1. 'গরু মাংস খায়' বাক্যটি অশুদ্ধ কেন?
ক)
আসত্তির অভাব
খ)
যোগ্যতার অভাব
গ)
অর্থ অস্পষ্ট বলে
ঘ)
পদবিন্যাসে ত্রুটি থাকা
উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
ব্যাখ্যা:
ভাষার বিচারে বাক্যের তিনটি গুণ থাকে।
যোগ্যতা বাক্যের একটি গুণ।
যোগ্যতা হলো বাক্যের পদ সমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধন ।
প্রদত্ত বাক্যটি যোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ - গরু মাংস খায় না ।
2. 'রোহিণী' চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
ক)
চরিত্রহীন
খ)
গৃহদাহ
গ)
কৃষ্ণকান্তের উইল
ঘ)
সংশপ্তক
উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা:
রোহিণী সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮)-এর অন্যতম প্রধান ও আলোচিত নারী চরিত্র। তিনি উপন্যাসের রূপবতী, চঞ্চলা ও বুদ্ধিদীপ্ত এক বিধবা নারী, যার সাথে গোবিন্দলাল ও ভ্রমরের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
3. উপমান কর্মধারয় সমাসের সঠিক উদাহরণ কোনটি?
ক)
চাঁদমুখ
খ)
তুষারশুভ্র
গ)
সিংহপুরুষ
ঘ)
মুখচন্দ্র
উত্তর:
তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা:
সাধারণ ধর্মবাচক বা গুণবাচক পদের সাথে উপমানবাচক (তুলনা করার বস্তু) পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। এক্ষেত্রে উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে একটি সাধারণ গুণ বর্তমান থাকে এবং তুলনাটি সাধারণত বাস্তবসম্মত হয়।
উপমান কর্মধারয় সমাসের সঠিক উদাহরণ হলো তুষারশুভ্র, অরুণরাঙা, কাজল-কালো ও শশব্যস্ত ইত্যাদি।
4. 'পূর্ববঙ্গ গীতিকার' লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?
ক)
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
খ)
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
গ)
চন্দ্রকুমার দে
ঘ)
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা:
পূর্ববঙ্গ গীতিকার (এবং মৈমনসিংহ গীতিকা) লোকপালাসমূহের প্রধান সংগ্রাহক হলেন বাংলার লোকসাহিত্য সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে। তিনি নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই অমূল্য লোকগীতিগুলো সংগ্রহ করেছিলেন।
5. 'তিনি অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু অন্তঃকরণ খুব উদার' কোন বাক্যের উদাহরণ?
ক)
জটিল বাক্য
খ)
মিশ্র বাক্য
গ)
সরল বাক্য
ঘ)
যৌগিক বাক্য
উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা:
যৌগিক বাক্যের সংজ্ঞা অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
'তিনি অত্যন্ত দরিদ্র কিন্তু অন্তঃকরণ খুব উদার' - এটি একটি যৌগিক বাক্য।
6. 'সমাস' ও 'কারক' ব্যাকরণের কোন অংশে অন্তর্ভুক্ত?
ক)
ধ্বনিতত্ত্বে
খ)
রূপতত্ত্বে
গ)
বাক্যতত্ত্বে
ঘ)
পদক্রমে
উত্তর:
রূপতত্ত্বে
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে সমাস এবং কারক প্রধানত শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্বে (Morphology) আলোচিত হয়। শব্দতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় হলো শব্দের গঠন, পদ, লিঙ্গ, বচন, উপসর্গ, বিভক্তি, সমাস ও কারক। তবে কিছু আধুনিক বিশ্লেষণে, কারক নির্ণয় ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে হওয়ার কারণে বাক্যতত্ত্ব (Syntax) অংশেও আলোচিত হয়।
7. 'গোরক্ষ বিজয়' কাব্য কোন ধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা?
ক)
শৈবধর্ম
খ)
বৌদ্ধ সহজযান
গ)
নাথধর্ম
ঘ)
কোনোটিই নয়
উত্তর:
নাথধর্ম
ব্যাখ্যা:
”গোরক্ষ বিজয়” কাব্য নাথধর্ম মতের কাহিনী অবলম্বনে লেখা ।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের নাথধর্মের কাহিনী অবলম্বনে রচিত শেখ ফয়জুল্লার একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ 'গোরক্ষ বিজয়' । এ কাব্যের কাহিনীতে নাথবিশ্বাস - জাত যোগের মহিমা এবং নারী - ব্যভিচারপ্রধান সমাজচিত্র রূপায়িত হয়েছে ।
8. নিচের কোনটি মিশ্র শব্দ?
ক)
ফটোকপি
খ)
হরতাল
গ)
আলকাতরা
ঘ)
খ্রিস্টাব্দ
উত্তর:
খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা:
'খ্রিস্টাব্দ' (ইংরেজি + তৎসম) একটি মিশ্র শব্দ। এছাড়া হেড-মৌলভী, পকেটমার, হাট-বাজার, চৌহদ্দি ইত্যাদিও মিশ্র শব্দের উদাহরণ। সাধারণত দুই ভিন্ন ভাষার (যেমন ইংরেজি+তৎসম, ফারসি+বাংলা, আরবি+ফারসি) মিলনে এই শব্দগুলো গঠিত হয়।
9. বৈষ্ণব পদাবলীর সঙ্গে কোন ভাষা সম্পর্কিত?
ক)
সন্ধ্যা ভাষা
খ)
অধিভাষা
গ)
ব্রজবুলি
ঘ)
সংস্কৃত ভাষা
উত্তর:
ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা:
রাধা - কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে বৌদ্ধ বা বৈষ্ণবীয় ধর্মের গূঢ় তত্ত্ব বিষয়ক সৃষ্ট পদ বা পদাবলিই ‘বৈষ্ণব পদাবলি'। ব্রজবুলি হলো বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে তৈরি এক প্রকার কৃত্রিম কবিভাষা। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এ ভাষার স্রষ্টা। এ ভাষা কখনো মানুষের মুখের ভাষা ছিল না; সাহিত্যকর্ম ব্যতীত অন্যত্র এর ব্যবহার নেই।
10. 'মাথা খাটিয়ে কাজ করবে' - এখানে 'মাথা' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক)
রোগ
খ)
বুদ্ধি
গ)
সামান্য
ঘ)
মস্তক
উত্তর:
বুদ্ধি
ব্যাখ্যা:
'মাথা খাটিয়ে কাজ করবে' - বাক্যাংশটিতে 'মাথা' শব্দটি 'বুদ্ধি' বা 'মেধা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে শারীরবৃত্তীয় অঙ্গের পরিবর্তে চিন্তা-ভাবনা, বিচার-বিবেচনা বা বুদ্ধি প্রয়োগ করে কাজ করার নির্দেশ বোঝানো হয়েছে।
11. মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কি?
ক)
মনসামঙ্গল
খ)
মনসাবিজয়
গ)
পদ্মপুরাণ
ঘ)
পদ্মাবতী
উত্তর:
পদ্মপুরাণ
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যে মঙ্গলকাব্য ধারার প্রাচীনতম কাব্য 'মনসামঙ্গল' ।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনী ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল।
- 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ' ।
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কানাহরি দত্ত;
- শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবে বিবেচনা করা হয় - দ্বিজ বংশীদাশকে।
- এই কাব্যের চরিত্রঃ বেহুলা, দেবী মনসা, লক্ষীন্দর, চাঁদ সওদাগর প্রমুখ।
12. কোনটি উভয়লিঙ্গ বাচক শব্দ?
ক)
দলনেতা
খ)
প্রিয়
গ)
মানুষ
ঘ)
টেবিল
উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা:
'মানুষ' শব্দটি উভলিঙ্গ বা জেন্ডার-নিরপেক্ষ শব্দ। এই শব্দটি দ্বারা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতিকে বোঝানো হয়, কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গ নয়। মানুষ শব্দটি নারীবাচক (যেমন- মা, মেয়ে) বা পুরুষবাচক (যেমন- বাবা, ছেলে) হিসেবে পৃথক না হয়ে, সামগ্রিক জাতি বা জাতিকে নির্দেশ করে।
13. 'জালি লাউয়ের ডগার মতোন বাহু দুখান সরু' কার সম্বন্ধে বলা হয়েছে?
ক)
সাজু
খ)
রুপাই
গ)
দুখী
ঘ)
সোজন
উত্তর:
রুপাই
ব্যাখ্যা:
উদ্বৃত লাইনটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের কাহিনীকাব্য 'নকসীকাথার মাঠ' থেকে সংগৃহীত। কাব্যটি নায়ক কিশোর রুপাই চাষার ছেলে , গায়ের রং কালো হলে ও কালো রুপে সে সমস্ত গ্রামটি আলো করে রেখেছে। নায়িকা সাজু রুপসী কিশোরী। সে চিত্র আঁকতে জানে, ফুল তুলতে জানে ,গান গাইতে জানে। লক্ষ্মী মেয়ে। রুপাই সম্বন্ধে কাব্যে আরো বলা হয়েছে - "এই গায়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল। কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল । কাঁচা ধানের পাতার মত কচি মুখের মায়া, - - - - - "।
14. 'হায়রে আমড়া কেবল আঁটি আর চামড়া' প্রবাদটির অর্থ কি?
ক)
অন্তঃসারশূন্য অবস্থা
খ)
অন্তসারশূন্য অবস্থা
গ)
শূন্য সারশূন্য অবস্থা
ঘ)
অন্ত সারশূন্য অবস্থা
উত্তর:
অন্তঃসারশূন্য অবস্থা
ব্যাখ্যা:
'হায়রে আমড়া কেবল আঁটি আর চামড়া' প্রবাদটির অর্থ হলো অন্তঃসারশূন্য অবস্থা বা বাহ্যিক চাকচিক্য থাকলেও ভেতরে কোনো গুণ বা যোগ্যতা না থাকা। এটি এমন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যার বাইরেটা বড় বা আকর্ষণীয় মনে হলেও ভেতরে আসলে কিছুই নেই বা অকেজো।
15. 'আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না, আড়ম্বর করি কাজ করি না, যাহা অনুশীলন করি, তাহা বিশ্বাস করি না'- এ উক্তিটি করেন-
ক)
কাজী নজরুল ইসলাম
খ)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ)
রাজা রামমোহন রায়
ঘ)
অরুন্ধতী রায়
উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা:
'আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না, আড়ম্বর করি কাজ করি না, যাহা অনুশীলন করি, তাহা বিশ্বাস করি না'—এই বিখ্যাত উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর । উক্তিটি তাঁর 'ব্যাধি ও প্রতিকার' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বাঙালির কাজের অভাব এবং ভণ্ডামির সমালোচনা করেছেন।
16. সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য কোন পদে বেশি দেখা যায়?
ক)
বিশেষ্য ও ক্রিয়া
খ)
বিশেষণ ও ক্রিয়া
গ)
বিশেষ্য ও বিশেষণ
ঘ)
ক্রিয়া ও সর্বনাম
উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা:
সাধু ও চলিত ভাষার মূল পার্থক্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে। সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনামের পূর্ণাঙ্গ রূপ (যেমন: করিয়াছে, তাহারা) ব্যবহৃত হয়, আর চলিত ভাষায় এগুলোর সংক্ষিপ্ত ও চলনসই রূপ (যেমন: করেছে, তারা) ব্যবহৃত হয়।
17. কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
ক)
১৯৭১
খ)
১৯২১
গ)
১৯২৫
ঘ)
১৮২১
উত্তর:
১৯২১
ব্যাখ্যা:
কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী “বিদ্রোহী” কবিতাটি ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি (২২ পৌষ ১৩২৮ বঙ্গাব্দ) ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি মূলত ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে রচিত হয়েছিল। পরবর্তীতে কবিতাটি ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত নজরুলের বিখ্যাত 'অগ্নিবীণা' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
18. 'কখন আসা হলো?' এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
ক)
কর্তৃবাচ্য
খ)
কর্মবাচ্য
গ)
ভাববাচ্য
ঘ)
করণবাচ্য
উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা:
যে বাচ্যে কর্তা বা কর্ম নয়, ক্রিয়াই প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন - তোমাদের কখন আসা হলো?
যে বাচ্যে কর্মই প্রধান হয়ে ওঠে এবং ক্রিয়া তাকেই অনুসরণ করে, তাকে বলা হয় কর্মবাচ্য।
যেমন - তোমাদের (দ্বারা) কর্তৃক কখন আসা হলো?
যে বাক্যে কর্তা ক্রিয়া নিস্পন্ন করে এবং বাক্যের মধ্যে প্রধানভাবে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন - তোমরা কখন এলে?
19. চর্যাপদের প্রথম রচয়িতা কে?
ক)
কাহ্নপা
খ)
ভুসুকুপা
গ)
লুইপা
ঘ)
শবরপা
উত্তর:
লুইপা
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের প্রথম পদটির রচয়িতা হলেন সিদ্ধাচার্য লুইপা (বা লুইপাদ)। তাঁর রচিত পদটি ‘কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল’ (কায়া তরুবর পঞ্চ বি ডাল) নামে পরিচিত। লুইপা চর্যাপদের সবচেয়ে আদি ও অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে গণ্য হন।
20. কোনটি 'সংগীত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ?
ক)
সম্ + গীত
খ)
সং + গীত
গ)
সংগী + ত
ঘ)
সংগ + ইত
উত্তর:
সম্ + গীত
ব্যাখ্যা:
আধুনিক বাংলায় ‘ম’ - এর পরে ক - বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ক - বর্গের নাসিক্য/ পঞ্চম ধ্বনি ‘ঙ’ - র বদলে ‘ং’ হয়। যেমন, ‘সম + গীত’ - এ ‘ম’ ও ‘গ (ক - বর্গীয় ধ্বনি)’ সন্ধি হয়ে ‘ম’, ‘ঙ’ না হয়ে ‘ং’ হয়ে ‘সংগীত’।
21. পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়-
ক)
তিরিশের কবিদের
খ)
চল্লিশের কবিদের
গ)
পঞ্চাশের কবিদের
ঘ)
রবীন্দ্রযুগের কবিদের
উত্তর:
তিরিশের কবিদের
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যে তিরিশের দশকের (১৯৩০-এর দশক) পাঁচজন বিশিষ্ট কবিকে 'পঞ্চপাণ্ডব' বলা হয়। তাঁরা রবীন্দ্র-প্রভাবের বাইরে গিয়ে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার সূচনা করেছিলেন।
22. 'এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে' এখানে 'বিষাদে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক)
কর্মে ৭মী
খ)
অপাদানে ৭মী
গ)
অধিকরণে ৭মী
ঘ)
কোনোটিই নয়
উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা:
এখানে বিষাদে করণে ৭মী বিভক্তি।
23. তেভাগা আন্দোলন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
ক)
অক্টোপাস
খ)
নাঢ়াই
গ)
কালো বরফ
ঘ)
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর:
নাঢ়াই
ব্যাখ্যা:
তেভাগা আন্দোলন কেন্দ্রিক অন্যতম প্রধান এবং উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো শওকত আলী রচিত 'নাঢ়াই' (২০০৫)। এই উপন্যাসে উত্তরবঙ্গের (বিশেষত দিনাজপুর) তেভাগা আন্দোলনের পটভূমি এবং কৃষকদের সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
24. কোন বানানটি অশুদ্ধ?
ক)
আবিষ্কার
খ)
পরিষ্কার
গ)
তিরষ্কার
ঘ)
পুরস্কার
উত্তর:
তিরষ্কার
ব্যাখ্যা:
অ কারন্তওে আ কারন্ত শব্দে যুক্ত বর্ণে ‘স’ হয় ।
যেমন: তিরস্কার, পুরস্কার।
অ কারন্ত ও আ কারন্ত ছাড়া অন্যস্বরে ‘ষ’ হবে।
যেমন: পরিষ্কার, আবিষ্কার।
25. 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক কে?
ক)
কাজী নজরুল ইসলাম
খ)
শাহাদাৎ হোসেন
গ)
সঞ্জয় ভট্টাচার্য
ঘ)
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর:
সঞ্জয় ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা:
বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে (১৯৩২ সালে) কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত বাংলা সাহিত্য পত্রিকা 'পূর্বাশা'-র সম্পাদক ছিলেন কবি সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এটি একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী সাহিত্য পত্রিকা ছিল, যা আধুনিক মনন-চর্চায় বিশেষ অবদান রেখেছিল।
26. 'যা পূর্বে ছিল এখন নেই'- এক কথায় কি হবে?
ক)
অপূর্ব
খ)
ভূতপূর্ব
গ)
অভূতপূর্ব
ঘ)
অদৃষ্টপূর্ব
উত্তর:
ভূতপূর্ব
ব্যাখ্যা:
যা পূর্বে ছিল এখন নেই = ভূতপূর্ব।
যা পূর্বে কখনো হয়নি = অভূতপূর্ব।
27. চন্দ্রাবতী কে ছিলেন?
ক)
প্রথম বাঙালি নারী ঔপন্যাসিক
খ)
প্রথম বাঙালি নারী প্রশাসক
গ)
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি
ঘ)
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারী নাট্যকার
উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি নারী কবি
ব্যাখ্যা:
চন্দ্রাবতী ( বাংলা : চন্দ্রাবতী ) ছিলেন একজন মধ্যযুগীয় বাঙালি কবি, যিনি ব্যাপকভাবে বাংলা ভাষার প্রথম পরিচিত মহিলা কবি হিসেবে বিবেচিত। তিনি প্রাচীন হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের তার নারী-কেন্দ্রিক বাংলা সংস্করণের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।
28. ঋ, র, ষ এর পরে কী হয়?
ক)
ণ
খ)
ন্য
গ)
ন
ঘ)
ণ্য
উত্তর:
ণ
ব্যাখ্যা:
ঋ, র (্র), রেফ (র্), ষ (ক্ষ) বর্ণের পরে দন্ত্য-ন না হয়ে মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বিষ্ণু, বরণ, ঘৃণা। যদি ঋ, র (্র), ষ (ক্ষ) বর্ণের পরে স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, ব, হ, য় অথবা অনুস্বার (ং) থাকে, তার পরবর্তী দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়ে যায়।
29. কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস?
ক)
শেষের কবিতা
খ)
গোরা
গ)
নৌকাডুবি
ঘ)
চোখের বালি
উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা:
১৯১০ সালে রচিত 'গোরা' উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম এবং অনেকের মতে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন, হিন্দু সংস্কার আন্দোলন, দেশপ্রেম, নারীমুক্তি, সামাজিক অধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই উপন্যাস রচিত। এপিক উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘতম উপন্যাস।
30. কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ নয়?
ক)
পিচাশ
খ)
রিসকা
গ)
ফাল
ঘ)
রাইৎ
উত্তর:
রাইৎ
ব্যাখ্যা:
'পিচাশ', 'রিসকা', এবং 'ফাল' হলো ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ, যেখানে শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি স্থান পরিবর্তন করে। কিন্তু 'রাইৎ' এই ধরনের পরিবর্তনের উদাহরণ নয়।
পিচাশ: 'পিশাচ' থেকে 'পিচাশ' হয়েছে, এখানে 'শ' এবং 'চ' এর মধ্যে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে।
রিসকা: 'রিক্সা' থেকে 'রিসকা' হয়েছে, এখানে 'ক' এবং 'স' এর মধ্যে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে।
ফাল: 'লাফ' থেকে 'ফাল' হয়েছে, এখানে 'ল' এবং 'ফ' এর মধ্যে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটেছে।
রাইৎ এটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ নয়, বরং 'রাত্র' শব্দের একটি রূপ, যেখানে 'ত্' এর সাথে 'ত' ধ্বনিটি যুক্ত হয়েছে।
31. কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
ক)
ঝরাপালক
খ)
রূপসী বাংলা
গ)
সাতটি তারার তিমির
ঘ)
জাগ্রত ধরিণী
উত্তর:
জাগ্রত ধরিণী
ব্যাখ্যা:
'জাগ্রত ধরিণী' বা 'জাগ্ৰত ধরণী' (কখনও কখনও 'জাগ্ৰত ধরণীর প্রাঙ্গণে' বা অনুরূপ শব্দবন্ধ) কাজী নজরুল ইসলামের রচনা। এটি একটি বিশেষ কবিতা বা কাব্যাংশ যা নজরুলের কাব্যশৈলী ও জাগরণী ভাবধারার সাথে সম্পর্কিত।
32. 'শর্বরী' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
ক)
দিবস
খ)
সুন্দর
গ)
শোভা
ঘ)
রূপসী
উত্তর:
দিবস
ব্যাখ্যা:
'শর্বরী' (অর্থ রাত বা রাত্রি) শব্দটির বিপরীত শব্দ হলো দিবস বা দিন। শর্বরী বলতে অন্ধকার রাতকে বোঝায়, তাই এর বিপরীত হিসেবে দিনের আলো বা দিবস উপযুক্ত।
33. 'সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত' বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
ক)
গুরুচন্ডালী দোষে
খ)
দুর্বোধ্যতা দোষে
গ)
উচ্চারণ দোষে
ঘ)
বাহুল্য দোষে
উত্তর:
বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা:
'সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত' বাক্যটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী একই বাক্যে দুইবার বহুবচনবোধক শব্দ বা চিহ্ন (যেমন: 'সকল' এবং 'গণ') ব্যবহার করা অনুচিত, যা বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করে।
34. কূল এর প্রতিশব্দ হলো
ক)
পুলিন
খ)
ধার
গ)
উভয়
ঘ)
একটিও নয়
উত্তর:
উভয়
ব্যাখ্যা:
এই প্রশ্নের উক্ত উত্তরের সঠিকতার কারণ হলো "কূল" শব্দটির প্রতিশব্দ হিসেবে "পুলিন" এবং "ধার" উভয়টি ব্যবহার করা যায়।
কূল: সাধারণত এটি একটি নদী, সাগর বা অন্য কোনো জলরাশির সাথের তটভূমির জন্য ব্যবহৃত হয়।
পুলিন: এটি মহিষ বা গবাদি পশুর কাছে জলাগমনের স্থান বোঝাতে ব্যবহার হয়।
ধার: এটি নদী বা সাগরের ধার, মানে জলরাশির পাশের এলাকা বোঝায়।
সে কারণে "উভয়" শব্দটি সঠিক উত্তর, কারণ এখানে দুইটি প্রতিশব্দই সঠিক অর্থ প্রকাশ করে।
35. 'তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হবনা কেন?'- এই প্রবাদটির রচয়িতা কে?
ক)
মীর মশাররফ হোসেন
খ)
কাজী নজরুল ইসলাম
গ)
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ঘ)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা:
'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?'—এই বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
এটি কোনো প্রবাদ নয়, বরং তাঁর রচিত বিখ্যাত রোমান্টিক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬)-এর একটি সংলাপ। উপন্যাসের নায়ক নবকুমার তার সঙ্গীগণের স্বার্থপরতা প্রসঙ্গে এই উক্তিটি করেছিলেন।