1. নিম্নের কোন গোত্রের লোকদের পেশা ছিল যুদ্ধ?
ক)
ক) বৈশ্য
খ)
খ) ক্ষত্রিয়
গ)
গ) শূদ্র
ঘ)
ঘ) ব্রাহ্মণ
উত্তর:
খ) ক্ষত্রিয়
ব্যাখ্যা:
• কোনো সমাজে বর্ণপ্রথা একেবারে শুরুতে থাকে না। বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে আর্য সংস্কার ও সংস্কৃতির বিস্তার হিসেবেই বর্ণপ্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ:-
১। ব্রাহ্মণ- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম । তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
২। ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
৩। বৈশ্য- ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
৪। শূদ্র- সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।
• ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতাে। বিচিত্র সব বর্ণ, উপবর্ণ ও শংকর বর্ণের সামাজিক বিন্যাস এতে গুরুত্ব পায়। এভাবে বর্ণভেদ প্রথা ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারে প্রতিষ্ঠা পায়।
• নিম্নবর্ণের ডোমদের বাস ছিল গ্রামের বাইরে। উচ্চবর্ণের লোকেরা এঁদের ছুঁতেন না।
2. মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত ছিল –
ক)
ক) মিশরীয় সভ্যতা
খ)
খ) সুমেরীয় সভ্যতা
গ)
গ) চৈনিক সভ্যতা
ঘ)
ঘ) সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর:
খ) সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা:
• মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- যেমন- সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।
- সভ্যতাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও একই ভূখণ্ডে গড়ে উঠার কারণে এগুলোকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
3. চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং বাংলায় আসেন -
ক)
ক) ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে
খ)
খ) ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে
গ)
গ) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে
ঘ)
ঘ) ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর:
গ) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা:
হিউয়েন-সাং (চীন)
▪ ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন-সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য-এশিয়ার কুচ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
▪ হিউয়েন-সাং সপ্তম শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
▪ হিউয়েন সাং ৬৩৮ সালে বাংলায় আসেন।
▪ ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং পুন্ডবর্ধনের রাজধানী পুন্ডনগরে আগমন করেন।
▪ বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
▪ হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ। হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।
▪ তাঁর রচিত ‘জিউ জি (সি-উ চি)’ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ।
4. বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে কোন জনপদ গড়ে উঠেছিল?
ক)
ক) পুন্ড্র
খ)
খ) হরিকেল
গ)
গ) চন্দ্রদ্বীপ
ঘ)
ঘ) গৌড়
উত্তর:
গ) চন্দ্রদ্বীপ
ব্যাখ্যা:
• বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
• মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল। পঞ্চদশ শতকে কবি বিজয় গুপ্তের বাসভূমি ছিল ঝালকাঠি অঞ্চলে। তার এলাকা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন -
“পশ্চিমে ঘাঘর নদী পূর্বে ঘণ্টেশ্বর।
মধ্যে ফুল শ্রী গ্রাম পন্তিত-নগর।। -
স্থানগুণে যেই জন্মে সেই গুণময়।
হেন ফুল্লীশ্রী গ্রামে বসতি বিজয়।।”
5. ফা হিয়েনের আগমনকালে ভারতের রাজা ছিলেন -
ক)
ক) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
খ)
খ) হর্ষবর্ধন
গ)
গ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ঘ)
ঘ) গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ
উত্তর:
গ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা:
• ফা-হিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (৩৮০-৪১৩খ্রি.) এর সময় বাংলায় আসেন।
• ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফা-হিয়েন ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
• গোবি, খোটান, পামির মালভূমি এবং গান্ধারন দেশ অতিক্রম করে তিনি ৪০১ খ্রিস্টাব্দে ভারতে প্রবেশ করেন।
• তিনি টানা ১০ বছর ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছিলেন।
• ফা-হিয়েনের ভ্রমন বৃত্তান্ত ‘ফো-কুয়ো-কিং’ নামে পরিচিত।
• এটি ভারতের ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট ও প্রামাণ্য দলিল।
অন্যদিকে,
▪ বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
▪ মা হুয়ান চীনা পরিব্রাজক। গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের সময় বাংলায় আসেন।
▪ মেগাস্থিনিস (গ্রিস) রাজকীয় দূত হিসেবে ভারতীয় রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের (স্যান্ড্রাকোটাস) রাজদরবারে দায়িত্ব পালন করেন।
6. প্রাচীন বাংলায় কোন গোত্রের লোকেরা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে?
ক)
ক) ব্রাহ্মণ
খ)
খ) ক্ষত্রিয়
গ)
গ) বৈশ্য
ঘ)
ঘ) শূদ্র
উত্তর:
ক) ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা:
• কোনো সমাজে বর্ণপ্রথা একেবারে শুরুতে থাকে না। বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে আর্য সংস্কার ও সংস্কৃতির বিস্তার হিসেবেই বর্ণপ্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ:-
১। ব্রাহ্মণ- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম । তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
২। ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
৩। বৈশ্য- ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
৪। শূদ্র- সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।
• ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতাে। বিচিত্র সব বর্ণ, উপবর্ণ ও শংকর বর্ণের সামাজিক বিন্যাস এতে গুরুত্ব পায়। এভাবে বর্ণভেদ প্রথা ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারে প্রতিষ্ঠা পায়।
• নিম্নবর্ণের ডোমদের বাস ছিল গ্রামের বাইরে। উচ্চবর্ণের লোকেরা এঁদের ছুঁতেন না।
7. বর্তমান পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রাচীন বাংলায় কোন জনপদ গড়ে উঠেছিল?
ক)
ক) হরিকেল
খ)
খ) সমতট
গ)
গ) বরেন্দ্র
ঘ)
ঘ) চন্দ্রদ্বীপ
উত্তর:
ক) হরিকেল
ব্যাখ্যা:
হরিকেল
• বর্তমান সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে হরিকেল নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।
• সমস্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ধরে নেয়া যায় যে, পূর্বে শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রামের অংশ বিশেষ পর্যন্ত হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল।
অন্যদিকে,
• বগুড়া,দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।
• সমতট (কুমিল্লা, নোয়াখালী, ত্রিপুরা)।
• বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।
8. ভ্রমণ সংক্রান্ত বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাবুল রেহালা'র রচয়িতা -
ক)
ক) মা হুয়ান
খ)
খ) মেগাস্থিনিস
গ)
গ) ইবনে বতুতা
ঘ)
ঘ) হিউয়েন-সাং
উত্তর:
গ) ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা:
ইবনে বতুতা (মরক্কো)
• ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ২১ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
• তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
• ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।
• ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের আমলে।
• বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
• গ্রন্থ- ইবনে জুযাই, কিতাবুল রেহালা।
9. বাঙালি জাতি পরিচয়ের ঐতিহাসিক যুগ শুরু হয় কখন?
ক)
ক) মৌর্য যুগে
খ)
খ) পাল যুগে
গ)
গ) সেন যুগে
ঘ)
ঘ) গুপ্ত যুগে
উত্তর:
ঘ) গুপ্ত যুগে
ব্যাখ্যা:
• বাঙালি জাতি পরিচয়ের ঐতিহাসিক যুগ শুরু হয় গুপ্তযুগ (৩২০ খ্রি.- ৬৫০ খ্রি.) থেকে এবং এ যুগেই প্রথম ক্ষুদ্র রাজ্যপুঞ্জ গুলিকে নিয়ে গঠিত হয় বিশাল রাজ্য।
• যেমন গুপ্তদের সাম্রাজ্যিক ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় ক্ষুদ্র রাজ্যের বদলে বৃহৎ রাজ্য যেমন পূর্ব ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের বঙ্গরাজ্য ও উত্তরাঞ্চলের গৌড় রাজ্য।
• বৃহৎবঙ্গের প্রথম এবং ঐতিহাসিকভাবে সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী শাসক শশাঙ্ক (খ্রিস্টপূর্ব আনু ৬০০ খ্রি.-৬২৫ খ্রি.) তাঁর দক্ষ শাসনের মাধ্যমে বাংলা ও বাঙালিকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন।
• তখন থেকেই বাঙালি জাতিসত্ত্বার যাত্রা শুরু এবং পাল ও সেন আমলে এসে সে সত্ত্বা আরো বিকশিত হয়ে বাঙালি জাতির শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করে।
10. পুন্ড্র জনপদের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল কোনটি?
ক)
ক) চট্রগ্রাম
খ)
খ) ময়মনসিংহ
গ)
গ) সিলেট
ঘ)
ঘ) দিনাজপুর
উত্তর:
ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা:
পুন্ড্র জনপদ
• প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র। পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
• পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
• সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ,রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
• পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল। রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
• ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুন্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুন্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
• পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
অন্যদিকে,
• বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল - ঢাকা, ফরিদপুর , ময়মনসিংহ, বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।
• বরেন্দ্র - বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী ও পাবনা।
• হরিকেল - সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।
11. প্রথম লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে -
ক)
ক) চৈনিকরা
খ)
খ) সুমেরীয়রা
গ)
গ) মিশরীয়রা
ঘ)
ঘ) ব্যাবিলনীয়রা
উত্তর:
খ) সুমেরীয়রা
ব্যাখ্যা:
সুমেরীয় সভ্যতা:
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি।
যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাশেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।
- প্রথম লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে - সুমেরীয়রা।
- মেসোপটেমিয়ায় গড়ে ওঠা সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমান ইরাকের দক্ষিণ অংশ তৎকালীন সময়ে মেসোপটেমিয়া নামে পরিচিত ছিল।
- মেসোপটেমিয়ার বাসিন্দা ছিল সুমেরীয়রা।
- এটাই প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতা।
12. 'কিউনিফর্ম লিপি' কোন প্রাচীন সভ্যতার অবদান?
ক)
ক) মিশরীয় সভ্যতা
খ)
খ) সুমেরীয় সভ্যতা
গ)
গ) ক্যালডীয় সভ্যতা
ঘ)
ঘ) ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
উত্তর:
খ) সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা:
• সুমেরীয়রাই মূলত মেসোপটেমীয় সভ্যতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- সুমেরীয়দের আদি অবস্থান ছিল মেসোপটেমিয়ার উত্তর- পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তোলে।
- তাদের নাম অনুসারে অঞ্চলটির নাম সুমেরীয় অঞ্চল।
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত সভ্যতাসমূহের মধ্যে সুমেরীয় সভ্যতা অন্যতম।
- এটি মূলত একটি কৃষিভিত্তিক সভ্যতা।
- সভ্যতায় তাদের বড় অবদান হলো কিউনিফর্ম লিপি ও গণনা পদ্ধতির আবিষ্কার।
13. ব্যাবিলনীয় সভ্যতার যুগে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন ঘটে -
ক)
ক) গণিতশাস্ত্রে
খ)
খ) জ্যোতির্বিদ্যায়
গ)
গ) পঞ্জিকায়
ঘ)
ঘ) আইনশাস্ত্রে
উত্তর:
ঘ) আইনশাস্ত্রে
ব্যাখ্যা:
• ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় আইনের শাসন লক্ষ্য করা যায়।
- তাদের আইন ছিল প্রতিশোধমূলক।
- যেমন: দাঁতের বদলে দাঁত, চোখের বদলে চোখ, হাতের বদলে হাত, জীবনের বদলে জীবন ইত্যাদি।
- ২৮২টি আইনে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবার, সম্পত্তি, কৃষি, দাসসহ সবধরনের আইনের উল্লেখ ছিল।
- আইন সংকলক হিসেবে হাম্বুরাবি অমর হয়ে আছেন।
- তিনি ছিলেন সুমেরীয় আইনের প্রভাবে প্রভাবিত।
- তাই ব্যাবিলনীয় আইনে সুমেরীয় আইনের প্রভাব দেখা যায়।
- হিব্রু, ফিনিশিয়, রোমান সভ্যতায় এই আইনের প্রভাব রয়েছে ।
- পৃথিবীতে তারাই প্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করে।
14. সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে -
ক)
ক) এ্যাসিরীয়রা
খ)
খ) ব্যাবিলনীয়রা
গ)
গ) ক্যালডীয়রা
ঘ)
ঘ) মিশরীয়রা
উত্তর:
ক) এ্যাসিরীয়রা
ব্যাখ্যা:
• সামরিক ক্ষেত্রে এ্যাসিরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভূমিকা ছিল।
- তারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে।
- সে যুগের বিচারে তাদের সৈন্যবাহিনী ছিল বেশ আধুনিক।
- বহু নতুন নতুন অস্ত্র, যুদ্ধ কৌশল আবিষ্কারের কারণে প্রতিবেশীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে।
- সামরিক প্রয়োজনে শক্তিশালি গুপ্তচর ও যাতায়াত ব্যবস্থা।
- তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০° তে ভাগ করে। পৃথিবীকে
- সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিল।
- তারা পাঁচশ'রও বেশি উদ্ভিদ ও খনিজ ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করে সেগুলোর গুণাগুণ ও ব্যবহার পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করে।
15. সভ্যতার ইতিহাসে একটি পরিকল্পিত নগরীর ধারণা পাওয়া যায় -
ক)
ক) হিব্রু সভ্যতায়
খ)
খ) ফিনিশিয় সভ্যতায়
গ)
গ) সিন্ধু সভ্যতায়
ঘ)
ঘ) রোমান সভ্যতায়
উত্তর:
গ) সিন্ধু সভ্যতায়
ব্যাখ্যা:
• সভ্যতার ইতিহাসে সিন্ধু সভ্যতা একটি পরিকল্পিত নগরীর ধারণা দিয়েছে।
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নগরী দুটো প্রায় একই পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে উঠেছিল।
- এখানে নগরবাসীদের সকল সুবিধা দেয়া হয়েছিল।
- যেমন: রাস্তাঘাট, সরবরাহকৃত পানি, ময়লা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, স্নানাগারের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন, শহরে বাতি দ্বারা আলোকিত করা প্রভৃতি। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সৈন্য মোতায়েন করা প্রভৃতি।
- সিন্ধু সভ্যতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সিন্ধু সভ্যতা আধুনিক সভ্যতার মতো উন্নত ছিল।
16. প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি 'ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান' এর নির্মাতা কে ছিলেন?
ক)
ক) ফারাও খুফুর
খ)
খ) আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট
গ)
গ) সম্রাট নেবুচাদ নেজার
ঘ)
ঘ) রাণী ক্লিওপেট্রা
উত্তর:
গ) সম্রাট নেবুচাদ নেজার
ব্যাখ্যা:
• ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ:
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি হাম্মুরাবির সংস্কৃতি অনেকটাই গ্রহণ করেছিল ক্যালডীয়রা।
- সেই সাথে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার সংযোগ তাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
- ক্যালডীয় সম্রাট নেবুচাঁদ নেজারের সময় ব্যাবিলন শহর খুব জাঁকজমকপূর্ণ হয়।
- পুরো শহর ঘিরে ৫৬ মাইল লম্বা দেয়াল তৈরি হয়।
- চার ঘোড়ার রথ চলতে পারে এমন চওড়া ছিল রাস্তা।
- শহরের মাঝখানে ছিল প্রকাণ্ড তোরণ।
- দেবী ইস্টারের স্মরণে তৈরি এই তোরণের নাম রাখা হয় ‘ইস্টার তোরণ' বা ‘ইস্টার গেট’।
- তোরণের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া লম্বা রাস্তাটির নাম ছিল ‘মিছিল সড়ক'।
- সম্রাট নেবুচাদ নেজারের রানি বাগান করতে খুব পছন্দ করতেন।
- তাঁরই উৎসাহে সম্রাট নগর দেয়ালের উপরে তৈরি করলেন আশ্চার্য সুন্দর এক বাগান।
- ইতিহাসে যা ‘শূন্য উদ্যান' নামে পরিচিত।
- ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
17. প্রাচীনকালে হিব্রু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বর্তমান কোন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে?
ক)
ক) ইরান
খ)
খ) মিশর
গ)
গ) প্যালেস্টাইন
ঘ)
ঘ) তুরস্ক
উত্তর:
গ) প্যালেস্টাইন
ব্যাখ্যা:
• হিব্রুদের পরিচয়:
- বর্তমান প্যালেস্টাইন অঞ্চল ঘিরে প্রাচীনকালে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সেটি হিব্রু সভ্যতা নামে পরিচিত।
- হিব্রু সভ্যতার মূল অবদান হলো ধর্মীয় ক্ষেত্রে।
- খ্রিস্ট ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম সমগ্র বিশ্বজুড়ে এক ঈশ্বরের আরাধনার যে কথা প্রচার করেছে তার প্রথম সূচনা ঘটিয়েছে হিব্রুরা।
- প্যালেস্টাইনের জেরুজালেম নগরীকে কেন্দ্র করে হিব্রু সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- প্যালেস্টাইনের পূর্বদিকে রয়েছে জর্ডান, পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর, উত্তরে লেবানন ও দক্ষিণে সৌদি আরব।
- হিব্রুদের উৎপত্তির ইতিহাস খুব স্পষ্ট নয়। তারা নৃতাত্ত্বিকভাবে একটি নতুন জাতি নয়।
- হিব্রুদের নামের উৎপত্তি সম্পর্কেও সন্দেহ রয়েছে।
- জানা যায় যে হিব্রুদের শত্রু তাদের ‘খাবিরু’ অথবা 'হাবিরু' বলে অভিহিত করত।
- সম্ভবত এই নামটি অপভ্রংশ হয়ে হিব্রু হয়েছে।
- মনে করা হয় যে হিব্রুগণ ছিল অভিবাসী বা যাযাবর জনসাধারণ, যাদের আদি বাসভূমি ছিল আরবের মরুভূমি এবং বর্তমান ইসরাইলের অধিবাসীগণ হলো হিব্রুদের বংশধর।
18. ‘কলোসিয়াম' নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা তৈরি হয়েছিল প্রাচীন -
ক)
ক) গ্রিসে
খ)
খ) রোমে
গ)
গ) এথেন্সে
ঘ)
ঘ) পারস্যে
উত্তর:
খ) রোমে
ব্যাখ্যা:
• স্থাপত্যের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল রোমের।
- এখানে ইট আর কংক্রিট দিয়ে দালানকোঠা তৈরি করা হতো।
- দালানের চার কোণায় ব্যবহার করা হতো পাথর।
- সম্রাট হাড্রিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যনথিয়ন রোমের একটি বড় স্থাপত্য নিদর্শন।
- রোমে ‘কলোসিয়াম' নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা তৈরি হয়েছিল।
- এখানে একসাথে ৫,৬০০ জন দর্শক বসতে পারত।
- ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসেবে রোমে পাওয়া গেছে অনেক মূর্তি।
- এগুলো ছিল সম্রাট, কর্মকর্তা ও দেবতাদের মূর্তি।
19. মহাকাব্য ‘ইলিয়ড’ আর ‘ওডিসি’ এর রচিয়তা কে ছিলেন?
ক)
ক) হিরোডোটাস
খ)
খ) হোমার
গ)
গ) অ্যারিস্টটল
ঘ)
ঘ) সক্রেটিস
উত্তর:
খ) হোমার
ব্যাখ্যা:
• ইউরোপে মূলত একটি পার্বত্যময় দ্বীপ রাষ্ট্র।
- এর তিনদিক এড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত।
- এ সভ্যতার মূল কেন্দ্র ছিল গ্রিক উপদ্বীপ এবং প্রধান শহর ছিল এথেন্স।
- ইউরোপ মহাদেশের এ অঞ্চলটিতেই প্রথম সভ্যতার উন্মেষ ঘটে ।
- আনুমানিক ১৩০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ ও ৫ম অব্দে (শতকে) গ্রিক সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।
- তারা ৩৩৮ খৃস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস।
- পরবর্তীকালে রোমানরা এ দেশের নামকরণ করেন গ্রিস।
- তাই গ্রিক সভ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে ইউরোপীয় সভ্যতা বোঝা যায় না।
- গ্রিসের মহাকবি হোমার হাজার হাজার বছরের পুরানো কাহিনী নিয়ে রচনা করেছেন মহাকাব্য ‘ইলিয়ড’ আর ‘ওডিসি’।
20. কোন দুটি নদীর তীরে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে?
ক)
ক) টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদী
খ)
খ) গঙ্গা-যমুনা নদী তীরে
গ)
গ) মিসিসিপী-মিসোরীয়
ঘ)
ঘ) হোয়াং হো-ইয়াং সিকিয়াং
উত্তর:
ক) টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নদী
ব্যাখ্যা:
• গ্রিক শব্দ মেসোপটেমিয়ার অর্থ হচ্ছে দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ।
- খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ অব্দে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে মিশরীয় সভ্যতার সমকালীন একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই সভ্যতাটি ইতিহাসে মেসোপটেমীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।