1. বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব অংশে কোন বিষয়টি আলোচনা করা হয়?
ক)
সন্ধি
খ)
সমাস
গ)
কারক
ঘ)
প্রত্যয়
উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয় - ধ্বনির পরিবর্তন ,সন্ধি ণ - ত্ব ও ষ - ত্ব বিধান। ধ্বনি , এর উচ্চারণরীতি, উচ্চারণের স্থান ইত্যাদি। সমসা, কারক ও প্রত্যয় আলোচিত হয় ব্যাকরণের শব্দতত্ত্ব বা রুপতত্ত্ব অংশে।
2. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কোনটি?
ক)
ছোটগল্প
খ)
নাটক
গ)
কাব্য
ঘ)
উপন্যাস
উত্তর:
কাব্য
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য। বিশ্ব সাহিত্যের (বিশেষ করে গ্রিক) প্রাচীনতম শাখা নাটক। আধুনিক সাহিত্যের প্রাচীনতম জনপ্রিয় শাখা উপন্যাস, ছোটগল্প হচ্ছে সর্বশেষ সংযোজন।
3. সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কি?
ক)
গ্রামবার্তা
খ)
বঙ্গদর্শন
গ)
মাসিক পত্রিকা
ঘ)
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা:
১২৭৯ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ (১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দ, বারো এপ্রিল) তারিখে মাসিক বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সে সময়ে অবিভক্ত বাংলায় কোনো উন্নত মানের সাময়িকপত্র ছিল না। ১২৭৯ বঙ্গাব্দের বৈশাখ থেকে ১২৮২ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাস অবধি এর সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
4. 'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
ক)
অন্তরীক্ষ
খ)
বিভু
গ)
প্রভাকর
ঘ)
সুধাকর
উত্তর:
অন্তরীক্ষ
ব্যাখ্যা:
'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ হলো - আসমান, অম্বর, গগন, ব্যোম, নভঃ নভোমণ্ডল ,শুণ্য , দ্যু, ছায়ালোক , অনন্ত , দ্যুলোক । বিভু, প্রভাকর ও সুধাকর হচ্ছে যথাক্রমে , ঈশ্বর, সূর্য ও চাঁদ শব্দের সমার্থক শব্দ।
5. 'জলাশয়' শব্দের সমার্থক শব্দ হচ্ছে -
ক)
সরোবর
খ)
জলধর
গ)
অম্বু
ঘ)
সলিল
উত্তর:
সরোবর
ব্যাখ্যা:
জলাশয়ের সমার্থক শব্দগুলো হলো: পুকুর, হ্রদ, সরোবর, দিঘি, বিল, জলকুণ্ড, জলাধার, পুষ্করিণী, জলাধার, এবং জলপাত্র।
6. সর্বজনের হিতকর - এককথায় কী হবে?
ক)
সর্বজনীন
খ)
সার্বজনীন
গ)
বিশ্বজনীন
ঘ)
সর্বহিতকর
উত্তর:
সর্বজনীন
ব্যাখ্যা:
সর্বজনীন শব্দের অর্থ হচ্ছে সকলের মঙ্গলজনক বা কল্যাণকর। আবার সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত ; বারোয়ারি। সার্বজনীন অর্থ - সকলের মধ্যে প্রবীণ; সর্বশ্রেষ্ঠ। বিশ্বজনীন অর্থ জগদ্ব্যাপী , বিশ্বের মঙ্গলজনক , সর্বজনহিতকর। সকল মানুষ সম্পর্কীয় সর্বহিতকর।
7. একাদশে বৃহস্পতি কী?
ক)
প্রবাদ
খ)
বাগধারা
গ)
সমস্তপদ
ঘ)
ব্যাসবাক্য
উত্তর:
বাগধারা
ব্যাখ্যা:
একাদশে বৃহস্পতি একটি বাগধারা। প্রদত্ত বাগধারাটির অর্থ - সৌভাগ্যের বিষয়। যেমন: এখন তার একাদশে বৃহস্পতি, ধুলোমুঠোও সোনামুঠো হচ্ছে।
8. 'অনুমোদিত' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
ক)
অননুমেয়
খ)
অনাবশ্যক
গ)
অননুমোদিত
ঘ)
মতানৈক্য
উত্তর:
অননুমোদিত
ব্যাখ্যা:
'অনুমোদিত' বিশেষণ শব্দটির অর্থ: সম্মতিপ্রাপ্ত, যার বিপরীত শব্দ - অননুমোদিত। 'অনুমেয় ' শব্দের বিপরীত অননুমেয়, 'আবশ্যক' শব্দের বিপরীত 'অনাবশ্যক' এবং 'ঐকমত্য' শব্দের বিপরীত শব্দ ' মতানৈক্য'।
9. নতুন শব্দ গঠন করে-
ক)
সন্ধি ও সমাস
খ)
সন্ধি ও কারক
গ)
সমাস ও পদ
ঘ)
প্রত্যয় ও পুরুষ
উত্তর:
সন্ধি ও সমাস
ব্যাখ্যা:
সন্ধি ও সমাস নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন: সন্ধি : হিম ও আলয় দুইটা আলাদা শব্দ। যদি সন্ধির মাধ্যমে দুইটিকে একত্রিত করা যায়, তাহলে নতুন শব্দ হয় এবং উচ্চারণে সুবিধা হয়। যেমন: হিম + আলয় = হিমালয় সমাস: সমাস এর মাধ্যমে একাধিক শব্দ একসাথে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়। যেমন: দোয়াত ও কলম = দোয়াত - কলম।
10. নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
ক)
কৌতুহল
খ)
কৌতূহল
গ)
শিরচ্ছেদ
ঘ)
শ্রদ্ধাঞ্জলী
উত্তর:
কৌতূহল
ব্যাখ্যা:
কৌতূহল যেখানে 'ত'-এর সঙ্গে 'ঊ'-কার (ū) এবং 'হ'-এর সঙ্গে 'ল' (l) যুক্ত হয়; 'কৌতুহল' বা 'কৌতুহল' ভুল বানান, কারণ এটি সংস্কৃত থেকে আসা শব্দ এবং এর প্রমিত রূপ 'কৌতূহল'।
11. বাগযন্ত্রের অংশ নয়-
ক)
দাঁত
খ)
তালু
গ)
কান
ঘ)
নাক
উত্তর:
কান
ব্যাখ্যা:
বাগযন্ত্রের অংশ হলো ফুসফুস, স্বরযন্ত্র, গলনালী, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক এবং ঠোঁট—এগুলো ধ্বনি উচ্চারণে ব্যবহৃত প্রত্যঙ্গ, যা একত্রে বাগযন্ত্র নামে পরিচিত এবং ভাষা তৈরিতে সাহায্য করে।
12. ক্রিয়া, সবর্নাম ও অনুসর্গের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়-
ক)
চলিত ভাষারীতিতে
খ)
সাধু ভাষারীতিতে
গ)
সমাজ উপভাষায়
ঘ)
আঞ্চলিক উপভাষায়
উত্তর:
সাধু ভাষারীতিতে
ব্যাখ্যা:
সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপন্ন ভাষাকে সাধু ভাষা হিসেবে অভিহিত করা হয়। সাধুরীতি ব্যাকরণের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে এবং পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত। এ রীতিতে সর্বনাম , ক্রিয়া, ও অনুসর্গে র পূর্ণ রূপ ব্যবহার করা হয়। যেমন: আসিয়া (সাধু > এস (চলিত); তাহাকে (সাধু) তাকে (চলিত) ; অপেক্ষা (সাধু) > চেয়ে (চলিত)।
13. কোন শব্দটি 'সিক্ত'র বিপরীত?
ক)
অর্জন
খ)
বর্জন
গ)
শুষ্ক
ঘ)
তীব্র
উত্তর:
শুষ্ক
ব্যাখ্যা:
প্রত্যেকটি শব্দের নিজস্ব অর্থ আছে। একটি শব্দ যখন অন্য একটি শব্দের বিপরীত অবস্থানে থাকে বা বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বিপরীত শব্দ বলে। যেমন - অর্জন - বর্জন, সিক্ত - শুষ্ক , তীব্র - লঘু ইত্যাদি।
14. 'গিন্নি' কোন শব্দ?
ক)
তৎসম
খ)
অর্ধ-তৎসম
গ)
তদ্ভব
ঘ)
বিদেশি
উত্তর:
অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা:
গিন্নি' শব্দটি অর্ধ-তৎসম শ্রেণীর শব্দ, যা সংস্কৃত শব্দ 'গৃহিণী' থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে; এটি একটি বিশেষ্য পদ, যার অর্থ গৃহকর্ত্রী বা সংসারের প্রধান নারী। এটি 'গৃহিণী'-র একটি কথ্য রূপ এবং সংস্কৃতে যা ছিল তা বাংলায় এসে একটু বদলে গেছে, তাই এটি অর্ধ-তৎসম।
15. কাঁদ + না = কান্না - এটি কোন সন্ধি?
ক)
স্বরসন্ধি
খ)
ব্যঞ্জনসন্ধি
গ)
খাঁটি বাংলা সন্ধি
ঘ)
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর:
খাঁটি বাংলা সন্ধি
ব্যাখ্যা:
কান্না’ শব্দটি খাঁটি বাংলা সন্ধি (অথবা <!ব্যঞ্জন সন্ধি) এবং এর সন্ধিবিচ্ছেদ হলো কাঁদ্ + না = কান্না, যেখানে দুটি ধ্বনির মিলন ঘটেছে এবং এটি ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন বা লোপের মাধ্যমে হয়েছে।
16. গাছে উঠতে পটু যে- এক কথায় কী হবে?
ক)
গাছো
খ)
গাছি
গ)
গেছো
ঘ)
আরোহী
উত্তর:
গেছো
ব্যাখ্যা:
গাছে উঠতে পটু যে - গেছো। আরোহণ করে যে - আরোহী।
17. 'Justification for' এর সঠিক অনুবাদ কোনটি?
ক)
সমর্থন
খ)
বিচার
গ)
মন্তব্য
ঘ)
তর্ক
উত্তর:
সমর্থন
ব্যাখ্যা:
' Justification for' এর অর্থ: সমর্থন। অপরদিকে Judgement , Comment ও Lebate - দ্বারা যথাক্রমে : বিচার, মন্তব্য ও তর্ক বোঝায় ।
18. ণ ত্ব বিধান বাংলা বানানে কোন শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
ক)
সংস্কৃত
খ)
বিদেশি শব্দ
গ)
দেশি শব্দ
ঘ)
তদ্ভব শব্দ
উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা:
তৎসম শব্দের বানানে মূধন্য ণ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান। বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য - ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই। সে জন্য বাংলা (দেশি) , তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য - ণ বর্ণ লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য - ণ এবং দন্ত্য - ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
19. উদ্ধৃতি চিহ্ন কোথায় বসে?
ক)
বাক্যের শেষে
খ)
শ্লেষাত্মক বাক্যের মাঝে
গ)
সংলাপে
ঘ)
প্রশ্নবোধক বাক্যে
উত্তর:
সংলাপে
ব্যাখ্যা:
উদ্ধরণ চিহ্ন (" ") বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে এই চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। যথা - শিক্ষক বললেন, "গতকাল ইরানে ভয়ানক ভূমিকম্প হয়েছে।"
20. বাংলা সাহিত্যে ভোরের পাখি কে?
ক)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ)
স্বর্ণকুমারী দেবী
গ)
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ঘ)
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা:
আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা বিহারীলাল চক্রবর্তীকে বাংলা সাহিত্যে ‘ভোরের পাখি’ বলা হয়। গীতিকবিতার ক্ষেত্রে বিহারীলাল চক্রবর্তী রবীন্দ্রনাথের গুরু হিসেবে খ্যাত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ঈশ্বরচন্দ্র যথাক্রমে ‘বিশ্বকবি’ এবং বিদ্যাসাগর’ নামে খ্যাত। এছাড়াও রাজশেখর বসু ‘পরশুরাম’ ছদ্মনামে পরিচিত।
21. মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম কী?
ক)
বনফুল
খ)
গাজী মিঁয়া
গ)
ভ্রমর
ঘ)
জরাসন্ধ
উত্তর:
গাজী মিঁয়া
ব্যাখ্যা:
মীর মশাররফ হোসেনের ছদ্মনাম - গাজী মিয়াঁ । মীর মশাররফ হোসেন কর্তৃক রচিত রসরচনা গাজী মিয়াঁর বস্তানী (১৮৯৯) । পরবর্তীতে গাজী মিয়াঁ তার ছদ্মনামে রুপলাভ করে। বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ' বনফুল ' এবং চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম 'জরাসন্ধ'।
22. কালি ও কলম কী?
ক)
উপন্যাস
খ)
কাব্যগ্রন্থ
গ)
পত্রিকা
ঘ)
প্রবন্ধ
উত্তর:
পত্রিকা
ব্যাখ্যা:
কলকাতা থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে মাসিক কালিকলম সচিত্র সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন মুরলীধর বসু, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। পরবর্তীতে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি কলকাতা কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
23. প্রত্যয় কয় প্রকার?
ক)
এক
খ)
দুই
গ)
তিন
ঘ)
চার
উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা:
প্রত্যয় দুই প্রকার। যেমনঃ ১. কৃৎ প্রত্যয় ও ২. তদ্ধিত প্রত্যয়।
24. কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্য নয়?
ক)
ঝরা পালক
খ)
সাতটি তারার তিমির
গ)
অর্কেস্ট্রা
ঘ)
মহাপৃথিবী
উত্তর:
অর্কেস্ট্রা
ব্যাখ্যা:
'অর্কেস্ট্রা' সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ।
25. সুহৃদ কী ধরনের শব্দ?
ক)
মৌলিক
খ)
রূঢ়ী
গ)
যোগরূঢ়
ঘ)
যৌগিক
উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা:
সুহৃদ শব্দটিী ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। তাই এটি যৌগিক শব্দ।