Exams Study Jobs Teachers Students

বাংলা (সেট ক)

Bengali Lesson 10 Questions By AsoporiTech Monalisa Admission & Job Prep

বাংলা (সেট ক) নিয়ে যারা পড়াশোনা বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই পেজে 10টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা আপনার কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সাহায্য করবে। মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।

1. বাংলা ভাষার মূল উৎস কোনটি

ক) কানাড়ি ভাষা
খ) বৈদিক ভাষা
গ) হিন্দি ভাষা
ঘ) প্রাকৃত ভাষা
উত্তর: প্রাকৃত ভাষা
ব্যাখ্যা: সংস্কৃত থেকে নয়, প্রাকৃত ভাষা থেকেই উদ্ভব ঘটেছে বাংলা ভাষার। প্রাচীন ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে মনের ভাব প্রকাশের নানা রীতি চালু ছিল। সেখান থেকেই অঞ্চলভেদে উৎপত্তি হয় ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতভাষা। আমাদের এই নদী বিধৌত পূর্ব অঞ্চলের মানুষেরা যে প্রকৃত ভাষায় কথা বলতে, তা হলো মাগধী।

2. বাংলা ভাষা কোন মূল ভাষা বংশের অন্তর্গত?

ক) অস্ট্রেলীয়
খ) ইন্দো-ইয়োরোপীয়
গ) ভারতীয়
ঘ) ইন্দো-ইরানীয়
উত্তর: ইন্দো-ইয়োরোপীয়
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষা ইন্দো - ইউরোপীয় মূল ভাষার অন্তর্গত। ইন্দো - ইউরোপীয় ভাষাসমূহ পৃথিবীর আদি ভাষা পরিবারের একটি। এই ভাষা পরিবারের অন্তর্গত ভাষা ও উপভাষাসমূহ বিশ্বের ৬টি মহাদেশে পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ইন্দো - ইউরোপীয় ভাষা ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিবর্তন হয়। হিন্দি, বাংলা, ইংরেজি, লাতিন, ফার্সি ও রুশ ছাড়াও বিশ্বের অনেক অনেক ভাষা এই পরিবারের অন্তর্গত। এথ্‌নোলগের মতে, বর্তমানে এই ভাষার ৪৪৫ টি জীবন্ত ভাষা সদস্য রয়েছে, যা একে বিশ্বের বৃহত্তম ভাষা পরিবারে পরিণত করেছে

3. বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে নিম্নোক্ত একটি ভাষা থেকে-

ক) সংস্কৃত
খ) পালি
গ) প্রাকৃত
ঘ) অপভ্রংশ
উত্তর: প্রাকৃত
ব্যাখ্যা: সংস্কৃত থেকে নয়, প্রাকৃত ভাষা থেকেই উদ্ভব ঘটেছে বাংলা ভাষার। প্রাচীন ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে মনের ভাব প্রকাশের নানা রীতি চালু ছিল। সেখান থেকেই অঞ্চলভেদে উৎপত্তি হয় ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতভাষা। আমাদের এই নদী বিধৌত পূর্ব অঞ্চলের মানুষেরা যে প্রকৃত ভাষায় কথা বলতে, তা হলো মাগধী।

4. ব্রজবুলি বলতে কী বোঝায়?

ক) ব্রজধামে কথিত ভাষা
খ) একরকম কৃত্রিম কবিভাষা
গ) বাংলা ও হিন্দির যোগফল
ঘ) মৈথিলি ভাষার একটি উপভাষা
উত্তর: একরকম কৃত্রিম কবিভাষা
ব্যাখ্যা: 'ব্রজবুলি' হলো মৈথিলী ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত এক প্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। এই ভাষায় বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন অনেক কবি, যাদের মধ্যে গোবিন্দদাস, বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস অন্যতম। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ব্রজবুজি ভাষায়' ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

5. বাংলা লিপির উৎস কি?

ক) সংস্কৃত লিপি
খ) চীনা লিপি
গ) আরবি লিপি
ঘ) ব্রাহ্মী লিপি
উত্তর: ব্রাহ্মী লিপি
ব্যাখ্যা: প্রাচীন ভারতীয় লিপি দুটি। ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী। ব্রাহ্মী লিপি তিন ভাগে বিভক্ত। পুর্বী লিপি, মধ্য ভারতীয় লিপি এবং পশ্চিমা লিপি। পুর্বী লিপির কুটিল রূপ হতে বাংলা লিপির উদ্ভব।

6. 'মোগো' আঞ্চলিক রূপের শিষ্ট পদ্যরূপ-

ক) আমাদিগের
খ) মোদের
গ) আমরা
ঘ) আমাদের
উত্তর: মোদের
ব্যাখ্যা: "মোগো" বরিশালের আঞ্চলিক ভাষা। এর শিষ্ট পদ্যরূপ "মোদের"। শুদ্ধ চলিত রূপ হলো - আমাদের। এবং সাধু রূপ হলো - আমাদিগকে। সঠিক উত্তর - মোদের।

7. বিভিন্ন অঞ্চলের মুখের ভাষাকে কি বলে?

ক) চলিত ভাষা
খ) সাধু ভাষা
গ) উপভাষা
ঘ) মিশ্রভাষা
উত্তর: উপভাষা
ব্যাখ্যা: বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) বলা হয়, যা একটি ভাষার অঞ্চলভেদে উচ্চারণ, শব্দচয়ন ও প্রয়োগে ভিন্নতা নির্দেশ করে এবং যা প্রমিত ভাষা থেকে আলাদা।

8. বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনির সংখ্যা কতটি?

ক) ৩৯
খ) ১১
গ) ৫৩
ঘ) ৪১
উত্তর: ৪১
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনির সংখ্যা ৪১টি ।বাংলা ভাষাতে ৭টি পূর্ণ স্বরধ্বনি আছে; এগুলিকে অ, আ, ই, উ, এ, ও এবং অ্যা বর্ণ দিয়ে নির্দেশ করা যায়।বাংলা ভাষায় ব্যঞ্জনধ্বনি আছে মোটামুটিভাবে ৩৪টি ক্, খ্, গ্, ঘ্, ঙ্, চ্, ছ্, জ্, ঝ্, ঞ্, ট্, ঠ্, ড্, ঢ্, ণ্, ত্, থ্, দ্, ধ্, ন্, প্, ফ্, ব্, ভ্, ম্, য়্, র্, ল্, শ্, ষ্, স্, হ্, ড়্, ঢ়্;।

9. বাংলা গদ্য কোন যুগের নিদর্শন?

ক) মধ্যযুগ
খ) প্রাচীনযুগ
গ) আধুনিক যুগ
ঘ) অন্ধকার যুগ
উত্তর: আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা: শিল্পসম্মত বাংলা গদ্য রীতির জনক হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অভিহিত করা হয়। তিনি বাংলা গদ্যের অবয়ব নির্মাণের যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। বিদ্যাসাগর গদ্যের অনুশীলন পর্যায়ে সুশৃঙ্খলতা, পরিমিতবোধ ও ধ্বনিপ্রবাহে অবিচ্ছিন্নতা সঞ্চার করে বাংলা গদ্য রীতিকে উৎকর্ষের এক উচ্চতর পরিসীমায় উন্নীত করেন।

10. মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন কোনটি?

ক) চিত্র
খ) লেখা
গ) ভাষা
ঘ) ইঙ্গিত
উত্তর: ভাষা
ব্যাখ্যা: ভাষা মানুষে - মানুষে যোগাযোগের প্রধানতম বাহন। ভাষার কতটুকু মানুষের কোন জন্মগত বৈশিষ্ট্য আর কতটুকু পরিবেশনির্ভর সে ব্যাপারে আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীদের মতভেদ আছে। তবে সবাই একমত যে স্বাভাবিক মানুষমাত্রেই ভাষা অর্জনের মানসিক ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়, এবং একবার ভাষার মূলসূত্রগুলি আয়ত্ত করে ফেলার পর বাকী জীবন ধরে মানুষ তার ভাষায় অসংখ্য নতুন নতুন বাক্য সৃষ্টি করতে পারে। এরকম অসীম প্রকাশক্ষমতাসম্পন্ন ভাষা একান্তই একটি মানবিক বৈশিষ্ট্য; মানুষ ছাড়া আর কোন প্রাণী এই ক্ষমতার অধিকারী নয়। প্রতিটি মানুষ ভাষা আয়ত্ত করার সহজাত বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নেয় এবং ঐ মানুষটি যে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক পর্যায়ের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিবেশ - বেষ্টিত ভাষিক সমাজের অন্তর্গত, সেই সমাজে সে দৈনন্দিন ভাষাপ্রয়োগের মাধ্যমে তার নিজস্ব ভাষাজ্ঞান বিকশিত করে।

আশা করি বাংলা (সেট ক) এর এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে। এ ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, মডেল টেস্ট এবং পড়াশোনার আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। আপনার কোনো মতামত বা সংশোধন থাকলে অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্নের নিচে দেওয়া 'রিপোর্ট' অপশন থেকে আমাদের জানাতে পারেন।

ভুল সংশোধন রিপোর্ট