1. হাজী মুহম্মদ মহসীনের বাড়ি কোথায়?
ক)
হুগলি
খ)
মুর্শিদাবাদ
গ)
রাজশাহী
ঘ)
মেদিনীপুর
উত্তর:
হুগলি
ব্যাখ্যা:
হাজী মুহম্মদ মহসীনের জন্ম হয়েছিল বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়, ১৭৩২ সালে। তাঁর পিতা মুহম্মদ ফয়জুল্লাহর আদি নিবাস ছিল পারস্য থেকে ভারতবর্ষে, এবং মহসীনের জীবন ও কর্মের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই হুগলি।
2. সমাজসেবক হলেও সমাজ সংস্কারক নন-
ক)
রাজা রামমোহন রায়
খ)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ)
হাজী মুহাম্মদ মহসীন
ঘ)
বেগম রোকেয়া
উত্তর:
হাজী মুহাম্মদ মহসীন
ব্যাখ্যা:
"সমাজসেবক হলেও সমাজ সংস্কারক নন" বলতে বোঝায় এমন একজন ব্যক্তি যিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে বা সামাজিক সেবা দিতে আগ্রহী, কিন্তু সমাজের মূল কাঠামো, প্রথা বা কুসংস্কার পরিবর্তন করার জন্য সরাসরি আন্দোলন বা প্রচেষ্টা চালান না; যেমন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন ছিলেন একজন বড় সমাজসেবক যিনি নিজের অর্থে শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, কিন্তু রাজা রামমোহন রায় বা বিদ্যাসাগরের মতো সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে সরাসরি সংস্কার আন্দোলন করেননি।
3. ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা হলেন-
ক)
রাজা রামমোহন রায়
খ)
কেশবচন্দ্র সেন
গ)
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ)
স্বামী বিবেকানন্দ
উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা:
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২/৭৪ - ১৮৩৩) হিন্দুধর্মের মহান সংস্কারক। পশ্চিম বাংলার রাধানগর গ্রামে এক রক্ষণশীল ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি আঠারো শতকের ভারতের গতানুগতিক সনাতনী শিক্ষা লাভ করেন।
4. রাজা রামমোহন রায় কোন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন?
ক)
সতীদাহ বিলোপ
খ)
নীলবিদ্রোহ
গ)
তেভাগা
ঘ)
বিধবা বিবাহ
উত্তর:
সতীদাহ বিলোপ
ব্যাখ্যা:
রাজা রামমোহন রায় প্রধানত ব্রাহ্ম সমাজ নামক ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন, যা ভারতে আধুনিক পুনর্জাগরণের সূচনা করে; তিনি সতীদাহ প্রথা বিলোপ, বিধবা বিবাহ, নারী শিক্ষা এবং বহুবিবাহ ও বর্ণপ্রথার বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যা আধুনিক ভারতের সামাজিক সংস্কারের ভিত্তি স্থাপন করে।
5. ভারতের মুসলিম জাগরণের প্রথম অগ্রদূত কে?
ক)
এ.কে ফজলুল হক
খ)
স্যার সৈয়দ আহমদ খান
গ)
নবাব সলিমুল্লাহ
ঘ)
আবুল কালাম আজাদ
উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা:
ভারতের মুসলিম জাগরণের প্রথম অগ্রদূত হলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান , যিনি মুসলিম সমাজে শিক্ষা, সমাজ ও সংস্কৃতির আধুনিকীকরণের জন্য 'আলীগড় আন্দোলন' শুরু করেন এবং মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ (যা পরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়) প্রতিষ্ঠা করেন, যা মুসলিম নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
6. কোন আন্দোলনটি ব্রিটিশ বিরোধী ছিল না?
ক)
অসহযোগ
খ)
খিলাফত
গ)
ফরায়েজি
ঘ)
আলীগড়
উত্তর:
আলীগড়
ব্যাখ্যা:
ব্রিটিশ বিরোধী নয় এমন আন্দোলন বলতে সাধারণত সেইসব আন্দোলনকে বোঝানো হয় যা সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং অভ্যন্তরীণ সংস্কার বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছিল, যেমন সৈয়দ আহমদ খানের আলীগড় আন্দোলন, যা মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষা ও সামাজিক উন্নতির জন্য ব্রিটিশদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছিল, অথবা এমন আন্দোলন যা সামন্ত প্রভু বা স্থানীয় শক্তির বিরুদ্ধে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হলেও, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ছিল।
7. কার নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন শুরু হয়?
ক)
সৈয়দ আমীর আলী
খ)
নবাব আব্দুল লতিফ
গ)
স্যার সৈয়দ আহমদ খান
ঘ)
ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা:
আলীগড় আন্দোলন শুরু হয়েছিল স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে, যিনি ভারতের মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কার আনার লক্ষ্যে এই আন্দোলনের সূচনা করেন এবং ১৮৭৫ সালে মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ (যা পরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় হয়) প্রতিষ্ঠা করেন, যা এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
8. আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কে?
ক)
সৈয়দ আমীর আলী
খ)
মওলানা আবুল কালাম আজাদ
গ)
স্যার সৈয়দ আহমদ
ঘ)
সৈয়দ আহমদ ব্রেলভী
উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ
ব্যাখ্যা:
আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান। তিনি ১৮৭৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি মুহাম্মদান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ (M.A.O. College) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ১৯২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
9. বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান কোন জেলায়?
ক)
রংপুর
খ)
দিনাজপুর
গ)
বগুড়া
ঘ)
রাজশাহী
উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের জন্মস্থান হলো বাংলাদেশের রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামের একটি জমিদার বাড়ি, যেখানে তিনি ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
10. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম সাল-
ক)
১৮৭০
খ)
১৮৭৫
গ)
১৮৮০
ঘ)
১৮৮৫
উত্তর:
১৮৮০
ব্যাখ্যা:
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম সাল ১৮৮০ সাল, এবং তিনি ৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
11. রোকেয়া দিবস কোন তারিখে পালিত হয়?
ক)
৯ ডিসেম্বর
খ)
১০ জানুয়ারি
গ)
১৫ ফেব্রুয়ারি
ঘ)
১০ এপ্রিল
উত্তর:
৯ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা:
রোকেয়া দিবস প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর পালিত হয়, যা নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি জাতীয় দিবস হিসেবে বাংলাদেশে সরকারিভাবে উদযাপিত হয়। এই দিনে তার নারী শিক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানকে স্মরণ করা হয় এবং এই উপলক্ষে 'বেগম রোকেয়া পদক' প্রদান করা হয়।
12. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি কোনটি?
ক)
চৌধুরী
খ)
চট্টোপাধ্যায়
গ)
চক্রবর্তী
ঘ)
বন্দোপাধ্যায়
উত্তর:
বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি ছিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার আসল নাম ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়; 'বিদ্যাসাগর' ছিল সংস্কৃত কলেজ থেকে প্রাপ্ত একটি সম্মানসূচক উপাধি, যা তার পাণ্ডিত্যের জন্য দেওয়া হয়েছিল।
13. আলীগড় ভারতের কোন রাজ্যে অবস্থিত?
ক)
মধ্য প্রদেশ
খ)
উত্তর প্রদেশ
গ)
পশ্চিমবঙ্গ
ঘ)
রাজস্থান
উত্তর:
উত্তর প্রদেশ
ব্যাখ্যা:
আলীগড় ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের একটি শহর ও জেলা, যা দেশের উত্তর অংশে অবস্থিত এবং < আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ও তালা শিল্পের জন্য সুপরিচিত।
14. কোন মনীষী সর্বপ্রথম বিধবা বিবাহের পক্ষে আন্দোলন করেন?
ক)
দাদাভাই নওরোজী
খ)
রাজা রামমোহন রায়
গ)
শ্রীনিভাস শাস্ত্রী
ঘ)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা:
বিধবা বিবাহের পক্ষে সর্বপ্রথম জোরালো ও কার্যকর আন্দোলন করেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয় এবং তিনি নিজ খরচে প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন করেন।
15. 'The Spirit of Islam' বইটির লেখক কে?
ক)
তিতুমীর
খ)
হাজী শরীয়তুল্লাহ
গ)
সৈয়দ আহমেদ
ঘ)
সৈয়দ আমির আলী
উত্তর:
সৈয়দ আমির আলী
ব্যাখ্যা:
সৈয়দ আমির আলী (জন্ম: ৬ই এপ্রিল, ১৮৪৯ - মৃত্যু: ৩রা আগস্ট, ১৯২৮) ছিলেন একজন ভারতীয় মুসলিম আইনজ্ঞ যিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম মুসলিম বিচারপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন একাধারে একজন আইনজ্ঞ, সমাজ সংস্কারক এবং লেখক। তিনি ইসলামের ইতিহাস নিয়ে কয়েকটি বিখ্যাত বই লিখেছিলেন। তার বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হল "দ্যা স্প্রিট অফ ইসলাম"। এই বইটিই পরবর্তীকালে ব্রিটিশ রাজের সময় ভারতের আইনে মুসলিম আইন প্রবর্তন করার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। সৈয়দ আমীর আলী অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। উনিশ শতকের আশির দশকে তিনি ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জাগরণের উদ্যোক্তা ছিলেন।
16. বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা কে?
ক)
তাসলিমা নাসরিন
খ)
হুমায়ুন আজাদ
গ)
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ঘ)
বেগম সুফিয়া কামাল
উত্তর:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা:
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নারীবাদী লেখিকা হিসেবে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে গণ্য করা হয়, যিনি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে পরিচিত, যদিও মধ্যযুগে চন্দ্রাবতী প্রথম নারী কবি হিসেবে পরিচিত এবং তিনি নারী-কেন্দ্রিক লেখনি (সীতার বঞ্চনা) দিয়েছিলেন, কিন্তু রোকেয়াকে আধুনিক নারীবাদী চেতনার পথিকৃৎ বলা হয়।
17. হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রবর্তক কে?
ক)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
খ)
রাজা রামমোহন রায়
গ)
ইয়ং বেঙ্গল গ্রুপ
ঘ)
দাদাভাই নওরোজী
উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা:
হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রবর্তক হলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও আন্দোলনের ফলেই ১৮৫৬ সালে 'হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন' পাশ হয় এবং তিনি প্রথম বিধবাবিবাহ সম্পন্ন করেন, যা সমাজে বিধবাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
18. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক নাম-
ক)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
খ)
ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
গ)
ঈশ্বর শর্মা
ঘ)
ঈশ্বরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রকৃত নাম ছিল ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়; 'বিদ্যাসাগর' তাঁর উপাধি, যা তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের জন্য কলকাতা সংস্কৃত কলেজের পণ্ডিতরা তাঁকে দিয়েছিলেন।
19. ঈশ্বরচন্দ্রকে কোন প্রতিষ্ঠান 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে?
ক)
প্রেসিডেন্সি কলেজ
খ)
সংস্কৃত কলেজ
গ)
বিদ্যাসাগর কলেজ
ঘ)
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর:
সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা:
ঈশ্বরচন্দ্রকে সংস্কৃত কলেজ 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দান করে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০ – ২৯ জুলাই ১৮৯১) উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার। তাঁর প্রকৃত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য প্রথম জীবনেই তিনি সংস্কৃত কলেজ থেকে ''বিদ্যাসাগর" উপাধি লাভ করেন। সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল তাঁর। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও অপরবোধ্য করে তোলেন। বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার তিনিই। তাঁকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী বলে অভিহিত করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি রচনা করেছেন যুগান্তকারী শিশুপাঠ্য বর্ণপরিচয় সহ একাধিক পাঠ্যপুস্তক, সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
20. বাংলায় মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
ক)
সৈয়দ আমীর আলী
খ)
নওয়াব আবদুল লতিফ
গ)
নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
ঘ)
স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা:
বাংলার মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই সালে তিনি কলকাতায় মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ সোসাইটির লক্ষ্য ছিল আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের স্বপক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং শিক্ষিত মুসলমান হিন্দু ও ইংরেজদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত কথা। তাঁর প্রচেষ্ঠায় কলকাতা মাদ্রাসায় ইস্ট - ফার্সি বিভাগ খোলা হয় এবং সেখানে উর্দু ও বাংলা ভাষা শিক্ষাদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাঁরই চেষ্টার ফলে মহসীন ফান্ডের টাকা মুসলমানদের শিক্ষার কাজে সংরক্ষিত করা হয়। রাজশাহী সরকারী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল।
21. ভারতের মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষা শিক্ষিত করার প্রয়াস পান যিনি-
ক)
হাজী শরীয়তুল্লাহ
খ)
তিতুমীর
গ)
নওয়াব আবদুল লতিফ
ঘ)
নবাব সলিমুল্লাহ
উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
22. সতীদাহ প্রথা প্রসঙ্গে রামমোহন রায়ের রচিত পুস্তক হলো-
ক)
দোলন চাঁপা
খ)
পথে হলো দেখা
গ)
পথের পাঁচালী
ঘ)
প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
উত্তর:
প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ
ব্যাখ্যা:
রামমোহন রায়, যিনি সচরাচর রাজা রামমোহন রায় বলে অভিহিত বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ। - তিনি প্রথম ভারতীয় যিনি ধর্মীয়-সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলন ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। - তিনি একজন বাঙালি দার্শনিক। তৎকালীন রাজনীতি, জনপ্রশাসন, ধর্ম এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পেরেছিলেন। - তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছেন সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার জন্য। - তিনি সতীদাহ অশাস্ত্রীয় এবং নীতিবিগর্হিত প্রমাণ করে পুস্তিকা লিখলেন 'প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ'। - রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ড যাত্রার আগে দ্বারকানাথ ঠাকুরে সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন। - পরবর্তীকালে এই ব্রাহ্মসমাজ এক সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন এবং বাংলার পুনর্জাগরণের পুরোধা হিসাবে কাজ করে।
23. মুসলিম শিক্ষা প্রসারে সম্পত্তি দান করেছেন কে?
ক)
সৈয়দ আমীর আলী
খ)
নওয়াব আবদুল লতিফ
গ)
হাজী মুহাম্মদ মহসীন
ঘ)
হাজী শরীয়তুল্লাহ
উত্তর:
হাজী মুহাম্মদ মহসীন
ব্যাখ্যা:
বাঙ্গালি মুসলমানই শুধু নয়, এই অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক, দাতব্য কর্মকাণ্ডে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি- সেই তালিকায় শীর্ষে থাকা একটি নাম হাজী মুহাম্মদ মুহসীন। নিজের সকল সম্পত্তি দান করা, শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারে ব্যয় করার জন্য এই অঞ্চলে 'দানবীর' হিসাবে খ্যাতি পেয়েছেন হাজী মুহাম্মদ মুহসীন।
24. সতীদাহ প্রথা রহিতকরণে কোন সমাজ সংস্কারের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য?
ক)
গোপালকৃষ্ণ গোখেল
খ)
রাজা রামমোহন রায়
গ)
সরোজিনী নাইড়ু
ঘ)
দাদাভাই নওরোজী
উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা:
সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন সদ্য বিধবা নারীকে স্বামীর চিতায় সহমরণ বা আত্মাহুতি দিতে বাধ্য করার এক অমানবিক প্রথা। - রাজা রামমোহন রায় ১৮১২ সালে সতীদাহ বিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন। - এপর ১৮২৮ সালে তিনি ব্রিটিশ গভর্নর লর্ড ইউলিয়াম বেন্টিংকের কাছে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার জন্য আবেদন করেন। - রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ৪ ডিসেম্বর, ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে আইন পাস করেন। - এর ফলে ভারতীয় হিন্দু সমাজ থেকে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত হয়।
25. কোন সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত থাকার জন্য স্যার সৈয়দ আহমদ খান অমর হয়ে আছে?
ক)
মুসলিম লীগ
খ)
ওয়াহাবি আন্দোলন
গ)
আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়
ঘ)
ঋণ সালিশি বোর্ড
উত্তর:
আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা:
স্যার সৈয়দ আহমদ ভারতের একজন বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ যিনি ঊনবিংশ শতাব্দীতে ভারতের মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেন। - তিনি ১৮৬৪ সালে গাজীপুরে ‘আলিগড় বৈজ্ঞানিক সমিতি’ যার উদ্দেশ্য ছিল পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বই ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ করা। - তিনি ১৮৭৬ সালে মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন যা পরবর্তীতে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিতি লাভ করে।