Exams Study Jobs Teachers Students

উপমহাদেশে ইংরেজ শাসন

General Knowledge 10 Questions By University Of Dhaka

উপমহাদেশে ইংরেজ শাসন নিয়ে যারা পড়াশোনা বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই পেজে 10টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের সাথে সঠিক উত্তর এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে, যা আপনার কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সাহায্য করবে। মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন।

1. হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন’ কত সালে পাশ হয়?

ক) ক) ১৮৫৫ সালে
খ) খ) ১৮৫৬ সালে
গ) গ) ১৮৫৭ সালে
ঘ) ঘ) ১৮৫৮ সালে
উত্তর: খ) ১৮৫৬ সালে
ব্যাখ্যা: - হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ প্রচলনের চেষ্টা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। - তাঁর চেষ্টায় ২৬ জুলাই ১৮৫৬ সালে বিধবা আইন পাস হয়। - বিধবা আইন চালু করেন লর্ড ডালহৌসি।

2. দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক-

ক) ক) লর্ড ক্লাইভ
খ) খ) লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
গ) গ) লর্ড কর্ন ওয়ালিস
ঘ) ঘ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
উত্তর: ক) লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা: - দেওয়ানি এবং নিযামত-এই দ্বিবিধ শাসন কার্যের দায়-দায়িত্বের ভাগাভাগিকে দ্বৈত শাসন বলে। - লর্ড ক্লাইভ বাংলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্বৈত শাসন নীতি প্রর্বতন করেন। - এই ব্যবস্থা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে; - আর নিযামত বা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব থাকে নবাবের উপর।

3. সতীদাহ প্রথা রহিতকরণ আইন পাস করেন কে?

ক) ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
খ) খ) রাজা রামমোহন রায়
গ) গ) লর্ড বেণ্টিক
ঘ) ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর: গ) লর্ড বেণ্টিক
ব্যাখ্যা: - ১৮২৯ সালের ডিসেম্বর ৪-এ বৃটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীতে সতিদাহ প্রথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়। - এসময় বেঙ্গলের গভর্ণর ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক। - অবশ্য এ আইনী কার্যক্রম গৃহীত হয় মূলতঃ রাজা রামমোহন রায়ের সামাজিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই। - এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলে মামলা করা হয় । - প্রিভি কাউন্সিল ১৮৩২ সালে বেঙ্গলের গভর্ণর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের ১৮২৯ এর আদেশ বহাল রাখেন। - খুব অল্পসময়ের মধ্যে ভারতের অন্যান্য কোম্পানী অঞ্চলেও সতীদাহ প্রথাকে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

4. ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ইংরেজি কত সালে ঘটে?

ক) ক) ১৯৭৬
খ) খ) ১৯০৪
গ) গ) ১৭৭০
ঘ) ঘ) ১৭৭৬
উত্তর: গ) ১৭৭০
ব্যাখ্যা: - ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। - এটি ১৭৭০ সালে ঘটে। - ১১৭৬ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বলে একে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বলা হয়। - সময় বাংলার গর্ভনর ছিলেন কার্টিয়ার।

5. সতীদাহ প্রথা কবে রহিত হয়?

ক) ক) ১৮২৯
খ) খ) ১৭২৯
গ) গ) ১৮৩৯
ঘ) ঘ) ১৮৪৯
উত্তর: ক) ১৮২৯
ব্যাখ্যা: - সংস্কৃত 'সতী' শব্দটি দ্বারা আক্ষরিক অর্থে সতীমাধবী রমণীকে বোঝায় যিনি তার স্বামী ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি চূড়ান্ত সততা প্রদর্শন করেন। - আর প্রচলিত সতীদাহ অর্থ হলো মৃত স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর সহমরণের ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা। - কবে এবং কিভাবে এ ধরণের আচার ধর্মীয় প্রথারূপে গড়ে উঠেছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। - অতীত বিশ্বের বহু সমাজে মানুষের এ আত্মাহুতি প্রথার অস্তিত্ব ছিল। - গুপ্ত সাম্রাজ্যের পূর্ব হতেই এ প্রথার প্রচলন সম্পর্কে ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়। - অতিমাত্রায় শোকের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পতির মৃত্যুতে স্ত্রী স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই অগ্নিতে আত্মাহুতি দিত। - কিন্তু, কালক্রমে পুরনো কাজটি ভয়ঙ্কর প্রথার রূপ নেয় যা ইংরেজ আমলেও চালু ছিল। - এ সময়ে হিন্দু বিধবাদের জোর করে সতী হওয়ার জন্য বাধ্য করা হত। - সতী করার পক্ষে পৌত্তলিকতাবাদীদের মত ছিল মূলত অল্পবয়সী বিধবাদের চারিত্রিক অধপতন যাতে না ঘটে, তার জন্যই সতীদাহ বাঞ্চনীয়। - তবে আসল কারণ ছিল বিত্তশালী পরিবারের সম্পতি গ্রাস করা। একারণে অনেক সময় পুত্ররাও মাকে সতী হতে বাধ্য করবে। - যদি কোন নারীর সন্তান এতই ছোট হয় যে নিজের দেখাশুনা করতে পারে না, যদি কোন নারী মাসিক চলার সময় থাকে, যদি তার গর্ভে বাচ্চা থাকে তবে তাকে সহমরণে নেওয়া হতো না । - সতীর দাহের পূর্বে নতুন পোশাক, অলঙ্কারে সজ্জিত করে কোন কোন সময় আকিম বা মাথার পেছনে আঘাত করিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় হাত পা বেঁধে পতির সাথে দাহ করা হত। এ সময় বিধবার কান্না, চিৎকার, বাঁচার ব্যাকুলতা বেরিয়ে না আসার জন্য ঢোল, শঙ্খসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র উচ্চশব্দে বাজানো হত। - তুর্কি, মুঘল শাসকরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও এ প্রথার বিলুপ্ত করতে ব্যর্থ হন। - অবশেষে, রাজা রামমোহন রায়ের অব্যাহত প্রচেষ্টায় লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক উপমহাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায় সতীদাহ প্রথা রহিত করেন ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর।

6. দ্বৈত শাসনের প্রবর্তক কে?

ক) ক) লর্ড রিপন
খ) খ) লর্ড ক্লাইভ
গ) গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
ঘ) ঘ) লর্ড লিটন
উত্তর: খ) লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা: - ১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িষ্যার দেওয়ানি (রাজস্ব আদায়ের অধিকার) লাভ করেন। - এর ফলে তিনি বাংলায় এক অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থা চালু করেন, যেখানে বিচার ও প্রশাসনিক দায়িত্ব (নিজামত) থাকে নবাবের হাতে, আর রাজস্ব আদায় ও দেশরক্ষার ক্ষমতা (দেওয়ানি) থাকে কোম্পানির হাতে। - ইতিহাসে এই ব্যবস্থাই ‘দ্বৈত শাসন’ নামে পরিচিত।

7. হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রবর্তক-

ক) ক) রামমোহন রায়
খ) খ) উইলিয়াম কেরী
গ) গ) অক্ষয়কুমার দত্ত
ঘ) ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর: ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা: - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা-বিবাহ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। - 'বিধবা-বিবাহ' প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিবিষয়ক প্রস্তাব' নামক পুস্তক প্রকাশ করেন। - ২৬ জুলাই, ১৮৫৬ সালে বিধবা-বিবাহ আইনে পরিণত হয়। - তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রবর্তক।

8. উপমহাদেশে সর্বপ্রথম রেল যোগাযোগ চালু করেন-

ক) ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
খ) খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ) গ) রাজা রামমোহন রায়
ঘ) ঘ) লর্ড ডালহৌসি
উত্তর: ঘ) লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা: - লর্ড ডালহৌসি (১৮৪৮-১৮৫৬) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল, যিনি আধুনিক ভারতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য পরিচিত। লর্ড ডালহৌসির সময়কালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়, যেমন: - তার শাসনামলে, ১৮৫৩ সালে কলকাতা থেকে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করা হয়। - এটি ছিল ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। - ১৮৫৩ সালে ভারতের প্রথম রেলপথ চালু (বোম্বে থেকে থানে পর্যন্ত)। - ১৮৫৪ সালে ভারতের প্রথম ডাকটিকিট চালু। - গণপূর্ত বিভাগ (Public Works Department) প্রতিষ্ঠা।

9. কে ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ প্রবর্তন করেন?

ক) ক) লর্ড ডালহৌসি
খ) খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
গ) গ) লর্ড ক্যানিং
ঘ) ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর: খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা: - ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস প্রচলিত জমিদার পদ্ধতির পরিবর্তে ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ প্রবর্তন করেন। - এর উদ্দেশ্য ছিলো খাজনা আদায় বৃদ্ধি এবং যথাসময়ে রাজস্ব সংগ্রহ।

10. ব্রিটিশ ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

ক) ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
খ) খ) লর্ড ওয়াটসন
গ) গ) লর্ড মিন্টো
ঘ) ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর: ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা: - ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল। তিনি ১৭৭২ সালে কলকাতায় রাজধানী স্থাপন করেন। - ১৭৬৫ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা ও বিহারের দেওয়ানি লাভ করে। - এই দেওয়ানি লাভের ফলে ব্রিটিশদের ভারতে শাসন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। - হেস্টিংস বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতে ব্রিটিশ শাসন পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন। - তিনি কলকাতায় একটি কেন্দ্রীয় সরকার স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।

আশা করি উপমহাদেশে ইংরেজ শাসন এর এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আপনার প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে। এ ধরনের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, মডেল টেস্ট এবং পড়াশোনার আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য ক্যাটাগরিগুলো ঘুরে দেখতে পারেন। আপনার কোনো মতামত বা সংশোধন থাকলে অবশ্যই প্রতিটি প্রশ্নের নিচে দেওয়া 'রিপোর্ট' অপশন থেকে আমাদের জানাতে পারেন।

ভুল সংশোধন রিপোর্ট