্জনের রুম্মা' - ডাক ও খনার বচন - হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া'
6. বিধবার প্রেম নিয়ে কোন সাহিত্যিক উপন্যাস রচনা করেছে?
ক)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শেষ প্রশ্ন'
খ)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি'
গ)
কাজী নজরুল ইসলামের 'কুহেলিকা'
ঘ)
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কপালকুণ্ডলা'
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি'
ব্যাখ্যা:
বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চোখের বালি'। চোখের বালি: - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চোখের বালি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। - উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশ পায়। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনোদিনী-শিক্ষিতা, সৌন্দর্যবর্তী, কিন্তু বাল্যবিধবা হওয়ায় সমাজ ও পরিবারের চোখে সে এক 'চোখের বালি', অর্থাৎ চক্ষুশূল। প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষ্মী। - এই উপন্যাসের বিশেষত্ব হলো চরিত্রগুলোর মনোজগতের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। - বিনোদিনীর আকাঙক্ষা, মহেন্দ্রর চঞ্চলতা এবং আশালতার সরলতা - প্রত্যেকটি মানসিক স্তরকে রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত নিপুণতাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। - উপন্যাসে বিনোদিনী, মহেন্দ্র এবং বিহারীর সম্পর্কই মূল দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
আরও পড়ুন:
7. চাঁদ সওদাগর বাংলা কোন কাব্যধারার প্রতিবাদী চরিত্র?
ক)
চণ্ডীমঙ্গল
খ)
মনসামঙ্গল
গ)
ধর্মমঙ্গল
ঘ)
অন্নদামঙ্গল
উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা:
চাঁদ সওদাগর বাংলা মনসামঙ্গল কাব্যধারার চরিত্র। মনসামঙ্গল: মনসামঙ্গল বাংলা মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যধারার সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধারা। - 'মনসামঙ্গল কাব্য'-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত। - তিনি 'পদ্মপুরাণ' নামে এই কাব্য রচনা করেন, যেখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর। - তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন। - এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে। 个 - মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে। - চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য-অনার্য সংঘাত দেব-মানব বিরোধ
8. কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
ক)
১৯২০ সালে
খ)
১৯২২ সালে
গ)
১৯২৪ সালে
ঘ)
১৯৩২ সালে
উত্তর:
১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা:
ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ: 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে। - এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই। 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো: - ব্যথার দান, হেনা, অতৃপ্ত কামনা, -বাদল-বরিষণে, - ঘুমের ঘোরে, - রাজবন্দীর চিঠি। কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত- প্রথম গ্রন্থ ও গল্পগ্রন্থ- 'ব্যথার দান'। প্রথম কাব্যগ্রন্থ- 'অগ্নি-বীণা'।
9. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন নাটকটি 'নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু'কে উৎসর্গ করেন?
ক)
তাসের দেশ
খ)
বসন্ত
গ)
কালের যাত্রা
ঘ)
ডাকঘর
উত্তর:
তাসের দেশ
ব্যাখ্যা:
তাসের দেশ' উপন্যাস: 'তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজেরই 'এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি। - রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে। রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ। - এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে। - এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বসন্ত' একটি গীতিনাট্য। এই নাটকেরা বিষয় হচ্ছে যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান। রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র
10. 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না।' চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে এই মন্তব্য করেন কে?
ক)
ড. সুকুমার সেন
খ)
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ)
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ঘ)
রাহুল সাংকৃত্যায়ন
উত্তর:
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ: চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' - চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য। চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা: বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড.