Exams Study Jobs Teachers Students

বাংলা সাহিত্য মিনি মডেল টেস্ট 03

NTRCA Exam 10 Questions By Circle of BCS

বাংলা সাহিত্য মিনি মডেল টেস্ট 03 নিয়ে যারা পড়াশোনা বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই পেজে 10টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা আপনার কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সাহায্য করবে। মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।

1. জসীম উদ্দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?

ক) রঙ্গিলা নায়ের মাঝি
খ) ডালিমকুমার
গ) পদ্মাপাড়
ঘ) মধুবালা
উত্তর: ডালিমকুমার
ব্যাখ্যা: জসীম উদ্দীন: কবি জসীম উদদীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। - পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। - তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত। - কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। - E.M Millford গ্রন্থটি "Field of the Embroidery Quilt" শিরোনামে অনুবাদ করেন। তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ: - হাসু, এক পয়সার বাঁশী, - ডালিমকুমার। তাঁর রচিত গানের সংকলন

2. 'অশীতিপর শর্মা' কার ছদ্মনাম?

ক) সমরেশ বসু
খ) অমিয় চক্রাবর্তী
গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। - তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। - পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক। সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। - বাংলা ভাষার নিজস্ব বান্ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত। - ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়। সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন -নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

3. 'মরুশিখা' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?

ক) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
খ) মোহিতলাল মজুমদার
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর: যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা: যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪): - আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম। - তিনি শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি (১৯১১) লাভ করে প্রথমে নদীয়া জেলাবোর্ড ও পরে কাসিমবাজার রাজ-এস্টেটের ওভারসিয়ার হন। চাকরির পাশাপাশি তিনি সাহিত্য চর্চাও শুরু করেন এবং অল্পকালের মধ্যেই কবি হিসেবে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা অর্জন করেন। - রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম। উপাধি: দুঃখবাদী কবি। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: - মরীচিকা, - মরুশিখা, ↑

4. 'গোরক্ষবিজয়' কোন ধারার সাহিত্য?

ক) লোকসাহিত্য
খ) মর্সিয়া সাহিত্য
গ) নাথসাহিত্য
ঘ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর: নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা: নাথসাহিত্য: - নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য। - এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর 'গোরক্ষবিজয়'। রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি। ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে। উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

5. গীতরত্ন' কোন ধরনের গানের সংকলন?

ক) মর্সিয়া
খ) মুর্শিদি
গ) টপ্পা
ঘ) ঠুমরী
উত্তর: টপ্পা
ব্যাখ্যা: রামনিধি গুপ্ত: - রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত। - ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন। - তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে 'গীতরত্ন' (১৮৩২)। তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা? উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

6. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার লেখক নয় কে?

ক) আলাওল
খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
গ) ঘনরাম চক্রবর্তী
ঘ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর: ঘনরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা: রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার লেখক নয় ঘনরাম চক্রবর্তী। তিনি ধর্মমঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি। রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান: - 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম। অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। -মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'। এই ধারার কবি হচ্ছেন: - শাহ মুহম্মদ সগীর, - সৈয়দ সুলতান, - আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। ↑

7. সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত কয়টি অংশ থাকে?

ক)
খ)
গ)
ঘ)
উত্তর:
ব্যাখ্যা: মঙ্গলকাব্য: - মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য। পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়। মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল। একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে। যথা: - বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, - মর্ত্যখণ্ড, শ্রুতিফল। 个

8. 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?

ক) ধনপতি সওদাগর
খ) চাঁদ সওদাগর
গ) ফুল্লরা
ঘ) লহলা
উত্তর: চাঁদ সওদাগর
ব্যাখ্যা: মনসামঙ্গল' কাব্য: মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম। 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'। মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত। সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। - চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান। দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে। এই কাব্যের চরিত্রগুলো হলো: বেহুলা, লখিন্দর, চাঁদ সওদাগর; - সনকা, সাপের দেবী মনসা। ↑

9. চর্যাপদ রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন-

ক) ভুসুকুপা
খ) কাহ্নপা
গ) সরহপা
ঘ) লুইপা
উত্তর: ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা: ভুসুকুপা: - চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা। তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে। নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব। - ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। - ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

10. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে চর্যাপদের রচনাকাল কোনটি?

ক) ৬৫০ - ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ
খ) ৬৫০ - ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
গ) ৬৫০-১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ
ঘ) ৯৫০ - ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর: ৬৫০ - ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা: চর্যাপদের রচনা কাল: - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০-১২০০ সালের মধ্যে রচিত। - ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০ - ১২০০ সালের মধ্যে এবং। - ড. সুকুমার সেনের মতে, ৯০০ ১৩৫০ সালের মধ্যে চর্যাপদ রচিত। চর্যাপদ: - চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। - এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। - ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। - চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। - চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। - অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন

আশা করি বাংলা সাহিত্য মিনি মডেল টেস্ট 03 এর এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে। এ ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, মডেল টেস্ট এবং পড়াশোনার আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। আপনার কোনো মতামত বা সংশোধন থাকলে অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্নের নিচে দেওয়া 'রিপোর্ট' অপশন থেকে আমাদের জানাতে পারেন।

ভুল সংশোধন রিপোর্ট