1. পূর্বপদ প্রধান সমাস কোনটি?
ক)
বহুব্রীহি
খ)
দ্বন্দ্ব
গ)
অব্যয়ীভাব
ঘ)
তৎপুরুষ
উত্তর:
অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা:
অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের (যা সাধারণত অব্যয়) অর্থ প্রাধান্য পায় । দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদের অর্থ প্রধান। তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান। বহুব্রীহি সমাসে কোনো পদের অর্থ প্রধান না হয়ে তৃতীয় কোনো অর্থ বোঝায়।
2. কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে কী বলে?
ক)
নিত্য সমাস
খ)
উপমিত কর্মধারয়
গ)
উপমান কর্মধারয়
ঘ)
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা:
কৃদন্ত পদের (যা ক্রিয়ামূল থেকে গঠিত) সাথে উপপদের (যে পদ কৃদন্ত পদের পূর্বে বসে) যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে । যেমন: 'জলচর' (জলে চরে যা)।
3. "তাসের ঘর" শব্দের অর্থ কি?
ক)
সর্বনাশ
খ)
ভণ্ড
গ)
তামাশা
ঘ)
ক্ষণস্থায়ী
উত্তর:
ক্ষণস্থায়ী
ব্যাখ্যা:
তাসের ঘর" একটি বাগধারা। এর অর্থ হলো ক্ষণস্থায়ী বা সহজে ভেঙে যায় এমন কিছু। যেমন: ঠুনকো বন্ধুত্ব স্বার্থের সামান্য আঘাতেই তাসের ঘরের মত ভেঙে যায়।
4. ঢাক ঢাক গুড় গুড় বাগধারাটির অর্থ কি?
ক)
ঢাক জোরে বাজানো
খ)
সন্দেহজনক আচরণ
গ)
ষড়যন্ত্র
ঘ)
লুকোচুরি
উত্তর:
লুকোচুরি
ব্যাখ্যা:
ঢাক ঢাক গুড গুড বাগধারাটির অর্থ কপটতা বা গোপন করা প্রয়াস। তাই সঠিক উত্তর লুকোচুরি।
5. 'নেই আঁকড়া' বাগধারাটির অর্থ কী?
ক)
একগুঁয়ে
খ)
নিরেট মূর্খ
গ)
একই স্বভাবের
ঘ)
সহায় সম্বলহীন
উত্তর:
একগুঁয়ে
ব্যাখ্যা:
'নেই আঁকড়া' বাগধারাটির অর্থ হলো 'একগুঁয়ে', 'নাছোড়বান্দা' বা 'যাকে কোনোভাবেই টলানো যায় না'।
6. নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক)
রুগনো
খ)
রুগ্ন
গ)
রুগণ
ঘ)
রুগন
উত্তর:
রুগ্ন
ব্যাখ্যা:
শুদ্ধ বানানটি হলো 'রুগ্ন', যার অর্থ অসুস্থ বা দুর্বল। (উৎস নথিতে উত্তর ৪ এবং ব্যাখ্যায় 'রুণ' লেখা থাকলেও, প্রমিত বানান অনুযায়ী 'রুগ্ন' (অপশন ২) সঠিক।)
7. নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
ক)
কৌতুহল
খ)
কাঙ্ক্ষিত
গ)
কৌতূহল
ঘ)
শ্রদ্ধাঞ্জলি
উত্তর:
কৌতুহল
ব্যাখ্যা:
অশুদ্ধ বানানটি হলো 'কৌতুহল'। শুদ্ধ বানান হলো 'কৌতূহল' । 'কাঙ্ক্ষিত' ও 'শ্রদ্ধাঞ্জলি' বানান দুটি শুদ্ধ।
8. শুদ্ধ বানান কোনটি?
ক)
নিরপরাধী
খ)
প্রাণিকুল
গ)
দারিদ্র্যতা
ঘ)
স্বার্থকতা
উত্তর:
প্রাণিকুল
ব্যাখ্যা:
প্রাণিকুল' বানানটি শুদ্ধ । 'কুল' (সমূহ) যুক্ত হলে 'প্রাণী'-এর ঈ-কার, ই-কার হয়। অন্যগুলোর শুদ্ধ রূপ: 'নিরপরাধ' (নিরপরাধী নয়), 'দারিদ্র্য' বা 'দীনতা' (দারিদ্র্যতা নয়), এবং 'সার্থকতা' (স্বার্থকতা নয়) ।
9. কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক)
মুহুর্ত
খ)
মুহুর্তু
গ)
মুহূর্ত
ঘ)
মুহুত
উত্তর:
মুহূর্ত
ব্যাখ্যা:
শুদ্ধ বানানটি হলো 'মুহূর্ত' (ম-উ-কার, হ-ঊ-কার, ত-রেফ)।
10. কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
ক)
হিমালয়
খ)
বনস্পতি
গ)
সংসার
ঘ)
অহরহ
উত্তর:
হিমালয়
ব্যাখ্যা:
স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে । 'হিমালয়' = হিম + আলয় (অ + আ = আ), এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ । 'সংসার' (সম্+সার) ব্যঞ্জনসন্ধি। 'বনস্পতি' (বনঃ+পতি) ও 'অহরহ' (অহঃ+অহ) নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি।
11. 'সতীশ' শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
ক)
সতী + ইশ
খ)
সতি + ইশ
গ)
সতী + ঈশ
ঘ)
সতি + ঈশ
উত্তর:
সতী + ঈশ
ব্যাখ্যা:
'সতীশ' একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো 'সতী + ঈশ'। নিয়ম: ঈ + ঈ = ঈ।
12. "কাঁদ + না" - এটি কোন সন্ধি?
ক)
বিসর্গ সন্ধি
খ)
ব্যঞ্জন সন্ধি
গ)
স্বরসন্ধি
ঘ)
খাঁটি বাংলা সন্ধি
উত্তর:
ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা:
কাঁদ + না = কান্না। এটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ । এখানে ব্যঞ্জনধ্বনি 'দ'-এর সাথে ব্যঞ্জনধ্বনি 'ন'-এর মিলনে পরিবর্তন (সমীভবন) ঘটেছে (দ্+ন = ন্ন)। এটি খাঁটি বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি।
13. কারক নির্ণয় করুন - লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।
ক)
কর্মকারক
খ)
সম্প্রদান
গ)
অপাদান
ঘ)
অধিকরণ
উত্তর:
অপাদান
ব্যাখ্যা:
লোভে পাপ পাপে মৃত্যু'—এই বাক্যে 'লোভে' শব্দটি অপাদান কারক। কারণ 'লোভ' থেকে পাপের উৎপত্তি হচ্ছে । যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত বা জাত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে ।
14. 'অন্ধজনে দেহ আলো।'- বাক্যে 'অন্ধজনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক)
কর্মে ৭মী
খ)
কর্মে ২য়া
গ)
সম্প্রদানে ৭মী
ঘ)
সম্প্রদানে ৪র্থী
উত্তর:
সম্প্রদানে ৭মী
ব্যাখ্যা:
যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা বা সাহায্য করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক বলে । 'অন্ধজনে দেহ আলো' বাক্যে 'অন্ধজনে' (অন্ধজন + এ) হলো সম্প্রদান কারকে 'এ' (সপ্তমী) বিভক্তি ।
15. “আমি কি ডরাই সখী ভিখারী রাঘবে?”-'রাঘবে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক)
কর্তায় ৭মী
খ)
করণে ৭মী
গ)
কর্মে ৭মী
ঘ)
অপাদানে ৭মী
উত্তর:
অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা:
যাকে ভয় পাওয়া যায়, তা অপাদান কারক হয়। 'ডরাই' (ভয় পাই) ক্রিয়াটিকে 'কাকে' বা 'কী হতে' ভয় পায় প্রশ্ন করলে উত্তর আসে 'রাঘবে' (রাঘবকে) । যেহেতু এখানে ভয়ের উৎস বোঝানো হচ্ছে, তাই 'রাঘবে' অপাদান কারকে 'এ' বিভক্তি (৭মী) ।
16. কোন শব্দ যুগল সমার্থক নয়?
ক)
অটবি, বিটপী
খ)
হেম, সুবর্ণ
গ)
তটিনী, ঝরনা
ঘ)
ধরা, মেদিনী
উত্তর:
অটবি, বিটপী
ব্যাখ্যা:
অটবি' শব্দের অর্থ অরণ্য বা বন, আর 'বিটপী' শব্দের অর্থ বৃক্ষ বা গাছ । তাই এই যুগল সমার্থক নয়। (উল্লেখ্য, 'তটিনী' অর্থ নদী এবং 'ঝরনা' অর্থ জলধারা, তাই অপশন ৩-ও সমার্থক নয়। 'হেম' ও 'সুবর্ণ' উভয়ের অর্থ সোনা । 'ধরা' ও 'মেদিনী' উভয়ের অর্থ পৃথিবী )।
আরও পড়ুন:
17. গাছে উঠতে পটু যে - এক কথায় কী হবে?
ক)
গাছি
খ)
গেছো
গ)
আরোহী
ঘ)
মেছো
উত্তর:
গেছো
ব্যাখ্যা:
'গাছে উঠতে পটু যে'-এর এক কথায় প্রকাশ হলো 'গেছো' । 'আরোহণ করে যে' = আরোহী।
18. 'আগুন' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
ক)
সুবর্ণ
খ)
কর
গ)
অনল
ঘ)
মার্তণ্ড
উত্তর:
অনল
ব্যাখ্যা:
'আগুন'-এর সমার্থক শব্দগুলো হলো: অনল, পাবক, অগ্নি, বহ্নি, হুতাশন, বৈশ্বানর ইত্যাদি। 'সুবর্ণ' অর্থ সোনা, 'কর' অর্থ হাত বা খাজনা, 'মার্তন্ড' অর্থ সূর্য।
19. 'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
ক)
সবিতা
খ)
তপন
গ)
আদিত্য
ঘ)
বিধু
উত্তর:
বিধু
ব্যাখ্যা:
'চাঁদ'-এর সমার্থক শব্দগুলো হলো: বিধু, শশী, শশধর, চন্দ্র, নিশাপতি, সোম, ইন্দু ইত্যাদি। 'সবিতা', 'তপন', 'আদিত্য' সূর্য-এর সমার্থক শব্দ।
20. যে মেয়ের বিয়ে হয়নি- এর বাক্য সংকোচন
ক)
অনূঢ়া
খ)
মৃতবৎসা
গ)
অনুজা
ঘ)
কৃতদার
উত্তর:
অনূঢ়া
ব্যাখ্যা:
যে মেয়ের বিয়ে হয়নি তাকে এক কথায় 'অনূঢ়া' বলে।
21. হনন করার ইচ্ছা- এর বাক্য সংকোচন কোনটি?
ক)
জিঘাংসা
খ)
লিপ্সা
গ)
জিতেন্দ্রিয়
ঘ)
কৃতঘ্ন
উত্তর:
জিঘাংসা
ব্যাখ্যা:
হনন (হত্যা) করার ইচ্ছাকে এক কথায় 'জিঘাংসা' বলে।
22. মনীষা শব্দের বিপরীত শব্দ
ক)
নির্বোধ
খ)
জ্ঞানহীন
গ)
প্রজ্ঞা
ঘ)
স্থিরতা
উত্তর:
নির্বোধ
ব্যাখ্যা:
মনীষা শব্দের অর্থ প্রতিভা, প্রজ্ঞা, তীক্ষ্ণবুদ্ধি । তাই মনীষা শব্দের বিপরীত শব্দ - নির্বোধ/বোকা।
23. 'নন্দিত' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ কি?
ক)
বিষণ্ণ
খ)
বিষাদ
গ)
প্রচ্ছন্ন
ঘ)
এর কোনোটিই নয়
উত্তর:
বিষণ্ণ
ব্যাখ্যা:
'নন্দিত' শব্দের একটি অর্থ 'আনন্দিত' বা 'খুশি'। সেই অর্থে এর বিপরীতার্থক শব্দ হলো 'বিষন্ন' বা 'দুঃখিত'। 'নন্দিত' এর আরেকটি অর্থ 'প্রশংসিত' বা 'acclaimed', যার বিপরীত 'নিন্দিত' যা অপশনে নেই।
24. চপল' এর বিপরীতার্থক শব্দ ----
ক)
স্তব্ধ
খ)
ঠান্ডা
গ)
গম্ভীর
ঘ)
রাশভারী
উত্তর:
গম্ভীর
ব্যাখ্যা:
'চপল' (চঞ্চল, অস্থির) এর সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো 'গম্ভীর' (ধীর, শান্ত, অচঞ্চল).
25. 'নির্মল' শব্দের [বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?]
ক)
পঙ্কিল
খ)
অপরিষ্কার
গ)
অনির্মল
ঘ)
নোংরা
উত্তর:
পঙ্কিল
ব্যাখ্যা:
'নির্মল' শব্দের অর্থ 'স্বচ্ছ', 'বিশুদ্ধ', 'মলিনতাহীন' । এর সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ হলো 'পঙ্কিল' , যার অর্থ 'কর্দমাক্ত', 'ঘোলাটে' বা 'অস্বচ্ছ' ।
26. গিন্নী, কেষ্ট শব্দ দুটি কোন ধরনের শব্দ?
ক)
অর্ধ-তৎসম
খ)
তৎসম
গ)
দেশি
ঘ)
বিদেশি
উত্তর:
অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা:
যেসব সংস্কৃত শব্দ কিছুটা বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে অর্ধ-তৎসম শব্দ বলে। 'গিন্নী' (সংস্কৃত: গৃহিণী) এবং 'কেষ্ট' (সংস্কৃত: কৃষ্ণ) অর্ধ-তৎসম শব্দের উদাহরণ।
27. . ‘জয়গুন’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
ক)
জননী
খ)
সূর্য দীঘল বাড়ি
গ)
সারেং বৌ
ঘ)
হাজার বছর ধরে
উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা:
‘জয়গুন’ আবু ইসহাক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ (১৯৫৫) এর প্রধান চরিত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর গ্রামীণ মুসলমান সমাজের জীবনচিত্র এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে।
28. মোড়ক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হবে ---
ক)
মোড় + অক
খ)
মো + ক
গ)
মোড় + ক
ঘ)
মো + অক
উত্তর:
মোড় + অক
ব্যাখ্যা:
এটি মূলত প্রকৃতি-প্রত্যয়ের প্রশ্ন। 'মোড়ক' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো $\sqrt{মোড়} + অক$ (কৃৎ প্রত্যয়) । অপশনগুলোর মধ্যে 'মোড় + অক' সবচেয়ে কাছাকাছি, যদিও $\sqrt{মোড়}$ (ধাতু) চিহ্নটি নেই।
29. 'শৈশব' এর প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
ক)
শৈ + শব
খ)
শিশু + সব
গ)
শিশু + ষ্ণা
ঘ)
শিশু + ষ্ণ
উত্তর:
শিশু + ষ্ণ
ব্যাখ্যা:
'শৈশব' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো শিশু + ষ্ণ (=অ)। 'ষ্ণ' (অ) প্রত্যয় যুক্ত হলে প্রাতিপদিকের আদ্যস্বরের বৃদ্ধি ঘটে (এখানে ই -> ঐ) এবং অন্ত্যস্বরের 'উ' -> 'ও' হয় যা পরের 'অ' এর সাথে সন্ধিতে 'অব' হয় । শিশু + ষ্ণ = শৈশব।
30. 'উষ্ণীষ' এর অর্থ-
ক)
কুসুম কুসুম উষ্ণ
খ)
শীতের আমেজ
গ)
পাগড়ি
ঘ)
অত্যন্ত উষ্ণ
উত্তর:
পাগড়ি
ব্যাখ্যা:
উষ্ণীষ সংস্কৃত শব্দ; যার অর্থ পাগড়ি, কেরীট।