1. বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রবর্তন করেন কে?
ক)
প্রমথ চৌধুরী
খ)
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
গ)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঘ)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় যতি চিহ্নের প্রবর্তন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি তাঁর 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭) গ্রন্থে প্রথম এই চিহ্নগুলোর সার্থক ও ব্যাপক ব্যবহার দেখিয়েছিলেন, যার ফলে বাংলা গদ্যের একটি নতুন যুগের সূচনা হয় এবং ভাষাকে সুস্পষ্ট করতে এই চিহ্নগুলোর ব্যবহার একটি প্রমিত রূপ লাভ করে।
2. কোলন ড্যাস কোনটি?
ক)
:
খ)
:-
গ)
-
ঘ)
,
উত্তর:
:-
ব্যাখ্যা:
কোলন ড্যাশ (:-) হলো কোলন (:) এবং ড্যাশ (—) চিহ্নের সম্মিলিত রূপ, যা সাধারণত কোনো তালিকা, ব্যাখ্যা বা উদ্ধৃতির আগে ব্যবহৃত হয় এবং <...কোলন ড্যাশ...: : ...ড্যাশ...> এমন দেখায়, যেখানে কোলন (:) এবং ড্যাশ (—) এর মতো কাজ করে কিন্তু একটি সংমিশ্রণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এটি প্রায়শই কোলন বা ড্যাশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন বাক্যের মধ্যে বিশদ বিবরণ বা সংযোজন প্রয়োজন হয়। কোলন ও ড্যাশের ব্যবহার: কোলন (:): একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্য বা বিষয় উপস্থাপন করতে ব্যবহৃত হয়, যা আগের অংশের ব্যাখ্যা দেয়। উদাহরণ: সভায় সিদ্ধান্ত হলো: এক মাস পর নতুন সভাপতি নির্বাচন হবে। ড্যাশ (—): দুটি বাক্য বা বাক্যাংশের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে বা কোনো ব্যাখ্যাকে জোর দিতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: তিনি বললেন—আজ আমাদের ছুটি। কোলন ড্যাশ (:-) এর ব্যবহার: এই চিহ্নটি কোলন বা ড্যাশের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়, বিশেষ করে যখন কোনো তালিকা, উদাহরণ বা পরবর্তী বাক্যের মাধ্যমে কোনো কিছু ব্যাখ্যা করা হয়। এটি একটি তালিকা বা ব্যাখ্যামূলক অংশ শুরু করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে কোলন (:) এবং ড্যাশ (—) উভয়ের ভূমিকা পালন করে। সংক্ষেপে: কোলন ড্যাশ (:-) হলো কোলন (:) এবং ড্যাশ (—) এর সংমিশ্রণ, যা বাক্যে বাড়তি জোর বা স্পষ্টতা দিতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি কোলন বা ড্যাশের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
3. যতি বা ছেদ চিহ্ন কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
ক)
আরবি
খ)
ফারসি
গ)
সংস্কৃত
ঘ)
ইংরেজি
উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা:
বাংলায় যতি বা ছেদ চিহ্নের প্রচলন মূলত ইংরেজি ভাষার অনুকরণে হয়েছে, যা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭) গ্রন্থে প্রথম ব্যবহার করেন; এর আগে প্রাচীন বাংলায় কেবল দাঁড়ি (।) ও দুই দাঁড়ি (॥) ব্যবহৃত হতো। এই চিহ্নগুলোর উৎস হিসেবে গ্রিক 'Punctus' (বিন্দু) থেকে আসা 'Punctuation' শব্দটিরও প্রভাব রয়েছে, যা আধুনিক ইউরোপীয় ভাষাতেও প্রচলিত।
4. জিজ্ঞাসা চিহ্নের বিরতিকাল কতক্ষণ?
ক)
১ বলার দ্বিগুণ সময়
খ)
১ উচ্চারণে যে সময় লাগে
গ)
১ মিনিট
ঘ)
১ সেকেন্ড
উত্তর:
১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা:
জিজ্ঞাসা চিহ্নের (?) বিরতিকাল হলো এক সেকেন্ড (১ সেকেন্ড), যা একটি স্বাভাবিক উচ্চারণে যে সময় লাগে তার সমান, যেমনটা দাঁড়ি (।) চিহ্নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, আর এটি বাক্যে প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
5. কোনো পদের বর্ণ বিশেষের লোপ বুঝাতে কোন চিহ্ন বসে?
ক)
কমা
খ)
উদ্ধরণ
গ)
বন্ধনী
ঘ)
ইলেক
উত্তর:
ইলেক
ব্যাখ্যা:
কোনো পদের বর্ণ বিশেষের লোপ বোঝাতে ইলেক বা লোপ চিহ্ন (') ব্যবহৃত হয়, যা বিলুপ্ত বর্ণের পরিবর্তে বসে এবং সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ বোঝায়, যেমন: মাথার'পরে (মাথার ওপরে), ('পরে = ওপরে) বা 'সকাল' (সকাল) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
6. হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে কোন চিহ্ন বসে?
ক)
কমা
খ)
বিস্ময়সূচক
গ)
সেমিকোলন
ঘ)
ড্যাস
উত্তর:
বিস্ময়সূচক
ব্যাখ্যা:
হৃদয়াবেগ (যেমন আনন্দ, দুঃখ, বিস্ময়) প্রকাশ করতে সাধারণত বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) ব্যবহৃত হয়, যা বাক্যের শেষে বসে ভাবকে জোরালো করে; তবে এটি যতিচিহ্নের একটি অংশ, যা বিরামচিহ্ন হিসেবেও পরিচিত এবং এর ব্যবহারে বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট হয়।
7. ধাতু বুঝাতে কোন চিহ্ন বসে?
ক)
√
খ)
<
গ)
>
ঘ)
_>
উত্তর:
√
ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে ধাতু চিহ্ন বলতে ক্রিয়ামূল বা ক্রিয়াপদের মূল অংশ বোঝাতে ব্যবহৃত "√" (রুট চিহ্ন)-কে বোঝানো হয়, যা মূল শব্দের আগে বসে যেমন √কর (করা), √চল (চলা), √পড় (পড়া)। এটি ধাতু দ্যোতক চিহ্ন হিসেবে পরিচিত এবং ক্রিয়াপদের মূল ভাবটি প্রকাশ করে, যা থেকে বিভিন্ন বিভক্তি যোগে পূর্ণাঙ্গ ক্রিয়া গঠিত হয়।
8. একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
ক)
কোলন
খ)
কোলন ড্যাস
গ)
হাইফেন
ঘ)
ইলেক
উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন সভায় সাব্যস্ত হলো : এক মাস পরে নতুন সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলাে বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেনের ( - ) ব্যবহার হয়। যেমন: প্রীতি উপহার। যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস ( - ) চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যথা : তোমরা দরিদ্রের উপকার কর - এতে তোমাদের সম্মান যাবে না - বাড়বে।
9. কোন ছেদ চিহ্নে থামার প্রয়োজন আছে?
ক)
ইলেক
খ)
কমা
গ)
বিস্ময়
ঘ)
উদ্ধরণ
উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা:
বাংলায় হাইফেন (-) এবং ইলেক বা লোপ চিহ্ন ( ' )—এই দুটি ছেদ চিহ্নে কোনো বিরতি বা থামার প্রয়োজন হয় না, কারণ এগুলো শুধু শব্দাংশের সংযোগ বা শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
10. সম্বোধন পদে কোন চিহ্ন বসে?
ক)
কমা
খ)
ড্যাস
গ)
সেমিকোলন
ঘ)
হাইফেন
উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা:
সম্বোধন পদের পরে কমা (,) বসে, যা আধুনিক বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম; তবে আবেগ বা বিস্ময় বোঝাতে বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) বা সম্বোধন চিহ্নও বসতে পারে, যদিও কমার ব্যবহারই বেশি প্রচলিত। যেমন: "রশিদ, এদিকে এসো" বা "ওরে, সাবধান!"।