1. বৃদ্ধ চামার রাজার পা ঢেকে দেওয়ার জন্য কী তৈরি করল?
ক)
মোজা
খ)
জুতা
গ)
কাঠের খড়ম
ঘ)
সোনার পাদুকা
উত্তর:
জুতা
ব্যাখ্যা:
বৃদ্ধ চামার রাজার পায়ের মাপে চামড়া কেটে তা সেলাই করে রাজার পায়ে পরিয়ে দিল, যা মূলত 'জুতা' নামে পরিচিত হলো।
2. বৃদ্ধ চামার রাজার পা ধুলোমুক্ত করতে কী উপায় বাতলে দিল?
ক)
সারা পৃথিবী চামড়া দিয়ে ঢেকে দেওয়ার
খ)
রাজার পা দুটিকে চামড়া দিয়ে ঢেকে দেওয়ার (জুতা পরানোর)
গ)
রাজাকে পালকিতে চড়ে ঘোরার
ঘ)
সোনার জুতা তৈরি করার
উত্তর:
রাজার পা দুটিকে চামড়া দিয়ে ঢেকে দেওয়ার (জুতা পরানোর)
ব্যাখ্যা:
বৃদ্ধ চামার রাজাকে বলেন, সারা পৃথিবী চামড়া দিয়ে ঢাকার কোনো প্রয়োজন নেই, শুধু রাজার নিজের পা দুটি চামড়া দিয়ে ঢেকে দিলেই ধুলার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
3. 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
ক)
সোনার তরী
খ)
ক্ষণিকা
গ)
কল্পনা
ঘ)
চিত্রা
উত্তর:
কল্পনা
ব্যাখ্যা:
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কল্পনা' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক ও কাহিনিমূলক কবিতা।
4. জুতা আবিষ্কারের মূল কারণ বা সমস্যাটি কী ছিল?
ক)
রাজার পায়ে কাঁটা ফোটা
খ)
রাজার পায়ে ধুলা লাগা
গ)
রাজ্যে জুতার অভাব
ঘ)
রাজার নতুন জুতা পরার শখ
উত্তর:
রাজার পায়ে ধুলা লাগা
ব্যাখ্যা:
রাজা হবুচন্দ্র যখনই রাজ্য ভ্রমণে বের হতেন, তখনই তাঁর পায়ে ধুলা লাগত। এই ধুলার হাত থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত করাই ছিল মূল সমস্যা।
5. 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার রাজার নাম কী?
ক)
গবুচন্দ্র
খ)
হবুচন্দ্র
গ)
মন্ত্রীচন্দ্র
ঘ)
কোনোটিই নয়
উত্তর:
হবুচন্দ্র
ব্যাখ্যা:
কবিতায় রাজ্যের রাজা হলেন হবুচন্দ্র এবং তাঁর মন্ত্রীর নাম গবুচন্দ্র।
6. রাজা হবুচন্দ্র তাঁর মন্ত্রীকে ডেকে কী কাজের আদেশ দিয়েছিলেন?
ক)
রাজ্য জয় করার
খ)
রাজকোষ বৃদ্ধি করার
গ)
পৃথিবী থেকে ধুলা দূর করার
ঘ)
নতুন প্রাসাদ তৈরি করার
উত্তর:
পৃথিবী থেকে ধুলা দূর করার
ব্যাখ্যা:
রাজা মন্ত্রীকে বলেছিলেন যে, তিনি চরণ ফেলার সাথে সাথে সারা পৃথিবী ধুলোয় ভরে যায়, তাই রাজ্য থেকে সব ধুলা দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে।
7. "বসিল ছলে ছোটবড়ো সব গুণী"— এখানে গুণী ব্যক্তিরা কেন বসেছিলেন?
ক)
রাজসভায় ভোজ খাওয়ার জন্য
খ)
রাজার পা থেকে ধুলা দূর করার উপায় খুঁজতে
গ)
নতুন জুতা তৈরি করতে
ঘ)
কবিতা আবৃত্তি করতে
উত্তর:
রাজার পা থেকে ধুলা দূর করার উপায় খুঁজতে
ব্যাখ্যা:
রাজার আদেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তি হতে পারে, এই ভয়ে রাজ্যের সব পণ্ডিত, বিজ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিরা মিলে একটা সমাধানের পথ খুঁজতে বসেছিলেন।
8. ধুলা দূর করার প্রথম চেষ্টায় কত লক্ষ ঝাড়ু কেনা হয়েছিল?
ক)
সাড়ে সতেরো লক্ষ
খ)
পনেরো লক্ষ
গ)
বিশ লক্ষ
ঘ)
তেরো লক্ষ
উত্তর:
সাড়ে সতেরো লক্ষ
ব্যাখ্যা:
কবিতার লাইন অনুযায়ী— "কিনিলা ঝাঁটা সাড়ে সতেরো লক্ষ।" অর্থাৎ ধুলা ঝেঁটিয়ে সাফ করার জন্য সাড়ে সতেরো লক্ষ ঝাড়ু কেনা হয়েছিল।
9. সাড়ে সতেরো লক্ষ ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার ফল কী হয়েছিল?
ক)
রাজ্য সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল
খ)
ধুলার চোটে রাজার মুখ-চোখ ও সারা রাজ্য ঢেকে গিয়েছিল
গ)
সব ঝাড়ু ভেঙে গিয়েছিল
ঘ)
মন্ত্রী পুরস্কৃত হয়েছিলেন
উত্তর:
ধুলার চোটে রাজার মুখ-চোখ ও সারা রাজ্য ঢেকে গিয়েছিল
ব্যাখ্যা:
এত ঝাড়ু দিয়ে একসাথে ঝাড়ু দেওয়ার ফলে ধুলো ওড়ার পরিমাণ আরও বেড়ে যায় এবং রাজার মুখ ও বক্ষ ধুলোয় ভরে যায়।
10. ধুলার হাত থেকে বাঁচতে দ্বিতীয়বার রাজসভায় কী পরামর্শ দেওয়া হলো?
ক)
সমস্ত রাস্তা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার
খ)
রাজ্যে কার্পেট বিছানোর
গ)
রাজাকে ঘরে বন্দি রাখার
ঘ)
চামড়া দিয়ে মাটি ঢেকে দেওয়ার
উত্তর:
সমস্ত রাস্তা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার
ব্যাখ্যা:
ধুলো যেন উড়তে না পারে, সেজন্য পুকুর ও নদীর জল তুলে সমস্ত রাজ্য ভিজিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
11. জল দিয়ে রাজ্য ধুয়ে ফেলার পর কী নতুন সমস্যার সৃষ্টি হলো?
ক)
রাজ্যের সব মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ল
খ)
জল শেষ হয়ে গেল
গ)
সারা রাজ্য কাদায় ভরে গেল এবং জলচর প্রাণীরা সংকটে পড়ল
ঘ)
জল শুকিয়ে আবার ধুলা হলো
উত্তর:
সারা রাজ্য কাদায় ভরে গেল এবং জলচর প্রাণীরা সংকটে পড়ল
ব্যাখ্যা:
নদী-নালার সমস্ত জল রাস্তায় ঢালার ফলে রাজ্য কাদায় ভেসে যায়। পুকুর-নদীতে জল না থাকায় মাছ ও অন্যান্য জলচর প্রাণী মারা যাওয়ার উপক্রম হয় এবং নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
12. "কহিল রাজা, 'এমনি সব গাধা!'"— রাজা কাদের গাধা বলেছেন?
ক)
সাধারণ প্রজাদের
খ)
চামারদের
গ)
তাঁর সভার পণ্ডিত ও মন্ত্রীদের
ঘ)
চাষিদের
উত্তর:
তাঁর সভার পণ্ডিত ও মন্ত্রীদের
ব্যাখ্যা:
মন্ত্রী ও পণ্ডিতেরা কোটি কোটি টাকা খরচ করেও ধুলার সমস্যার কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান করতে পারছিলেন না, বরং সমস্যা বাড়াচ্ছিলেন। তাই রাজা রেগে গিয়ে তাদের 'গাধা' বলেন।
13. "রাজারে ঘরে রাখো করিয়া বন্ধ"— এই পরামর্শটি কার ছিল?
ক)
একজন প্রবীণ মন্ত্রীর
খ)
রাজ্যের সব গুণী ও পণ্ডিতদের
গ)
রাজবৈদ্যের
ঘ)
রানীর
উত্তর:
রাজ্যের সব গুণী ও পণ্ডিতদের
ব্যাখ্যা:
যখন জল দিয়েও কোনো লাভ হলো না, তখন পণ্ডিতেরা মাথা খাটিয়ে বললেন, রাজাই যদি ঘরের বাইরে পা না রাখেন, তবে তাঁর পায়ে ধুলাও লাগবে না।
14. রাজাকে ঘরে বন্ধ রাখার পরামর্শ শুনে রাজা কী উত্তর দিয়েছিলেন?
ক)
তিনি খুশি হয়ে ঘরে চলে গেলেন
খ)
তিনি বললেন, এতে তাঁর রাজ্য চালানো বন্ধ হয়ে যাবে
গ)
তিনি পণ্ডিতদের বন্দি করার আদেশ দিলেন
ঘ)
তিনি সন্ন্যাস নেওয়ার কথা বললেন
উত্তর:
তিনি বললেন, এতে তাঁর রাজ্য চালানো বন্ধ হয়ে যাবে
ব্যাখ্যা:
রাজা হবুচন্দ্র বলেন, তিনি যদি ধুলার ভয়ে ঘরে বসে থাকেন, তবে রাজকার্য বিঘ্নিত হবে এবং পৃথিবী বা রাজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।
15. সারা পৃথিবী চামড়া দিয়ে মুড়ে দেওয়ার বুদ্ধিটি কার মাথায় এসেছিল?
ক)
চামারের
খ)
মন্ত্রী গবুচন্দ্রের
গ)
কোনো এক পণ্ডিতের
ঘ)
রাজার নিজের
উত্তর:
কোনো এক পণ্ডিতের
ব্যাখ্যা:
কবিতার একপর্যায়ে একজন পণ্ডিত বলেন, যদি গোটা পৃথিবীকে পশুর চামড়া দিয়ে ঢেকে দেওয়া যায়, তবে রাজার পায়ে আর ধুলা লাগবে না।
16. চামড়া দিয়ে পৃথিবী ঢাকার কথা শুনে রাজা কার খোঁজ করতে বললেন?
ক)
একজন বড় দর্জি
খ)
একজন যোগ্য চামার বা মুচি
গ)
একজন রাজমিস্ত্রি
ঘ)
একজন শিকারি
উত্তর:
একজন যোগ্য চামার বা মুচি
ব্যাখ্যা:
চামড়ার কাজ করার জন্য চামার প্রয়োজন। তাই রাজা উপযুক্ত এবং দক্ষ চামার খুঁজে আনার জন্য দূত পাঠাতে বলেন।
17. অবশেষে রাজার পা ধুলো থেকে মুক্ত করার জন্য কে এগিয়ে এল?
ক)
মন্ত্রী গবুচন্দ্র
খ)
রাজ্যের প্রধান বিজ্ঞানী
গ)
এক বৃদ্ধ চামারপ্রধান
ঘ)
এক বিদেশী জুতা প্রস্তুতকারক
উত্তর:
এক বৃদ্ধ চামারপ্রধান
ব্যাখ্যা:
রাজ্যের বড় বড় পণ্ডিতেরা যখন ব্যর্থ, তখন এক বৃদ্ধ কুটিরবাসী চামার (মুচি) রাজসভায় এসে অতি সাধারণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করে দেয়।
18. জুতা আবিষ্কারের পর মন্ত্রী গবুচন্দ্র কী বললেন?
ক)
তিনি চামারকে পুরস্কৃত করলেন
খ)
তিনি বললেন যে, এই বুদ্ধিটা তাঁর মাথাতেই আগে এসেছিল
গ)
তিনি চামারকে জেলে দিলেন
ঘ)
তিনি পদত্যাগ করলেন
উত্তর:
তিনি বললেন যে, এই বুদ্ধিটা তাঁর মাথাতেই আগে এসেছিল
ব্যাখ্যা:
কবিতার শেষে দেখা যায়, চামার জুতা তৈরি করার পর মন্ত্রী গবুচন্দ্র নিজের কৃতিত্ব দাবি করে বলেন, "আমারো ছিল মনে ও কথাটি কেমনে এসে পড়েছে ওর মাথায়।"
19. 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার মূল শিক্ষা বা অন্তর্নিহিত ভাব কী?
ক)
বড় বড় পণ্ডিতেরা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেন
খ)
জুতা পরা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
গ)
রাজার আদেশ অমান্য করা উচিত নয়
ঘ)
জটিল সমস্যার সমাধান অনেক সময় অতি সাধারণ মানুষের সহজ বুদ্ধিতেই সম্ভব
উত্তর:
জটিল সমস্যার সমাধান অনেক সময় অতি সাধারণ মানুষের সহজ বুদ্ধিতেই সম্ভব
ব্যাখ্যা:
কবিতার মূল ব্যঙ্গ এটাই যে, রাজ্যের বড় বড় জ্ঞানী-গুণী ও মন্ত্রীরা যে সহজ বুদ্ধিটা বুঝতে পারেননি, সমাজের এক অবহেলিত বৃদ্ধ চামার তা সহজেই করে দেখিয়েছে।
20. "কহিল গবু, 'রক্ষা পেল ধরণী'"— এখানে ধরণী কীভাবে রক্ষা পেল?
ক)
জুতা আবিষ্কারের মাধ্যমে রাজার পা এবং রাজ্য দুটোই ধুলো-কাদার হাত থেকে বাঁচল
খ)
যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে
গ)
বৃষ্টি হওয়ার মাধ্যমে
ঘ)
চামার রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার মাধ্যমে
উত্তর:
জুতা আবিষ্কারের মাধ্যমে রাজার পা এবং রাজ্য দুটোই ধুলো-কাদার হাত থেকে বাঁচল
ব্যাখ্যা:
জুতা আবিষ্কারের ফলে রাজাকে আর ঘরের কোণে বন্দি থাকতে হলো না, আবার সারা পৃথিবী চামড়া দিয়ে ঢাকার মতো অসম্ভব কাজ থেকেও রাজ্য রক্ষা পেল।