1. বাক্যের ক্রিয়ার সঙ্গে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলে?
ক)
বিশেষ্য ও বিশেষণ
খ)
বিশেষ্য ও সর্বনাম
গ)
বিশেষ্য ও অনুসর্গ
ঘ)
বিশেষণ ও আবেগ
উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা:
বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সম্পর্ককে কারক বলে, যার আক্ষরিক অর্থ 'যা ক্রিয়া সম্পাদন করে'। এই সম্পর্ক বোঝাতে নামপদের সঙ্গে বিভক্তি বা অনুসর্গ যুক্ত হয় এবং কারক ছয় প্রকার: কর্তৃ, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ।
2. ক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, তেমন কারকের নাম কী?
ক)
সম্বন্ধ
খ)
অপাদান
গ)
অধিকরণ
ঘ)
কর্তা
উত্তর:
সম্বন্ধ
ব্যাখ্যা:
কারকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। কিন্তু সম্বন্ধ পদের ক্ষেত্রে এর সরাসরি সম্পর্ক ক্রিয়ার সঙ্গে না হয়ে অন্য একটি বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সঙ্গে হয়।
যেমন: "রহিমের ভাই স্কুলে যায়।" এখানে 'যায়' (ক্রিয়া) এর সাথে 'ভাই'-এর সম্পর্ক আছে (কর্তৃকারক), কিন্তু 'রহিমের' পদের সাথে ক্রিয়ার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। 'রহিমের' সাথে সম্পর্ক কেবল 'ভাই' পদের।
এ কারণেই প্রথাগত ব্যাকরণে সম্বন্ধ পদকে প্রকৃত কারক হিসেবে গণ্য করা হয় না।
3. বাংলা ভাষায় কারকের সংখ্যা কয়টি?
ক)
তিন
খ)
চার
গ)
পাঁচ
ঘ)
ছয়
উত্তর:
ছয়
ব্যাখ্যা:
বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সম্পর্ককে কারক বলে, যার আক্ষরিক অর্থ 'যা ক্রিয়া সম্পাদন করে'। এই সম্পর্ক বোঝাতে নামপদের সঙ্গে বিভক্তি বা অনুসর্গ যুক্ত হয় এবং কারক ছয় প্রকার: কর্তৃ, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ।
4. 'আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম'- বাক্যটিতে আমরা কোন কারক?
ক)
কর্তা
খ)
কর্ম
গ)
করণ
ঘ)
অপাদান
উত্তর:
কর্তা
ব্যাখ্যা:
এখানে মুল কাজটি(রিকশা নেওয়া ) করেছে কর্তা (আমরা)
আমরা জানি ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয় তাকে কর্তাকারক বলে।
সুতরাং এটি কর্তাকারক।
5. যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কোন কারক বলে?
ক)
কর্তা
খ)
কর্ম
গ)
অধিকরণ
ঘ)
অপাদান
উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা:
যাকে আশ্রয় বা অবলম্বন করে কর্তা তার ক্রিয়া (কাজ) সম্পাদন করে, তাকে কর্মকারক (Object) বলে।
6. 'শিক্ষককে জানাও'- এই বাক্যে 'শিক্ষককে' কোন কারক?
ক)
অধিকরণ
খ)
অপাদান
গ)
কর্তা
ঘ)
কর্ম
উত্তর:
কর্ম
ব্যাখ্যা:
'শিক্ষককে জানাও'—বাক্যটিতে 'শিক্ষককে' হলো কর্ম কারক (দ্বিতীয়া বিভক্তি)।
7. 'ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়'- এই বাক্যে 'ভেড়া দিয়ে' কোন কারক?
ক)
সম্বন্ধ
খ)
কর্ম
গ)
করণ
ঘ)
কর্তা
উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা:
'ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়’—এই বাক্যে ‘ভেড়া দিয়ে’ হলো করণ কারক (তৃতীয়া বিভক্তি) । যেহেতু ‘ভেড়া’ এখানে চাষ বা হালচাষের একটি মাধ্যম বা উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই করণ কারকের নিয়ম অনুযায়ী এটি করণ কারক হয়।
8. 'জমি থেকে ফসল পাই'-বাক্যটিতে 'জমি থেকে' কোন কারক?
ক)
করণ
খ)
কর্ম
গ)
অপাদান
ঘ)
অধিকরণ
উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা:
যা থেকে কিছু উৎপন্ন, গৃহীত, ভীত, বা চ্যুত (বিচ্ছিন্ন) হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এখানে জমি থেকে ফসল উৎপন্ন বা গৃহীত হচ্ছে, তাই 'জমি থেকে' অপাদান কারক।
9. কোন কারকে মূলত ক্রিয়ার স্থান,সময় ইত্যাদি বোঝায়?
ক)
অপাদান
খ)
অধিকরণ
গ)
সম্বন্ধ
ঘ)
কর্ম
উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা:
ক্রিয়ার স্থান, সময়, বা আধার বোঝালে অধিকরণ কারক হয়, যেখানে 'এ/য়/তে' বিভক্তি যুক্ত হয় (যেমন: প্রাতে সূর্য ওঠে) এবং এটি কালাধিকরণ, আধারাধিকরণ ও ভাবাধিকরণে বিভক্ত, যা সময় (কাল), স্থান (আধার) এবং ভাব বোঝায়।
10. 'গাছের ফল পেকেছে'- এখানে 'গাছের' কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে?
ক)
র
খ)
এর
গ)
য়ের
ঘ)
এ
উত্তর:
এর
ব্যাখ্যা:
এই বাক্যে 'গাছ' শব্দের সাথে '-এর' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। এটি সম্বন্ধপদীয় বিভক্তি, যা সম্পর্ক নির্দেশ করে। এক্ষেত্রে, এটি নির্দেশ করছে যে ফলটি গাছের সাথে সম্পর্কিত বা গাছের অংশ।
বাংলা ভাষায় '-এর' বিভক্তির ব্যবহার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১. '-এর' বিভক্তি সাধারণত স্বরান্ত শব্দের (যে শব্দ স্বরবর্ণ দিয়ে শেষ হয়) সাথে যুক্ত হয়।
যেমন: গাছ + এর = গাছের, বই + এর = বইয়ের
২. ব্যঞ্জনান্ত শব্দের (যে শব্দ ব্যঞ্জনবর্ণ দিয়ে শেষ হয়) ক্ষেত্রে সাধারণত '-র' বিভক্তি ব্যবহৃত হয়।
যেমন: বাড়ি + র = বাড়ির, দেশ + র = দেশের।
11. কারক শব্দটির অর্থ-
ক)
যা পদকে সম্পাদন করে
খ)
যা সমাস সম্পাদন করে
গ)
যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
ঘ)
যা পদ ও সমাসকে সম্পাদন করে
উত্তর:
যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
ব্যাখ্যা:
"কারক” শব্দটির অর্থ - যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
'কারক' শব্দটির অর্থ ক্রীড়া সম্পাদক বা যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। যার সাহায্যে কোন বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদন করা হয় তাকে কারক বলা হয়।
12. ফুলদল দিয়া কাটিলা কি বিধি শাল্মলী তরুবরে?- এখানে কর্মকারক কোনটি?
ক)
ফুলদল
খ)
বিধি
গ)
কাটিলা
ঘ)
তরুবরে
উত্তর:
তরুবরে
ব্যাখ্যা:
বাক্যটির অর্থ হলো: বিধাতা কি শিমুল গাছকে (শাল্মলী তরু) ফুলের পাপড়ি (ফুলদল) দিয়ে কাটলেন?
১. কর্মকারক নির্ণয়:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়াকে 'কি' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: কাকে কাটলেন?
উত্তর: তরুবরে (তরুকে)। এখানে 'তরু' হচ্ছে কর্ম এবং এর সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
২. অন্যান্য পদের পরিচয়:
ফুলদল: এটি করণ কারক (কাটার উপকরণ বা মাধ্যম)।
विधि (বিধি): এটি কর্তৃকারক (যিনি কাটছেন)।
কাটিলা: এটি ক্রিয়াপদ।
13. রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন?
ক)
করণ কারক
খ)
সম্প্রদান কারক
গ)
অপাদান কারক
ঘ)
অধিকরণ কারক
উত্তর:
সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সম্প্রদান কারকের ব্যবহারকে যুক্তিহীন বলে অভিমত দিয়েছেন।
14. করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
ক)
ছাত্ররা বল খেলে
খ)
ডাক্তার ডাক
গ)
হামিদ বই পড়ে
ঘ)
বৃষ্টি পড়ে
উত্তর:
ছাত্ররা বল খেলে
ব্যাখ্যা:
করণ কারকে শূন্য বিভক্তির উদাহরণ বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর।
'করণ' শব্দের অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
করণ কারকে শূণ্য বা অ বিভক্তি। যেমন: ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।
কৃষক লাঙ্গল চষছে।
15. কোন বাক্যটি অপাদান কারক?
ক)
তিলে তৈল হয়
খ)
তিলে তৈল আছে
গ)
দীনে দয়া কর
ঘ)
লোকে বলে
উত্তর:
তিলে তৈল হয়
ব্যাখ্যা:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকেই অপাদান কারক বলে।
16. 'দুধ থেকে দই হয়' এখানে 'দুধ থেকে' কোন অর্থে অপাদান কারক?
ক)
জাত
খ)
আরম্ভ
গ)
গৃহীত
ঘ)
রক্ষিত
উত্তর:
গৃহীত
ব্যাখ্যা:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকেই অপাদান কারক বলে।
17. অধিকরণ কারক কত প্রকার?
ক)
২
খ)
৩
গ)
৪
ঘ)
৫
উত্তর:
৩
ব্যাখ্যা:
অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা -
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।
18. ভাবাধিকরণে সর্বদাই কোন বিভক্তি প্রয়োগ হয়?
ক)
চতুর্থী
খ)
তৃতীয়া
গ)
ষষ্ঠী
ঘ)
সপ্তমী
উত্তর:
সপ্তমী
ব্যাখ্যা:
ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয়। । এজন্যই ভাবাধিকরণ কারককে "ভাবে সপ্তমী" বলা হয়।
19. 'সম্বোধন' শব্দের অর্থ -
ক)
আহ্বান
খ)
নাম
গ)
পরিচয়
ঘ)
অভিবাদন
উত্তর:
আহ্বান
ব্যাখ্যা:
সম্বোধন শব্দের অর্থ হলো আহ্বান, ডাক, সম্ভাষণ বা কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা।
20. আধার-আধেয় সম্বন্ধ হলো-
ক)
টিনের দুধ
খ)
রাজশাহীর পদ্মা
গ)
যমুনা-সেতু
ঘ)
টর্চের আলো
উত্তর:
টিনের দুধ
ব্যাখ্যা:
আধার-আধেয় সম্বন্ধ: বাটির দুধ, শিশির ওষুধ। অভেদ সম্বন্ধ: জ্ঞানের আলো, দুঃখের দহন। উপমান-উপমেয় সম্বন্ধ: ননীর পুতুল, লোহার শরীর। বিশেষণ সম্বন্ধ: সুখের দিন, যৌবনের চাঞ্চল্য।
21. 'ব্যাপ্তি' অর্থে সম্বন্ধ পদ কোনটি?
ক)
রাজার রাজ্য
খ)
বাটির দুধ
গ)
দেশের লোক
ঘ)
রোজার ছুটি
উত্তর:
রোজার ছুটি
ব্যাখ্যা:
ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যের অন্য পদের সাতে সম্পর্কযুক্ত হয় তাকে সম্বন্ধ পদ বলে। এখানে ‘ব্যাপ্তি সম্বন্ধ’ অর্থ রোযার ছুটি’ ‘শরতের আকাশ’। উল্লেখ্য, অীদকরণ সম্বন্ধ হলো ‘ রাজার রাজ্য এবং আধার আধেয় হলো ‘ বাটির দুধ’ ।
22. 'অর্থ অনর্থ ঘটায়।' - 'অনর্থ' শব্দটির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় কর।
ক)
কর্তায় শূন্য
খ)
কর্মে শূন্য
গ)
করণে ২য়া
ঘ)
অপাদানে ২য়া
উত্তর:
কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা:
'অর্থ অনর্থ ঘটায়।' বাক্যে 'অনর্থ' শব্দটির কারক ও বিভক্তি হলো কর্ম কারকে শূন্য (০) বিভক্তি।
23. 'বাবা আদালতে গেছেন।'- এ বাক্যে 'আদালতে' কোন কারক?
ক)
কর্ম
খ)
সম্প্রদান
গ)
অপাদান
ঘ)
অধিকরণ
উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা:
'বাবা আদালতে গেছেন।'- এ বাক্যে 'আদালতে' শব্দটি অধিকরণ কারক (স্থান বা স্থানাধিকরণ) এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (-এ) যুক্ত হয়েছে। আদালত একটি স্থান, যেখানে ক্রিয়াটি সম্পাদিত হচ্ছে, তাই এটি অধিকরণ কারক।
24. 'হেথায় সবারে হবে মিলিবারে।' 'সবারে' কোন কারক?
ক)
কর্ম
খ)
অধিকরণ
গ)
কর্তৃ
ঘ)
করণ
উত্তর:
কর্তৃ
25. 'শুক্তিতে মুক্তা পাওয়া যায়।' বাক্যে 'শুক্তিতে' কোন কারক?
ক)
কর্তা
খ)
করণ
গ)
অপাদান
ঘ)
অধিকরণ
উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকেই অপাদান কারক বলে।