1. বাংলায় মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
ক)
ক) সৈয়দ আমীর আলী
খ)
খ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
গ)
গ) নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
ঘ)
ঘ) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
উত্তর:
খ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা:
- নওয়াব আব্দুল লতিফ : বাংলায় মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার প্রচেষ্টায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগ খোলা হয় এবং মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী করে তোলা হয়। তিনি ১৮৫৪ সালে রাজা রামমোহন রায় প্রতিষ্ঠিত হিন্দু কলেজকে প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করেন। ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি) প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ : ভারতের মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত স্যার সৈয়দ আহমদ ১৮৭৫ সালে 'মোহামেডান অ্যাংলো- ওরিয়েন্টাল কলেজ' স্থাপন করেন যা পরে ১৯২০ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ধারার সৃষ্টি হয় তা উপমহাদেশের ইতিহাসে ‘আলীগড় আন্দোলন' নামে পরিচিত।
- সৈয়দ আমীর আলী : মুসলমানদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের জন্য ১৮৭৭ সালে কলকাতায় 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পন্ডিত, বিশ্লেষক ও শক্তিশালী লেখক ছিলেন। 'The Sprit of Islam' তার লিখা একটি উল্লেখযোগ্য বই।
- নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ : ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দোসরদের ক্রমাগত আক্রমণ থেকে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্ম রক্ষায় তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ বা নিখিল ভারত মুসলিম লীগ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
2. ভারতবর্ষে কোন সনে সিপাহী বিদ্রোহ হয়?
ক)
ক) ১৭৫৭
খ)
খ) ১৮৫০
গ)
গ) ১৮৫৭
ঘ)
ঘ) ১৭৯৩
উত্তর:
গ) ১৮৫৭
ব্যাখ্যা:
- সিপাহি বিদ্রোহ ১৮৫৭ সালের ১০ মে মিরাট শহরে শুরু হওয়া ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর সিপাহিদের একটি বিদ্রোহ।
- ক্রমশ এই বিদ্রোহ গোটা উত্তর ও মধ্য ভারতে (অধুনা উত্তরপ্রদেশ, বিহার, উত্তর মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লি অঞ্চল ) ছড়িয়ে পড়েছিল।
- এই সব অঞ্চলে বিদ্রোহীদের দমন করতে কোম্পানিকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
- ১৮৫৮ সালের ২০ জুন গোয়ালিয়রে বিদ্রোহীদের পরাজয়ের পরই একমাত্র বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়।
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ, মহাবিদ্রোহ, ভারতীয় বিদ্রোহ, ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ও ১৮৫৮ সালের গণ-অভ্যুত্থান নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে।
3. ব্রিটিশ বণিকদের বিরুদ্ধে একজন চাকমা জুমিয়া নেতা বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়েছেন তার নাম-
ক)
ক) রাজা ত্রিদিব রায়
খ)
খ) রাজা ত্রিভুবন চাকমা
গ)
গ) জুম্মা খান
ঘ)
ঘ) জান বখস খাঁ
উত্তর:
ঘ) জান বখস খাঁ
ব্যাখ্যা:
- ১৭৬০ সালে পার্বত্য অঞ্চল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসার পর ইংরেজরা অধিক টাকার বিনিময়ে বাইরের লোকদের কাছে এ অঞ্চলের তুলা বা কার্পাস কর আদায়ের চুক্তি করে ইজারা দিতে থাকে।
- ফলে চাকমাদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে চাকমা দলপতি রাজা শের দৌলত ও তার সেনাপতি রামু খাঁর নেতৃত্বে ১৭৭৬ সালে প্রথমবার চাকমা বিদ্রোহ (অন্য নাম- কার্পাস বিদ্রোহ) সংঘটিত হয়।
- ১৭৮২ ও ১৭৮৪ সালে রামু খাঁর পুত্র জোয়ান বকস খাঁর (যিনি ‘জান বখশ খাঁ' নামেও পরিচিত) নেতৃত্বে আরো দুটি বিদ্রোহ হয়।
- সর্বশেষ বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৭৮৭ সালে।
- ইংরেজরা বার বার সৈন্য পাঠিয়েও বিদ্রোহ দমন করতে না পেরে অবশেষে ১৭৮৯ সালে চাকমা রাজার সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- অন্যদিকে, ব্রিটিশ বিরোধী অন্যতম জুমিয়া বা জুম্মা নেতা ছিলেন জুম্মা খান। যারা জুম চাষ করেন তাদের জুমিয়া বা জুম্মা বলা হয় ।
4. বাংলাদেশে ফরায়েজী আন্দোলনের সূচনাকারী কে?
ক)
ক) তিতুমীর
খ)
খ) হাজী মুহাম্মদ মুহসীন
গ)
গ) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
ঘ)
ঘ) হাজী দানেশ
উত্তর:
গ) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
ব্যাখ্যা:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল।
- ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ মুহসিন উদ্দিন ওরফে দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কারমূলক আন্দোলন।
5. তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী কে?
ক)
ক) সুমিত্রা দেবী
খ)
খ) তারামন বিবি
গ)
গ) ইলা মিত্র
ঘ)
ঘ) কাকন বিবি
উত্তর:
গ) ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা:
- বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামী কৃষক নেত্রী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
- তিনি ছাড়াও এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন- হাজী দানেশ, অজিত বসু, বিষ্ণু চট্টোপাধ্যায়, কংসারী হালদার, সুশীল সেন।
- বিপ্লবী জীবনধারণার বাইরে ইলা মিত্র ছিলেন একজন মেধাবী ছাত্রী ও এ্যাথলেট। সাঁতার, বাস্কেটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলায় তিনি ছিলেন পারদর্শী।
- তিনিই প্রথম বাঙালি মেয়ে যিনি ১৯৪০ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকের (২য় বিশ্বযুদ্ধের জন্য বাতিল হয়) জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- খেলাধুলা ছাড়াও গান, অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী।
- 'হিরোশিমার মেয়ে বইটির জন্য তিনি ‘সোভিয়েত ল্যান্ড নেহেরু' পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
6. চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুন্ঠিত হয় কোন সালে?
ক)
ক) ১৯১১ সালে
খ)
খ) ১৯১৫ সালে
গ)
গ) ১৯২১ সালে
ঘ)
ঘ) ১৯৩০ সালে
উত্তর:
ঘ) ১৯৩০ সালে
ব্যাখ্যা:
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন একটি অন্যতম সাহসিক ঘটনা।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে 'ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি'র (চট্টগ্রাম শাখা) সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।
- বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম পুলিশ ও অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগার দখল করে নেন এবং টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে চট্টগ্রামকে কিছু সময়ের জন্য ব্রিটিশ শাসনমুক্ত ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটি ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’ নামেও পরিচিত।
আরও পড়ুন:
7. মাস্টারদা সূর্যসেনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল-
ক)
ক) মেদিনীপুরে
খ)
খ) ব্যারাকপুরে
গ)
গ) চট্টগ্রামে
ঘ)
ঘ) কুমিল্লায়
উত্তর:
গ) চট্টগ্রামে
8. কত সালে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন?
ক)
ক) ১৯১৫
খ)
খ) ১৯১৯
গ)
গ) ১৯১৯
ঘ)
ঘ) ১৯২০
উত্তর:
ঘ) ১৯২০
ব্যাখ্যা:
অসহযোগ আন্দোলন মহাত্মা গান্ধী ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পরিচালিত ভারতব্যাপী অহিংস গণ-আইন অমান্য আন্দোলনগুলির মধ্যে সর্বপ্রথম। ১৯২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এই আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে “গান্ধী যুগ”-এর সূত্রপাত ঘটায়।
9. ফকির আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন?
ক)
ক) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
খ)
খ) মোসীন উদ্দীন দুখু মিয়া
গ)
গ) মজনু শাহ
ঘ)
ঘ) মাওলানা ভাসানী
উত্তর:
গ) মজনু শাহ
ব্যাখ্যা:
- মজনু শাহের নেতৃত্বে ফকিরগণ রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করে।
- ফকিরগণ মহাস্থানে একটি দুর্গ নির্মাণ করে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন হল এই ফকির সন্যাসী বিদ্রোহ।
10. সৈয়দ মীর নিসার আলী বাংলায় কী নামে পরিচিত?
ক)
ক) দুদু মিয়া
খ)
খ) সব্যসাচী
গ)
গ) তিতুমীর
ঘ)
ঘ) ফরায়েজি
উত্তর:
গ) তিতুমীর
ব্যাখ্যা:
- সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর নামেই অধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী নেতা।
- তিনি ১৮৩১ সালে বারাসাতের বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। এই বিদ্রোহের ফলে ব্রিটিশরা বাংলায় তাদের শাসন ব্যবস্থার উপর পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
- তিতুমীরের জন্ম ১৭৮২ সালে ঢাকার বাদুড়িয়া গ্রামে। তিনি ছিলেন একজন ধার্মিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ। তিনি ব্রিটিশদের শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংগ্রাম করেন।